kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সিনেমাই যখন আইফোনের বিজ্ঞাপন?

অ্যাপলের নতুন ফোন ‘আইফোন ১১ প্রো’ দিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যের একটি পেশাদার অ্যাকশন সিনেমা বানিয়ে ফেললেন পরিচালক ডেভিড লিচ। এটা সিনেমা না আইফোনের বিজ্ঞাপন তা নিয়ে বেশ সরব টেক দুনিয়া। লিখেছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিনেমাই যখন আইফোনের বিজ্ঞাপন?

এই ধরনের অ্যাকশন দৃশ্য ধারন করা হয়েছে ‘আইফোন ১১ প্রো’ দিয়েই

প্রথমেই এই লিংকে

(https://youtu.be/cM8DcCoZulw) গিয়ে দেখে নেওয়া যাক ছোট চলচ্চিত্র ‘স্নোব্রল’। ব্যাপ্তি মাত্র এক মিনিট ৩৪ সেকেন্ড। এরই মধ্যে ছাড়িয়েছে আড়াই কোটি ভিউ। প্রায় দেড় মিনিটের মহাযজ্ঞ। অস্ত্র বা বিস্ফোরকের ঝনঝনানি না থাকলেও আছে টান টান সিনেম্যাটিক উত্তেজনা।

না, কোনো সিনেমার গল্প নয়। গল্পটা মূলত একটা ফোনের—আইফোনের! কারণ পুরো সিনেমার চিত্র ধারণ করা হয়েছে সদ্য বাজারে আসা ‘আইফোন ১১ প্রো’ দিয়ে। আর ফোনটির বিজ্ঞাপন হিসেবেই দেড় মিনিটের চোখ-ধাঁধানো সিনেমাটি বানিয়েছেন ‘জন উইক’ ও ‘ডেডপুল’ খ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ডেভিড লিচ।

ফোর-কে রেজল্যুশনে (৩৮৪০ বাই ২১৬০ পিক্সেল) সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেম স্পিডে রেকর্ড করতে পারা আইফোন ১১ প্রো দিয়ে যে পেশাদার সিনেমাও বানানো সম্ভব সেটা দেখানোই ছিল ‘স্নোব্রল’ তৈরির উদ্দেশ্য। পরে অবশ্য পরিচালক দ্বিতীয় উদ্দেশ্যও স্বীকার করেছেন। সেটা হলো, সিনেমা বানাতে ঝাঁ চকচকে যন্ত্রপাতির চেয়ে আইডিয়াটাই বড়। এতেও অবশ্য কাজ হয়েছে। নতুন পরিচালকদের কাছে বার্তা চলে গেছে, বিশালদেহী সব ক্যামেরাট্যামেরা বড় কথা নয়, সৃজনশীলতা দেখাতে আপনার হাতের ফোনটিই যথেষ্ট। আর এতেই যে আইফোনের নতুন সেটের বিক্রি সুপারহিট হতে চলেছে, তাতে আর বাজারবিশারদদের সন্দেহ থাকে না।

যেভাবে বানানো হলো

শুনতে সহজ মনে হলেও বরফের গোলা ছোড়াছুড়ির খেলা নিয়ে ডেভিডের বানানো সিনেমায় রয়েছে যথেষ্ট মুনশিয়ানা। আইফোনটিকে হাতে নিয়ে স্রেফ ভিডিও করে যাননি তিনি। পেশাদার আরো অনেক যন্ত্রপাতিকেও কাজে লাগিয়েছেন।

ইউটিউবে সার্চ করলে পাবেন ‘বিহাইন্ড দ্য সিন অব স্নোব্রল’। শুরুতেই তিন লেন্সের ক্যামেরাটিকে দেখবেন একটি গ্রিপে লাগানো। এরপর আরো টুকিটাকি অনেক যন্ত্রপাতি তো আছেই। তবে প্রতিটি শটে কিছুটা হলেও বিজ্ঞাপনের ছোঁয়া আছে। যেমন, ফোন দিয়ে সিনেমা বানানোর বড় সুবিধাটা হলো এটি হালকা। সহজে অন্য কিছুর সঙ্গে একে জুড়ে দেওয়া যায়। আর তাই একটি গোলাকার ঢালের সঙ্গে ফোনটিকে বেঁধে বরফের ওপর চক্কর খাওয়ানোর দারুণ সব শটও নিতে পেরেছেন লিচ। বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে এ ধরনের শট নিতে যে আয়োজন করতে হতো, দেখা গেল আইফোন দিয়ে সেটা শূন্য বাজেটেই করে ফেললেন পরিচালক! দরকার শুধু একটুখানি ‘ম্যাকগাইভারি’ বুদ্ধি।

পরিচালক ডেভিড লিচ বললেন, ‘আশা করি এটা দেখে নতুন পরিচালকরা মাথা থেকে যন্ত্রনির্ভরতা ঝেড়ে ফেলতে পারবেন।’ নেপথ্যে থাকা অ্যাপলও অবশ্য চাইবে, বড় ক্যামেরা ছেড়ে অনেকেই যেন ১৮৮ গ্রাম ওজনের একখানা ‘আইফোন ১১ প্রো’র প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে ছবি বানানোর জন্য। পরিচালক ডেভিডও সাফাই গাইলেন খানিকটা, ‘বলছি না যে বড় ক্যামেরাগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দেবে এটা। তবে এ ফোনে শট নেওয়াটা বেশ নমনীয়। খুব দ্রুত ও সহজে কুংফু কম্পোজিশন (লম্ফঝম্প ঘরানার শট) নিতে এর জুড়ি নেই।’

 

ক্যামেরা অডিও

আইফোনের নতুন ফোনটি নিয়ে যে সিনেম্যাটিক হৈচৈ উঠল, তার পেছনে দু-একটি নয়, আছে তিনটি কারণ। তিন ধরনের শট নিতে এতে আছে তিনটি ভিন্ন ক্যামেরা। প্রতিটি ১২ মেগাপিক্সেল করে। একটি ২৬ মিমি, একটি ৫২ মিমি এবং একটি ১৩ মিমি। এর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়টি ওয়াইড তথা বড় পরিসরে দৃশ্য ধারণের জন্য আর ৫২ মিমি লেন্সটি টেলিফটো শট নিতে কাজে আসে। এর অডিও রেকর্ডিংয়ে আশপাশের নয়েজ দূর করার ব্যবস্থাও আছে এই ফোনে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা