kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

স্মার্ট ডিভাইসেই জানা যাবে অক্সিজেনের মাত্রা

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্মার্ট ডিভাইসেই জানা যাবে অক্সিজেনের মাত্রা

করোনা রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে অনেক সময় দিতে হয় অক্সিজেন। তবে তার আগে খেয়াল রাখতে হয়, রোগীর শরীরে কী পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন আছে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য রয়েছে ‘পালস অক্সিমিটার’। আজকাল বেশ কিছু স্মার্টব্যান্ড, স্মার্টওয়াচ এমনকি কিছু স্মার্টফোনেও পাওয়া যায় এই যন্ত্রের সুবিধা। জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

কভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মানবদেহে একাধিক ক্ষতি করতে পারে—সেটা হতে পারে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে স্নায়বিক পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার ফুসফুস, যার ফলে শরীরে দ্রুত দেখা দেয় অক্সিজেনের ঘাটতি। তারচেয়ে ভয়ংকর, বেশির ভাগ সময় রোগী সেটা বুঝতেই পারে না; মনে করে সাধারণ দুর্বলতা বা রক্তচাপ হয়তো কমে গেছে।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য সাধারণত ‘পালস অক্সিমিটার’ নামের একটি যন্ত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মজার বিষয়, এ ফিচারটি আজকাল বেশ কিছু স্মার্টব্যান্ড, স্মার্টওয়াচ এবং কিছু স্মার্টফোনেও আছে। এ ডিভাইসগুলো থেকে একেবারে নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায় না, তবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা লক্ষ রাখতে এটি খুবই কার্যকর। অক্সিজেনের মাত্রাকে ‘ব্লাড অক্সিজেন স্যাচুরেশন’ বা ‘SpO2’ বলা হয়ে থাকে। সুস্থ শরীরে রক্তে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রা ১০০ বা ৯৯ শতাংশ। যদি সেটা ৯৭ বা ৯৮ শতাংশেও নেমে আসে তা হলেও সেটা চিন্তার বিষয়, ডাক্তারকে জানানো উচিত। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কয়েক মিনিটের জন্যও যদি ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যায় তাহলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এ সময় দ্রুত রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হঠাৎ করে কোনো সময়সূচি না মেনে SpO2 মেপে তেমন লাভ হবে না, সঠিকভাবে রুটিন করে মেপে সেটা সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে কি না খেয়াল রাখতে হবে।

এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাবে ‘হুয়াওয়ে অনার ব্যান্ড ৫’ স্মার্টব্যান্ডে। কেনার পর একবার ডিভাইসটির সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিলেই হবে। এর পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিন-রাত রোগীকে মনিটর করতে পারবে এটি। হাতে পরে থাকতেও সমস্যা নেই, কেননা ডিভাইসটি একদমই হালকা আর আরামদায়ক। দিনশেষে ফোনের অ্যাপে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে। আরো নির্ভুল তথ্যের জন্য আছে ‘ফিটবিট ভার্সা লাইট’, ‘স্যামসাং গিয়ার ফিট’ এবং ‘স্যামসাং গিয়ার’, ‘আসুস ভিভোওয়াচ’ এবং সর্বশেষ ‘অ্যাপল ওয়াচ’। এসব ডিভাইসে অত্যন্ত নির্ভুল সেন্সর ব্যবহার করা হয়। শুধু তা-ই নয়, অ্যাপল ও আসুসের ক্ষেত্রে সেন্সরগুলো মেডিক্যাল গ্রেডের। বাড়তি হিসেবে এগুলোতে রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন মাপা এবং ইসিজির সেবাও পাওয়া যাবে। স্যামসাং গিয়ার বা ফিটবিট ভার্সা সিরিজের দাম কিছুটা চড়া, কিন্তু অন্যান্য কমদামি স্মার্টব্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। জীবন বাঁচানোর প্রযুক্তিতে টাকা বাঁচানোর চেষ্টা খুব বেশি না করাই শ্রেয়। বিশেষ করে নামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন অ্যাপ অনেক বেশি সহজবোধ্য, কাজও করে নির্ভুল। পাশাপাশি ডিভাইসের ব্যাটারি ড্রেন, ডাটা হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও করে না।

অতএব, করোনা হয়েছে সন্দেহ থাকলে শুরুতেই রক্তের অক্সিজেনের পরিমাণ মেপে রাখা উচিত। তবে সাবধান থাকতে হবে, বাজার ছেয়ে যাওয়া নামহীন ব্র্যান্ডহীন স্মার্টওয়াচে থাকা অক্সিজেন মিটারে আস্থা না রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বেশির ভাগ বাজেট স্মার্টওয়াচের সেন্সর ভুলে ভরা, অনেক ক্ষেত্রে সেন্সরটি কাজই করে না, রিডিং পাওয়া যায় মনগড়া। তাই মানসম্মত ডিভাইসের ওপরই আস্থা রাখা উচিত।

মন্তব্য