kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গেম

ধুলা দিতে হবে সবার চোখে

মোহাম্মদ তাহমিদ   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুলা দিতে হবে সবার চোখে

খুব কম গেমই আছে, ফোন ও পিসিতে ক্রস করে মাল্টিপ্লেয়ারে খেলা যায়। বেশির ভাগ গেমেরই মোবাইল সংস্করণ এবং পিসি বা কনসোল সংস্করণ হয় আলাদা। বর্তমানের ব্যাপক জনপ্রিয় গেম ‘অ্যামং আস’ তেমনই ব্যতিক্রমী এক গেম। চাইলে পিসি বা ফোন—দুটিতেই খেলা যাবে মিলমিশ করে। মজার বিষয় এটাই, মোবাইলে গেমটি বেশ কয়েক বছর ধরেই খেলা গেলেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে পিসিতে প্রকাশিত হওয়ার পরই। 

গেমটির সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলার মিল আছে। সর্বনিম্ন চার থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন মিলে খেলতে হবে। গেমের শুরুতে সবাইকে দায়িত্ব দেওয়া হবে একটি মহাকাশযান ঠিক করে সেটাকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করার। প্রতি ম্যাচে একজন বাদে বাকি সবাইকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে, ক্রু দলে পড়বে তারা। যদি তারা সফলভাবে সময়ের মধ্যে মহাকাশযান ঠিকঠাক উড্ডয়ন করতে পারে তাহলে ক্রু দল জিতে যাবে। আরেকভাবেও তারা জিততে পারবে, কে ইম্পস্টর বা জালিয়াত সেটা যদি তারা সঠিকভাবে ধরে ফেলতে পারে।

প্রতি রাউন্ডে একজন গেমার হবে ইম্পস্টর। তাকে ক্রুর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে, যাতে তারা বুঝতে না পারে সে ইম্পস্টর। কিন্তু তার মূল দায়িত্ব, এমনভাবে সব নষ্ট করা যাতে মহাকাশযানটি কোনোভাবেই আর উড়তে না পারে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে স্যাবোটাজ করতে হবে। এমনভাবে ক্রুদের হত্যা করতে হবে, যাতে সবাই মনে করে সেটি দুর্ঘটনা। আবার একই সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে সন্দেহ অন্য ক্রুদের ওপর ফেলার। যদি ইম্পস্টর সবাইকে মেরে ফেলতে পারে বা রাউন্ডের শেষ পর্যন্ত ধরা না পরে তাহলে সেই জিতবে।

গেমটি সাইড স্ক্রলার ঘরানার। গেমপ্লে মূলত মহাকাশযান ঘুরে ঘুরে সেটির সমস্যাগুলো ঠিক করা, আর অ্যাডমিন প্যানেলে বর্তমান অবস্থার ওপর নজর রেখে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়ে কি না তা দেখা। মূলত কে হতে পারে ইম্পস্টর, সেটা বের করাই গেমটির কাজ। যাকে সন্দেহ হবে, সবাই মিলে তাকে ইম্পস্টর হিসেবে ভোট দিয়ে বিতাড়িত করা যাবে। কিন্তু ভুল টিমমেটকে ইম্পস্টর ভেবে বসলে উল্টো হারা ছাড়া গতি থাকবে না।

ভোটিং করার জন্য ইমার্জেন্সি মিটিং ডাকা যেতে পারে। যেখানে গেমাররা নিজেদের মতামত দিয়ে নির্ধারণ করবে কে হতে পারে ইম্পস্টর। যেহেতু যে ইম্পস্টর সেও মিটিংয়ে উপস্থিত থাকবে, সে চাইলেই মিথ্যা উদাহরণ ও তথ্য দিয়ে সন্দেহের মোর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। গেমটির মূল মজা এখানেই, বুদ্ধি খাটিয়ে কে মিথ্যুক তা খুঁজে বের করা। আবার কোন বন্ধু সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে, চোখ এড়িয়ে করতে পারে ক্ষতি বা দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে ওস্তাদ সেটা পরীক্ষা করার জন্যও গেমটি দারুণ।

তবে গেমটি নিয়ে বেশ কিছু সমালোচনাও দেখা গেছে। ঘাগু অপরাধীর মতো চিন্তা করতে উৎসাহ দেয় গেমটি। তার চেয়েও বড় কথা, বন্ধুত্বের মধ্যে চিড় ধরিয়ে দিতে পারে, সেটা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ। দিনশেষে অপরিণত বয়সীদের গেমটি খেলা উচিত নয় বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে তার বিপক্ষের যুক্তি, চোর-পুলিশ খেলাটিও কিছুটা এমন, অথচ সেটি শিশুরাই খেলে।

গেমটির গ্রাফিকস একেবারেই কার্টুনের মতো। প্রায় সব ফোনেই এটি খেলা যাবে। তবে খেলার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং অনলাইনে কথা বলার মতো ডাটা ও হেডসেট লাগবেই। পুরো গেমটাই একে অপরের সঙ্গে ঠিকঠাক যোগাযোগ করার ওপর নির্ভরশীল।

 

ডাউনলোড লিংক

https://urlzs.com/41dUJ [অ্যানড্রয়েড]

https://apps.apple.com/us/app/among-us/id1351168404 [আইওএস]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা