kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভাঙা মোবাইলে চলচ্চিত্র

কল্পবিজ্ঞানের ছবি তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নাইজেরিয়ার একদল তরুণ। আর তাঁরা এই ছবি তৈরি করেছেন একটি ভাঙা স্মার্টফোন ও ট্রাইপড দিয়ে। ভিডিও সম্পাদনার জটিল বিষয়গুলোও শিখেছেন ইউটিউবের নানা টিউটরিয়াল দেখে। জানাচ্ছেন কাজী ফারহান হোসেন পূর্ব

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙা মোবাইলে চলচ্চিত্র

উত্তর নাইজেরিয়ার কাদুনায় আট তরুণের দল ‘দ্য ক্রিটিক’। ২০১৬ সালে তাঁরা এক মাস টাকা জমিয়ে একটা সাধারণ মানের ‘গ্রিন স্ক্রিন’ কেনেন। ভিডিও সম্পাদনার সময় পেছনের দৃশ্য পরিবর্তনের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ এই গ্রিন স্ক্রিন। তারা ইউটিউবেই টিউটরিয়াল দেখে শিখে নেয় গ্রিন স্ক্রিন আর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের নানা কলাকৌশল। এরপর একটি ভাঙা স্মার্টফোনকে নষ্ট মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড থেকে তৈরি ট্রাইপডে বসিয়ে শুট করে বানিয়ে ফেলেন নিজেদের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্যের কল্পবিজ্ঞানের ছবি ‘রিডেম্পশন’। দুই তরুণের বায়োফুয়েল বানানোর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নিয়ে তৈরি এই ছবি দিয়েই শুরু হয় নিজেদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

 

স্বপ্ন যখন ভাইরাল!

ধীরে ধীরে ভিডিও সম্পাদনায় নৈপুণ্য আনতে থাকে দ্য ক্রিটিক। পাশাপাশি কাহিনিগুলোতেও আনতে থাকে চমক। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেও সময় লাগে না। তাঁদের কাজ নিয়ে প্রশংসা করেছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘আলজাজিরা’, ‘আফ্রিকান এক্সপোনেন্ট’, ‘চ্যানেলস টেলিভিশন’-এর মতো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যম। দ্য ক্রিটিক দলের অন্যতম সদস্য ১৯ বছর বয়সী গডউইন জোসিয়াহ বলেন, ‘ভাইরাল হওয়াটা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। আমরা এটা দেখাতে চাইছিলাম যে কাদুনার ছেলেরাও অসাধারণ কিছু করছে।’

 

প্রযুক্তিগত বাধাও ছিল

দলের আরেক সদস্য রেমন্ড ইউসুফ বললেন, “আমাদের সিস্টেমটা খুবই ধীরগতির। অনেক সময় নিয়ে একটা ভিডিও রেন্ডার হয়। ‘চেজ’ নামের পাঁচ মিনিটের একটা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি রেন্ডার করতে সময় নেয় প্রায় দুই দিন।” সমস্যার এখানেই শেষ নয়। কাদুনায় বিদ্যুিবভ্রাটের সমস্যাও আছে। এটিও তাঁদের কাজের গতিতে বেশ প্রভাব ফেলে। ভিডিও আপলোড করার সময় ধীরগতির ইন্টারনেটও কম ঝামেলা করে না।

 

স্বপ্ন উড়ছে নলিউডে

এত সমস্যা সত্ত্বেও নিজেদের কাজে লেগে ছিলেন এই তরুণরা। তার পুরস্কার মিলল কিছুদিনের মধ্যে। তাঁদের চমৎকার সব কাজ চোখে পড়ল নাইজেরিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক কেমি আদেতিবার। তাঁর প্রশংসাসূচক টুইটের পর মিলল ছয় হাজার ডলারের ফান্ড, যাতে উন্নত যন্ত্রপাতি কিনে আরো ভালো ছবি বানাতে পারে ‘দ্য ক্রিটিক’। এখানেই শেষ নয়! কারণ তাঁদের হাতছানি দিচ্ছে নলিউডে কল্পবিজ্ঞান ঘরানার ছবি বানানোর অনন্য সুযোগ। চলচ্চিত্র বানানোর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাইজেরিয়ার এই মুভি ইন্ডাস্ট্রি। তবে তাদের লক্ষ্য কিন্তু আরো বড়। গডউইন জোসিয়ার মুখ থেকেই শোনা যাক, ‘আমাদের ভবিষ্যতের টার্গেট নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত মুভি বানানো। আমরা অসাধারণ কিছু করতে চাই। এটা এমন কিছু, যেটা আগে কখনো হয়নি। আমাদের বিশ্বাস, সব কিছু খুব দ্রুতই ঘটতে যাচ্ছে!’

‘দ্য ক্রিটিক’-এর ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘ক্রিটিকস কম্পানি’। তাদের ভিডিওগুলো দেখতে চাইলে https://www.youtube.com/channel/UComu3ao5983Wpni7R_JcovQ থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা