kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

গেম

সেডালটিয়ায় ধুন্ধুমার

এস এম তাহমিদ   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেডালটিয়ায় ধুন্ধুমার

এখনকার সব মোবাইল আরপিজি গেম একই ধরনের। দুই থেকে চার রকমের কয়েন, সোনা বা জাদুর গোলক থাকবে, যার মধ্যে একটি কয়েন গেম খেলে কামানো গেলেও বাকিগুলো দেখা যাবে ইন-অ্যাপ পারচেজ করা ছাড়া জোগাড় সম্ভব হবে না। গেমারকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলা হবে নানা আপগ্রেড, ডেইলি মিশন, কো-অপ ইনভাইট ও ইন-অ্যাপ পারচেজের অফারের নোটিফিকেশন পাঠানোর মাধ্যমে। এর পরও গেমার যদি কিছুদূর এগোতেও পারেন, তাহলে আবিষ্কার করবেন যে একটা পর্যায়ে গিয়ে আর ইন-অ্যাপ পারচেজ ছাড়া এগোনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোবাইল আরপিজি গেম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এর মধ্যে ‘নাইনথ ডন থ্রি : শ্যাডো অব এরথিল’ বেশ ব্যতিক্রম। বলা যায়, ‘লেজেন্ড অব জেলডা’ সিরিজের কাহিনি ও আর্ট স্টাইলের সঙ্গে এলডার স্ক্রলস সিরিজের প্রচুর স্কিল ও কাজকর্ম ভিত্তিক গেমপ্লের সম্মিলনেই তৈরি হয়েছে এই গেম। নাইনথ ডনের পটভূমি সেডালটিয়া রাজ্য। শান্তিপূর্ণ এই রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে বসেছে উন্মাদ রাজা, যার ফলে রাজ্যে দেখা দিয়েছে সব ভৌতিক প্রাণীর আনাগোনা। জোতিষীরা বহু আগেই এসব ঘটনা ঘটবে সেটার ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছিল, পাশাপাশি এটাও বলা হয়েছিল, এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যে সব বাধা পেরিয়ে রাজাকে পরাস্ত করে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে। এই চরিত্র নিয়েই খেলতে হবে গেমারকে।

গেমটি খেলতে হবে আইসোমেট্রিক টু-ডি ভিউ থেকে। গ্রাফিকসও বেশ রেট্রো। মনে হতে পারে, এটি সেগা মেগাড্রাইভ বা সুপার নিন্টেন্ডোর জন্য তৈরি। তবে গ্রাফিকস দেখে গেমটি বিচার করা মোটেও উচিত হবে না। গ্রাফিকসের জন্য বেশি মেহনত করতে না হওয়ায় নির্মাতা পুরো শক্তিই ঢেলে দিয়েছে গেমের দুনিয়া তৈরিতে। ডানজন কালেক্টাথন ঘরানার কিছুটা আভাস এ গেমেও আছে। ফলে প্রায় সময়ই গেমারের কাজ হবে গেম দুনিয়ার এখানে-সেখানে গিয়ে সেসব এলাকার সব শক্র পরাস্ত করে কিছু একটা সংগ্রহ করা। একাধিকবার খেলার সময় গেমারের অভিজ্ঞতা যাবে বদলে। কেননা প্রতিবার খেলার সময় একই জিনিস বারবার ঘটবে না।

মিশনগুলো প্রায় কাছাকাছি হলেও সেগুলো খেলার উপায়ের শেষ নেই। গেমার তাঁর চরিত্র যেভাবে ইচ্ছা সাজাতে পারবেন। সম্মুখ যোদ্ধা হতে চাইলে আছে মাঝারি ও ভারী অস্ত্র, যেমন তলোয়ার বা কুড়াল চালনার স্কিল বেছে নিতে পারেন, আবার চাইলে আড়ালে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে স্নিক ও তীর-ধনুকের স্কিল বাড়িয়েও খেলা যেতে পারে। লড়াইয়ের পাশাপাশি অস্ত্রপাতি এবং বর্ম ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঠিকঠাক রাখা, সেগুলোর ক্ষমতা বাড়ানের জন্য গবেষণা করার পাশাপাশি নানা জাদুর শরবত ও খাবার তৈরির স্কিলগুলো অত্যন্ত জরুরি।

তবে এ যুগে এসে টু-ডি আইসোমেট্রিক গেম সবার ভালো না লাগাই স্বাভাবিক। বলা যায়, যারা কিছুটা নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত, তাদের জন্যই গেমটি তৈরি করা হয়েছে। তবে এর ভালো দিক, গেমটি খেলতে খুব শক্তিশালী ফোনের প্রয়োজন নেই।

গেমটি টু-ডি হলেও স্ট্র্যাটেজি ঘরানার নয়। যাঁরা ডিয়াবলো বা ডানজন হান্টার খেলেছেন, তাঁদের কাছে এই টুইন-স্টিক শ্যুটার ও স্ক্রিন ভরা হট-কি কন্ট্রোল সিস্টেমের কমব্যাট নতুন লাগবে না। প্রচুর শক্রর মুখে পড়ে গেলে গেমটির আরপিজি থেকে অ্যাকশন গেম হয়ে উঠতে সময় লাগবে না মোটেও। সবচেয়ে মজার বিষয়, একা একা লড়াইয়ের প্রয়োজন একেবারেই নেই। গেমারের সঙ্গী হিসেবে আরো কিছু চরিত্র মনের মতো গড়ে নেওয়া যাবে, আর সঙ্গে থাকছে প্রাণীদের পোষ মানিয়ে লড়াইয়ে ব্যবহারের উপায়ও।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত অ্যানড্রয়েড কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম, ২ গিগাবাইট র‌্যাম ও কোয়াডকোর প্রসেসর। জায়গা লাগবে ১৮২ মেগাবাইট।

 

ডাইলোড লিংক

https://urlzs.com/KrXsh [অ্যানড্রয়েড]

https://apps.apple.com/us/app/9th-dawn-iii/id1528353612 [আইওএস]

 

বয়স

১২+ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা