kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এলো নতুন আইফোন সঙ্গে আরো কিছু

অ্যাপল তাদের তৃতীয় ইভেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নিজেদের সদর দপ্তর থেকে নতুন আইফোন ১৩ সিরিজ, নতুন সপ্তম প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ এবং নতুন দুটি আইপ্যাড উন্মোচন করা হয়। আইফোনগুলোর ডিজাইনে বড়সড় পার্থক্য দেখা না গেলেও এসবে রয়েছে বেশ কিছু নতুন উদ্ভাবন। নতুন আইপ্যাড মিনিকে ঢেলে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে। কিছুু নতুনত্ব রয়েছে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭-এর ডিজাইনেও। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



এলো নতুন আইফোন সঙ্গে আরো কিছু

আইপ্যাড ও আইপ্যাড মিনি

অ্যাপলের সাশ্রয়ী মূল্যের এ দুটি ট্যাবলেটই মূলত বিশ্ব ট্যাবলেট বাজার দখল করে আছে বলা যায়। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি এ ডিভাইসগুলো তাদের আইপ্যাড প্রো সিরিজের মতো শক্তিশালী না হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। নতুন নবম প্রজন্মের আইপ্যাডের ডিজাইন আগের সপ্তম ও অষ্টম প্রজন্মের মতোই, থাকছে ১০.২ ইঞ্চি রেটিনা ডিসপ্লে, অ্যাপল পেনসিল প্রথম প্রজন্ম সমর্থন, হোম বাটন ও টাচ আইডি। ক্যামেরা কিছুটা আপডেট করা হয়েছে, কিন্তু মূল হার্ডওয়্যার ও রেজল্যুশন থাকছে অপরিবর্তিত। পুরনো মডেলের সঙ্গে মূল পার্থক্য, নতুন আইপ্যাডের আর ৩২ গিগাবাইট সংস্করণ থাকছে না, এর বদলে অগের মূল্যেই পাওয়া যাবে ৬৪ গিগাবাইট জায়গা। আর সবচেয়ে বড় আপডেট বলা যায় অ্যাপল এ১৩ বায়োনিক প্রসেসর ব্যবহার। মাল্টিটাস্কিং, গেমিং ও সর্বোপরি পারফরম্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি পাওয়া যাবে আরো দীর্ঘ ব্যাটারিলাইফ এবং সামনের ক্যামেরায় ভিডিও কলিংয়ের জন্য সেন্টার স্টেজ ফিচার, যার মাধ্যমে নড়াচড়া করলেও বিষয়বস্তুকে রাখা হবে ফ্রেমের মধ্যখানে। মূল্য শুরু ৩২৯ ডলার থেকে।

আইপ্যাড মিনি ষষ্ঠ প্রজন্মের ডিজাইন পুরোপুরি বর্তমান আইপ্যাড এয়ারের ছোট সংস্করণ বলা যায়। কমানো হয়েছে বেজেল, বাদ পড়েছে হোম বাটন। ডিসপ্লের আকৃতি বেড়েছে কিছুটা, ৭.৯ থেকে এবার করা হয়েছে ৮.৩ ইঞ্চি, কিন্তু ডিভাইসটির সাইজ আছে আগের সমান। প্রসেসর দেওয়া হয়েছে সর্বশেষ অ্যাপল এ১৫ বায়োনিক, থাকছে ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং এবং অ্যাপল পেনসিল দ্বিতীয় প্রজন্ম সমর্থন। সেলুলার মডেলে ৫জিও চলবে। টাচ আইডিও বাদ দেওয়া হয়নি, বরং সাইডে থাকা পাওয়ার বাটনই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হিসেবে কাজ করবে। আইপ্যাড মিনিতে নতুন আইফোন ১৩-এর প্রসেসর দেওয়ার ফলে এটি বর্তমানে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষুদ্র ট্যাবলেট। ক্যামেরা ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার অবশ্য মূল আইপ্যাডের মতোই রাখা হয়েছে। মূল্য শুরু ৪৯৯ ডলার থেকে।

 

আইফোন ১৩ সিরিজ

এবারও অ্যাপল চারটি নতুন মডেলে আইফোন বাজারে এনেছে। আইফোন ১৩ ও এর ছোট সংস্করণ ১৩ মিনি রাখা হয়েছে মূলধারার ক্রেতাদের জন্য, আর যারা বাড়তি ফিচারের জন্য খরচ করতে রাজি, তাদের জন্য ১৩ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স তো আছেই।

আইফোন ১৩ সিরিজের ডিজাইন প্রায় ১২ সিরিজের মতোই। সামনের নচ কমানো হয়েছে ৩০ শতাংশ, ফলে স্ক্রিনে বেড়েছে জায়গা। আর পেছনের ক্যামেরা একটির ওপর আরেকটি না বসিয়ে কোনাকুনি বসানো হয়েছে।

নতুন একটি নীলচে রঙে পাওয়া যাবে এবারের আইফোন, যার নাম দেওয়া হয়েছে স্টারলাইট। এর বাইরে বাহ্যিক পার্থক্য একেবারেই নেই ডিজাইনে।

ভেতরের হার্ডওয়্যার অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। প্রসেসরে যুক্ত করা হয়েছে সর্বশেষ এ১৫ বায়োনিক, যার মধ্যে থাকছে দুটি শক্তিশালী কোর, চারটি ব্যাটারিসাশ্রয়ী কোর ও চারটি জিপিউ কোর। নতুন ইমেজ প্রসেসিং কোর, ডিসপ্লে ইঞ্জিন এবং ভিডিও ও অডিও ডিকোডার থাকছে এতে, সঙ্গে নতুন করে ডিজাইন করা নিউরাল ইঞ্জিন ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি না করেই ভয়েস কমান্ড ও নানাবিধ এআইভিত্তিক কাজ ফোনেই করতে পারবে। প্রসেসরটি তৈরি করা হয়েছে ৫ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির সাহায্যে। বর্তমান এ১৪-এর চেয়ে এটি কতটুকু বেশি শক্তিশালী তা জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোয়ালকমের সর্বশেষ প্রসেসর, স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮-এর চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ এগিয়ে আছে এটি। ফেসআইডি, আইপি৬৮ ওয়াটারপ্রুফিং এবং সিরামিক গ্লাসও দুটি মডেলে—আইফোন ১৩ ও ১৩ মিনি থাকছে। ক্যামেরার রেজল্যুশন থাকছে ১২ মেগাপিক্সেল, কিন্তু তার পিক্সেল সাইজ বেড়ে হয়েছে ১.৭ মাইক্রোমিটার এবং অ্যাপার্চার থাকছে ১/১.৬। সেন্সরশিফট প্রযুক্তি এবার প্রো মডেলের বাইরেও ব্যবহার করেছে অ্যাপল, ফলে নতুন ফিচার সিনেম্যাটিক মোড পাওয়া যাবে এবারের সব মডেলে। এই ফিচারের মাধ্যমে ভিডিও করার সময়ও ব্যবহার করা যাবে পোর্ট্রেট মোডের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারিং, ভিডিও করার মাঝখানে বিষয়বস্তু নির্বাচন করে পরিবর্তন করা যাবে ফোকাস।

সঙ্গে থাকছে ডলবি ভিশন এইচডিআর কালারে ৪কে রেজল্যুশনে ৬০ ফ্রেমরেটে ভিডিও ধারণের সুবিধা, যা চাইলে প্রো-রেস ফরম্যাটে ধারণ করে প্রফেশনাল ভিডিওর জন্যও প্রস্তুত করা যাবে।

ফটোগ্রাফিতে নতুন ফিচার তেমন দেখায়নি অ্যাপল, কিন্তু তাদের দাবি, নতুন নিউরার ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের ছবি নিজ থেকেই সম্পাদনা করে সর্বোচ্চ মানের করতে চেষ্টা করবে। ফলে ব্যবহারকারীর নিজ থেকে ফিচার চালু ও সম্পাদনা করতে হবে না।

আইফোন ১৩ ও ১৩ মিনি দুটি মডেলেই থাকছে ওপরের সব নতুন ফিচার। এবার আইফোনের স্টোরেজ শুরু হচ্ছে ১২৯ গিগাবাইট থেকে, সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজে পাওয়া যাবে। আইফোন ১৩ মিনিতে থাকছে ৫.৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে, দাম শুরু ৬৯৯ ডলার থেকে। আইফোন ১৩-এ ডিসপ্লে থাকছে ৬.১ ইঞ্চি, দাম শুরু ৭৯৯ ডলার থেকে।

আইফোন ১৩ প্রো সিরিজ

আইফোন ১৩-এর সব নতুন ফিচারের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে জিনিসটি প্রো সিরিজে যুক্ত করা হয়েছে, তা বলা যায়, ডিসপ্লেতে প্রো-মোশন প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২০ হার্জ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট পাওয়া যাবে আইফোন ১৩ প্রো ও প্রো ম্যাক্স ফোন দুটিতে। পেছনের তিনটি ক্যামেরার মধ্যে মূল ক্যামেরার অ্যাপার্চার বাড়িয়ে করা হয়েছে এফ ১/১.৫, ক্যামেরার পিক্সেলের সাইজ দেওয়া হয়েছে ১.৯ মাইক্রোমিটার, যার ফলে বলা হচ্ছে স্বল্প আলোতে ছবির মান বাড়বে অন্তত ৪০ শতাংশ। আলট্রা ওয়াড ক্যামেরার অ্যাপার্চার করা হয়েছে এফ ১/১.৮, যুক্ত করা হয়েছে নতুন অটো ফোকাস সিস্টেম। অ্যাপলের দাবি, আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরার স্বল্প আলোতে পারফরম্যান্স বেড়েছে ৯২ শতাংশ। মজার বিষয় হচ্ছে, এই আলট্রা ওয়াইড সেন্সরটি ব্যবহার করেই আইফোন ১৩ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে যুক্ত করা হয়েছে ম্যাক্রো মোড, যা ভিডিওতেও কাজ করবে। মাত্র ২ সেন্টিমিটার দূরত্বে থাকা ক্ষুদ্র বস্তুর ছবি ও ভিডিও করার জন্য মোডটি কাজ করবে। নতুন টেলিফটো ক্যামেরার অপটিক্যাল জুম দেওয়া হয়েছে ৩X, যার মাধ্যমে ডিজিটাল জুম মিলিয়ে ৬X পর্যন্ত জুম করা যাবে নতুন প্রো ফোনগুলোতে।

এ ছাড়া মূল ১৩-এর সঙ্গে প্রো ফোনগুলোর পার্থক্য রয়েছে আরো বেশ কটি। প্রো ফোনগুলোতে থাকছে একটি বাড়তি জিপিউ কোর, র‌্যাম থাকছে ৮ গিগাবাইট, যেখানে ১৩ সিরিজে আছে ৬ গিগাবাইট। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ ১০০০ নিট পাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, অ্যাপলের দাবি প্রো ফোনগুলো অন্তত দুই দিন ব্যাটারিলাইফ দিতে পারবে, যা ১৩ সিরিজের প্রায় দ্বিগুণ। আইফোন ১৩ প্রো সিরিজেও স্টোরেজ শুরু ১২৮ গিগাবাইট থেকে।

আইফোন ১৩ প্রো-এর ডিসপ্লে থাকছে ৬.১ ইঞ্চি, মূল্য শুরু ৯৯৯ ডলার থেকে। আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্সের মূল্য শুরু এক হাজার ৯৯ ডলার থেকে।

 

অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭

বাহ্যিক ডিজাইনে নতুনত্বের ছোঁয়া পায়নি এবারের নতুন অ্যাপল ওয়াচ। সিরিজ ৭ অ্যাপল ওয়াচের ডিসপ্লে বেজেল কমিয়ে আগের মডেলের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে ডিসপ্লের আকৃতি, বডির সাইজ বেড়েছে সামান্য কিন্তু তা চোখে পড়ার মতো নয়। অ্যাপলের দাবি, ডিসপ্লের ব্রাইটনেসও বাড়ানো হয়েছে অনেক গুণ, সিরিজ ৩-এর তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।

প্রথমবারের মতো অ্যাপল ওয়াচেই টাইপ করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে ফুল কোয়ার্টি কি-বোর্ড। জেসচার টাইপিং বা ট্যাপ—দুইভাবেই টাইপ করা যাবে এবারের অ্যাপল ওয়াচে। নতুন ওয়াচের ডিসপ্লের টেক্সট সাইজ কমানো হয়েছে কিছুুটা, যাতে বারবার স্ক্রোল না করেই টেক্সট বা মেসেজ পড়া যায়। ফিচারটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে পুরনো মডেলেও দেওয়া হতে পারে।

সামনের গ্লাসের পুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে ৫০ শতাংশ, ডিজাইনে করা হয়েছে কিছুটা পরিবর্তন, যাতে ওয়াচটি সহজে নষ্ট না হয়। আইপি৬৮ এবং ডাব্লিউআর৫০ রেজিস্ট্যান্স দেওয়া হয়েছে এতে, যাতে গভীর নদীতে সাঁতার কাটলেও সমস্যা না হয়। নতুন সিরিজ ৭ অ্যাপল ওয়াচে যুক্ত করা হয়েছে ফাস্ট চার্জিং, যাতে ৪৫ মিনিটে শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হবে ডিভাইসটি।

এ ছাড়া তেমন নতুনত্ব নেই অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭ ডিভাইসটিতে। বরাবরের মতো তিনটি ফিনিশিং ও নানাবিধ বেন্ডসহ বাজারে পাওয়া যাবে এটি, মূল্য শুরু হবে ৩৯৯ ডলার থেকে।

 

দাম কমবে আগের মডেলে আইফোনগুলোর

নতুন মডেল বাজারে আসায় দাম কমবে আগের মডেলের আইফোনগুলোর। আইফোন এসই (দ্বিতীয় প্রজন্ম) পাওয়া যাবে ৩৯৯ ডলারে, আইফোন ১১ পাওয়া যাবে ৪৯৯ ডলারে, আইফোন ১২ পাওয়া যাবে ৫৯৯ ডলারে। আইফোন ১০আর এবং ১২ প্রো সিরিজ আর বিক্রি করবে না অ্যাপল। নতুন আইফোন ও আইপ্যাড অর্ডার করা যাচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে, ব্যবহারকারীরা হাতে পাবেন সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। নতুন অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭ পাওয়া যাবে অক্টোবরের মধ্য বা শেষভাগে।



সাতদিনের সেরা