kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ইয়ামাতোয় হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা যায় না

ইয়ামাতো হচ্ছে বিশ্বের প্রথম কোনো শহর, যেখানে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ। কিভাবে সম্ভব হলো সেটা? জানাচ্ছেন আফরিন তৃষা

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইয়ামাতোয় হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা যায় না

জাপানের টোকিও শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের শহর ইয়ামাতো। শহরটায় আপনি পৌঁছে যখন ট্রেন থেকে নামবেন তখন স্টেশনে সাদা কাপড়ের বেশ কিছু ব্যানার দেখতে পাবেন। ওসবে লেখা—‘হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার নিষেধ’। জি, ঠিকই পড়ছেন। জাপানের ইয়ামাতো বিশ্বের প্রথম শহর, যেখানে এমন নিষেধাজ্ঞা আছে। পথচলার সময় যেন পথচারীরা সাবধানে চলাফেরা করতে পারে, সেলফোনে নাক-মুখ গুঁজে রাখার ফলে যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে—এসব বিষয় মাথায় রেখে স্থানীয় কর্মকর্তারা এই নিয়ম করেছেন।

 

স্মার্টফোন জোম্বি

‘আরুকিশুমাহো’ বা ‘স্মার্টফোন জোম্বি’ শব্দটি জাপানে বেশ জনপ্রিয়। যারা সারাক্ষণ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ঘাড় নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে রেখে তাকিয়ে থাকে তাদেরই মূলত এই নামে ডাকা হয়। জাপানের তাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইয়ামাতো শহরের দুটি স্থানে এক গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, শহরের ছয় হাজার পথচারীর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করে। তাদের জন্যই মূলত এই আইন। এরপর এই নিয়ম স্থানীয় আইনজীবীদের নজরে আনলে তাঁরা সাধুবাদ জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতি ১০ জনে আটজন বিষয়টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শহর ফোন স্ক্রল করতে করতে চলাচলকারী পথচারীদের সতর্ক করার জন্য রোড ক্রসিংয়ে ঝলকানো লাইট ও লেজারের বিম স্থাপন করেছিল। এদিকে চীনা শহর চংকিংয়ের কর্তৃপক্ষ ফোনে ব্যস্ত পথচারীদের জন্য পথগুলোতে ৩০ মিটার লম্বা ‘সেলফোন লেন’ও চালু করেছিল।

 

সিদ্ধান্তটা সম্মিলিত

জাপানকে প্রায়ই সমষ্টিবাদী সংস্কৃতির দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পৃথক মতামত প্রকাশের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী মহামারি চলাকালে বাধ্যতামূলক না হওয়া সত্ত্বেও জাপানে কাউকে মাস্ক ছাড়া বাইরে দেখা যায়নি। জাপানিরা হাঁটার সময় স্মার্টফোন ব্যবহারে নিজের এবং অন্যদের বিপদ সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে অবগত। জাপানে ২০১৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৬২ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, স্মার্টফোন চালানোর সময় তারা বিপদ সম্পর্কে সচেতন ছিল। ১৩.২ শতাংশ ব্যবহারকারী এভাবে হাঁটতে গিয়ে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। পরে নিজেদের অবশ্য শুধরে নিয়েছে এবং ৯.৫ শতাংশ বলেছিল, তারা আরুকিশুমাহোর কারণে পথ চলতে গিয়ে আহত হয়েছে।

 

চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

ইয়ামাতোর মেয়র দীর্ঘ পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। কাল-পরশু, এমনকি এক বছরের মধ্যেই আইনের ফল পাবেন তা ভাবছেন না তিনি। এই আইনের ফলে আসা পরিবর্তন পাঁচ বছর পর দেখতে চান মেয়র। তিনি বিশ্বাস করেন, পাঁচ বছর পর ‘স্মার্টফোন জোম্বি’ শব্দটাই জাপান থেকে উঠে যাবে। এদিকে যুবসমাজ এই আইনকে দেখছে ভিন্নভাবে। তাদের অভিমত হলো, জাপান নিত্যনতুন আইন করতে ভালোবাসে। এটি জাপানের এক ধরনের ঐতিহ্যও বটে। এই জরিমানাবিহীন আইন আসলে পরিবর্তন আনতে কতটুকু সাহায্য করবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই আইন হওয়ার পরও তরুণ-তরুণীদের তা ভঙ্গ করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, জাপানে হাঁটার সময় ধূমপান নিষিদ্ধের আইন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে লেগেছিল ১০ বছর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা