kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

কফির শিল্পকর্ম

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের মনু নিজেল কফি বাতিল মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি আঁকেন! মূলত তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই ই-বর্জ্য নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আল সানি

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কফির শিল্পকর্ম

প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুরনো স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি ফেলে দেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এগুলো যত্রতত্র এভাবে না ফেলে শুধু আফ্রিকায় ই-বর্জ্য হিসেবে স্তূপ করা হলে মিসরের গির্জার পিরামিডের মতো ৯টি পিরামিড হবে। আর যদি এসবের অর্থমূল্য করা হয়, তাহলে ক্রোয়েশিয়া বা তানজানিয়ার মোট জিডিপির চেয়েও তুলনামূলক বেশি হবে। ২০১৬ সালে বিশ্বে যে পরিমাণ ই-বর্জ্য ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাতে ছয় হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যমানের সোনা, তামা ও লোহার মতো ধাতু ছিল, যা বিশ্বের সব রৌপ্য খনির মোট উৎপাদনের তিন গুণ। এমনকি আমাদের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত ১২৩টি দেশের জিডিপির চেয়েও বেশি। অর্থমূল্য বাদ দিলেও এসবের পরিবেশগত ঝুঁকি মারাত্মক।

আইভরি কোস্টে আমদানীকৃত বর্জ্যের হিসাবের বাইরে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার ৫০০ টন ইলেকট্রনিকস বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই বর্জ্যের বেশির ভাগই মোবাইল, মোবাইল চার্জার, রিমোট, কিবোর্ড আরো অনেক কিছু।

প্রায় তিন বছর আগে আইভরি কোস্টের তরুণ শিল্পী মনু নিজেল কফি বন্দরনগরী আবিদজানের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় খেয়াল করেন বাচ্চারা ফেলে দেওয়া এসব মোবাইল, কিবোর্ড নিয়ে খেলছে। তাঁর মাথায় আসে ফেলে দেওয়া এসব সামগ্রী শিল্প সৃষ্টির কাজেও লাগানো যেতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। আবিদজানের অলি-গলি ঘুরে পুরনো ও নষ্ট মোবাইল সংগ্রহ করতে লেগে পড়েন মনু নিজেল। পাশাপাশি ফেলে দেওয়া এসব সামগ্রী পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেসবও সাধারণ মানুষকে বোঝাতে শুরু করে দেন। এই ঘটনার ঠিক দুই বছর পর তাঁর পাশে আরো বেশ কিছু লোক জুটে যায়, যারা অর্থের বিনিময়ে পুরনো এসব ডিভাইস খুঁজে এনে দেওয়া শুরু করে। কফি বয়সে তরুণ, ১৯৯৪ সালে আইভরি কোস্টের বায়োতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকেই শিল্পকলার প্রতি দারুণ ঝোঁক ছিল কফির। সেই ঝোঁকের বশে সাত বছর বয়সে আর্টের এক প্রতিযোগিতায় একটি পুরস্কারও পেয়ে যান। এরপর আবিদজানের আর্ট স্কুলের (এলইএ) পাট চুকিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য যোগ দেন ফ্রান্সের বিখ্যাত আর্ট স্কুল লেস বিউক্স-আর্টসে। এরপর বেলজিয়াম আর মরক্কো ঘুরে শিল্পীর চোখ পাকা করে শিল্প সৃষ্টিতে হাত দেন। তবে তাঁর শিল্পকর্ম অন্য শিল্পীদের মতো শুধু রংতুলিতেই না; ফেলে দেওয়া ইলেকট্রনিকস জিনিসকে নতুন জীবন দান করাই তাঁর শিল্পের একমাত্র উপজীব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরনো, অব্যবহারযোগ্য ল্যাপটপ, মোবাইল, কিবোর্ড ভেঙে সুবিধামতো টুকরায় রূপান্তর করেন কফি। এরপর সেগুলোকে শিল্পে রূপ দেন। রংতুলির ওপর এমনভাবে এই ডিভাইসগুলো লাগানো হয় যে দেখে মনে হয় একেবারে রংতুলিতে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। প্রতিটি শিল্পকর্ম শেষ করতে কফি সময় নেন তিন থেকে পাঁচ দিন। আইভরি কোস্টের পেশাদার শিল্পী থেকে শুরু করে অপেশাদার শিল্পী প্রত্যেকের মধ্যেই কফির এই উদ্যোগ বেশ আলোড়ন তুলেছে। তাঁকে নিয়ে ফিচারও করেছে রয়টার্স।