kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

গেম

হয়ে যান ড্রিফট রেসার

মোহাম্মদ তাহমিদ   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হয়ে যান ড্রিফট রেসার

স্মার্টফোনে রেসিং গেমের অভাব নেই। আর্কেড ঘরানার সহজ কন্ট্রোলের রেসিং সিরিজ ‘নিড ফর স্পিড’ থেকে ‘অ্যাসফল্ট’ বা সিমুলেশন বাস্তবসম্মত রেসিং গেম ‘গ্রিড অটোস্পোর্ট’ বা ‘রিয়েল রেসিং’—সব ধরনের রেসিং ঘরানারই গেম আছে। ড্রিফট রেসিং নিয়েও তৈরি হয়েছে বেশ কিছু গেম, সেসবের মধ্যে ‘হাশিরিয়া ড্রিফট’ বাকি গেমগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে দুটি কারণে। গেমটির গ্রাফিকস ও ফিজিকস চমত্কার এবং গেমটিতে যত ইচ্ছা রেস করা যাবে, কারণ ফুয়েলের জন্য বসে থাকতে হবে না। গেমটির নির্মাতা বলা যায় ইন-অ্যাপ পারচেজের জন্য গেমারকে কোনো চাপই দেননি। বিনা মূল্যে ডাউনলোড করে ইচ্ছামতো খেলা যাবে এ গেম। মোবাইল গেমের দুনিয়ায় এমন উদাহরণ দিন দিন কমে আসছে।

কাহিনি বা ক্যারিয়ারের দিকে গেমটি একেবারেই যায়নি। শুরুতেই গেমারের সামনে খুব সাদামাটা একটি মেন্যু উপস্থাপন করা হবে, সেটা দেখেই গেমটি কতটা সহজভাবে তৈরি করা হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। সিঙ্গল, অনলাইন, মাই গ্যারেজ, টাকার অঙ্ক আর আপগ্রেড করার বাটনের বাইরে কিছুই নেই। না আছে ম্যাপ, ইভেন্টের চার্ট, দু-তিন রকমের মুদ্রা বা এক গাদা ফুয়েল, টোকেন বা অন্যান্য পাসের ব্যবস্থা। অনেক রেসিং গেম আজকাল এত কিছুর মাধ্যমে চেষ্টা করে ইন-অ্যাপ পারচেজের দিকে গেমারকে ঠেলে দেওয়ার, সে হিসাবে হাশিরিয়ার চেষ্টাটা আসলেই প্রশংসনীয়।

সিঙ্গল প্লেয়ারে ঢোকার পর গেমারকে বেছে নিতে হবে তার প্রথম গাড়ি। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে প্রথম ড্রিফট ট্র্যাক, পার্কিং লটে। নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ ড্রিফট পয়েন্ট করে তবেই পাওয়া যাবে টাকা, যা দিয়ে গাড়ি কেনা যাবে, করা যাবে কাস্টমাইজও। নতুন ট্র্যাক আনলক করার জন্যও টাকা খরচ করতে হবে না, সব ট্র্যাক একেবারে শুরু থেকেই খোলা থাকবে। অবসর সময় একটু ড্রিফট করার জন্যই গেমটি তৈরি করা হয়েছে, লম্বা ক্যারিয়ার মোড নিয়ে খেলার জন্য নয়। মোবাইল গেমে সেটিই উত্তম।

নিয়ন্ত্রণে গেমটিতে ড্রিফট করা আসলে কতটা কঠিন সেটা ভালোভাবে টের পাওয়া যাবে। ড্রিফট শুরু করা বেশ সহজ, স্পিড তুলে হ্যান্ডব্রেক টেনে একদিকে মোড় নিলেই চলবে; কিন্তু ড্রিফট ধরে রাখা এবং কম্বো করা বেশ কঠিন। বড়সড় স্কোর করতে ড্রিফট চেইন এবং কম্বো না করলে চলবেই না। যেহেতু বারবার চেষ্টা করতে দোষ নেই, তাই প্র্যাকটিস করে হাত পরিষ্কার করতে কোনো সমস্যা নেই। এটা গেমের বড় ফিচার হওয়া উচিত নয়, কিন্তু ফুয়েল শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কারণে অনেক গেমেই অনুশীলন করার সময়ও পাওয়া যায় না।

গ্রাফিকসে গেমটি বেশ এগিয়ে আছে। প্লেস্টেশন ৩ বা ভিটার মতো গ্রাফিকসের ডিটেইল গেমটিতে পাওয়া যাবে, বিশেষ করে গাড়ির মডেলের ডিটেইল অনেক পিসি গেমের চেয়েও ভালো বলা যায়। তবে চারপাশের পরিবেশের ডিটেইল কিছুটা কম। অবশ্য ড্রিফট করার সময় সেদিকে নজর যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গেমটিতে ইন-অ্যাপ পারচেজের জন্য চাপ না থাকলেও বিজ্ঞাপন বেশ জ্বালাবে। বিজ্ঞাপন দেখে টাকা সংগ্রহের দিকেও বারবার আঙুল তুলবে গেমটি। এটাই বলা যায়, হাশিরিয়া ড্রিফটের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

কাস্টমাইজেশনের অপশনও গেমটিতে বেশ গভীর। বদলে ফেলা যাবে ইঞ্জিন, ঠিক করে নেওয়া যাবে গ্রিপ এবং ঠিক মনের মতো পরিমাণ হর্সপাওয়ার ও টর্ক। এ গাড়ির অনেক জনপ্রিয় মডেলও এতে যুক্ত করা হয়েছে। নিশান সিলভিয়া, টয়োটা ট্রুয়েনোর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলো নিয়ে খেলা যাবে।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত ২ গিগাবাইট র‌্যাম

অক্টাকোর প্রসেসর

৮০০ মেগাবাইট জায়গা

 

ডাউনলোড লিংক

https://urlzs.com/WfiLB [অ্যানড্রয়েড]

https://apps.apple.com/us/app/hashiriya-drifter/id1467291840 [আইওএস]

 

বয়স

৮+

মন্তব্য