kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মুশফিককে নিয়ে দেশি গেম

বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমকে ব্র্যান্ডিং করে তৈরি করা হয়েছে গেম ‘হাউজ্যাট—মুশি দ্য ডিপেনডেবল’। গেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে দেশি দুই প্রতিষ্ঠান—কেপিসি এন্টারপ্রাইজ ও টার্টল সলিউশনস। প্রতিষ্ঠান দুটির আটজন প্রগ্রামার পাঁচ মাসে তৈরি করেছেন এটি। শিগগিরই গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে গেমটি। জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মুশফিককে নিয়ে দেশি গেম

পরিকল্পনার শুরুটা

‘হাউজ্যাট-মুশি দ্য ডিপেনডেবল’ গেমটির গবেষণা ও উন্নয়ন শুরু হয় দুই বছর আগে থেকে। তবে মূল ডেভেলপমেন্ট শুরু হয় এ বছরের মে থেকে। কেপিসি এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান কাজী সাজেদুর রহমানের আইটি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। তাঁর পড়াশোনাও কম্পিউটার বিজ্ঞানে।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও এই সেক্টরের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে তিনি লক্ষ করলেন বাংলাদেশের গেমিং সেক্টরে তেমন কোনো কাজ হয়নি। এখানে কাজ করার বেশ জায়গা আছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বে শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারার মতো তারকাদের নিয়ে বেশ কিছু লিজেন্ডারি অনলাইন গেম আছে। গেমগুলো বেশ জনপ্রিয়ও বটে। এসব কিছু মাথায় রেখেই দেশের কোনো তারকা ক্রিকেটারকে নিয়ে গেম বানাতে চাইলেন সাজেদুর রহমান। আর এ জন্য তিনি আলোচনা করেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে। প্রথমে মুশফিক বিষয়টি মজা হিসেবে নিলেও সাজেদুর রহমানের প্রবল ইচ্ছা দেখে সায় দেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন টার্টল সলিউশনসের চেয়ারম্যান খান রিফাত সালাম।

 

গেমের নাম হাউজ্যাট

গেমের নাম হাউজ্যাট কেন—জানতে চাইলে কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘হাউজ্যাট শব্দটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ করেন মুশফিকুর রহিম। পাশাপাশি আমরা ট্যাগলাইন দিয়েছি মুশি দ্য ডিপেনডেবল। গেমটি বানানোর জন্য আমরা খুব বেশি সময় নিইনি। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল টাইমিং। ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ। আমরা টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাজ করেছি। বিশ্বকাপের যে উন্মাদনা, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। দক্ষিণ এশিয়ায় এটির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। এই গেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের ক্রিকেটীয় জ্ঞান ও সচেতনতা আরো বাড়বে বলে মনে করি। ’

 

কী কী থাকছে

‘হাউজ্যাট—মুশি দ্য ডিপেনডেবল’ অ্যাপটি ওপেন করলেই থাকবে নানা বিভাগ। প্লে কুইক ম্যাচ, টুর্নামেন্ট জার্নি, প্র্যাকটিস ম্যাচ, লাইভ কনটেস্ট লেডাবোর্ড। থাকছে গেট রিওয়ার্ড সুবিধাও। ভিডিও অ্যাড থেকে কয়েন পাবেন ব্যবহারকারীরা। থাকছে জেনারেল মোড, মাল্টিপ্লেয়ার মোডসহ লিজেন্ডারি মোড। জেনারেল মোডে প্রাথমিক অবস্থায় আপনি কম্পিউটারের সঙ্গে খেলবেন এবং মুশফিক হবেন আপনার আইকনিক প্লেয়ার। আপনার দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকবে। আপনি নিজেই বাছাই করে নিতে পারবেন কাকে কাকে নিয়ে খেলতে চান। এককথায় আপনি দলের ম্যানেজার। গেমটিতে ক্রিকেটের প্রায় সব ধরনের ব্যাটিং স্ট্রোক ও বোলিং অ্যাকশন যুক্ত করা হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে চাইলে সেরে নিতে পারবেন অনুশীলনও। সব কয়টি অপশনই ফ্রি থাকছে। গেমটি খেলতে কোনো টাকা লাগবে না। মাল্টিপ্লেয়ার মোডে গেমার লাইভে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারবেন। জেনারেল মোড ২ গিগাবাইট র‌্যামের মোবাইলে খেলা যাবে। এই মোডে মুশফিকের অবতারকে পাওয়া যাবে। খেলার সময় বুঝতে পারবেন মুশফিক ব্যাটিং করছেন বা মুশফিক কিপিং করছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

খেলবে মুশফিকুর রহিমের অবতার

গেমটির লিজেন্ডারি মোডে হুবহু মুশফিককেই পাওয়া যাবে। যখন মুশফিক মাঠে নামবেন, তখন মনে হবে যেন আসল মুশফিকই নেমেছেন। এই মোড সব মোবাইলে খেলা যাবে না। লিজেন্ডারি মোডে গেম খেলতে ৮ গিগাবাইট র‌্যামের মোবাইল লাগবে। কারণ এই মোডের রেজল্যুশন অনেক বেশি। গেম তৈরির পুরো কাজটি ইউনিটি গেম ডেভেলপমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে গেমের আইডিয়া ঠিক করা হয়। এরপর গেম ইঞ্জিন পছন্দ করা হয়। গেম ইঞ্জিন হলো এমন এক সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে গেম ডেভেলপ করা হয়। বিভিন্ন প্রগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে মাঠ, ক্যারেক্টার, ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস, সাউন্ড সিস্টেম, এনিমেশন ইনপুট দেওয়া হয়েছে গেমটিতে।

 

করা যাবে ব্র্যান্ডিং

আইপিএল বা বিপিএলে যেভাবে টুর্নামেন্টকে ব্র্যান্ডিং করা হয়, এই গেমেও সেভাবে ব্র্যান্ডিং করা যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করা যাবে। গেমটির বেটা সংস্করণ মার্কেটে আসার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার সাবস্ক্রিপশন হয়েছিল। ৩৫ শতাংশ সাবস্ক্রিপশন ছিল ভারত থেকে। যখন বেশি সাবস্ক্রিপশন হবে তখন গুগল ও আইওএস থেকে আয় জমা হবে। এ ছাড়া টুর্নামেন্ট স্পন্সরের সুযোগ থাকছে। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে গেমটির যেকোনো টুর্নামেন্ট স্পন্সর করতে পারবে।

 

থাকছে পুরস্কারও

ব্যবহারকারীরা শুধু যে গেম খেলবেন তা নয়, টুর্নামেন্টে বিজয়ী হলে পাবেন পুরস্কারও। গেমটির নির্মাতাদের পক্ষ থেকেও পুরস্কার দেওয়া হবে। বিভিন্ন ক্যাটাগরি, যেমন—অনেক গেম খেলছে বা ভালো গেম খেলছে, এর ওপর ভিত্তি করে বাছাই করা হবে।

বাছাইকৃতদের কাছে মুশফিকুর রহিমের সাইন করা ক্যাপ, ব্যাট, গেমের লোগো সংযুক্ত জার্সি দেওয়া হবে। এই গেম থেকে আয়কৃত টাকার একটা অংশ চলে যাবে মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশনে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ধীরে ধীরে গেমটিকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চান তাঁরা। ডিসেম্বর নাগাদ আইওএস ব্যবহারকারীরাও অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবে। ভবিষ্যতে এতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি মোড সংযুক্ত করতে চান গেমটির নির্মাতারা। প্রযুক্তিগতভাবে সেই সক্ষমতাও তাঁদের আছে বলে জানান নির্মাতারা। তবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পেলে কাজটি সহজ হবে। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি সংযুক্ত করলে মনে হবে আপনি খোদ মাঠেই খেলছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি গেমিং হাব বা গেমিং স্টুডিও তৈরি করার পরিকল্পনাও আছে তাঁদের।



সাতদিনের সেরা