kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হ্যালো অ্যানড্রয়েড ১০!

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



হ্যালো অ্যানড্রয়েড ১০!

মার্চে মুক্তি পেয়েছিল ‘অ্যানড্রয়েড কিউ’-এর বেটা সংস্করণ। পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর ৩ সেপ্টেম্বর  থেকে পিক্সেল ফোনগুলো পেতে শুরু করছে এটার আপডেট। বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসছে এবারের সংস্করণে, যার শুরু অ্যানড্রয়েডের নাম আর চেহারা বদল দিয়ে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

 

মিষ্টান্নের নাম বাদ, নতুন চেহারায় অ্যানড্রয়েড

একেবারে শুরু থেকে অ্যানড্রয়েড সংস্করণগুলোতে ব্যবহার হয়েছে মিষ্টান্নের নাম। প্রথম প্রকাশিত সংস্করণের নাম দেওয়া হয়েছিল কাপকেক, এরপর বর্ণমালাক্রমে ডোনাট, ইকলেয়ার, ফ্রোইয়ো, জিনজার ব্রেড, হানিকোম্ব, আইসক্রিম স্যান্ডউইচ, জেলিবিন, কিটক্যাট, ললিপপ, মার্শম্যালো, নুগাট, ওরিও এবং পাই—এ নামগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

সে অনুযায়ী এবারের সংস্করণের নাম হওয়ার কথা ছিল ‘কুইন কেক’, অন্তত অ্যানড্রয়েড তৈরির দলটি তা-ই জানিয়েছিল। কিন্তু পরে গুগলের বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, মিষ্টান্নের নাম আর নয়। এখন থেকে অ্যানড্রয়েডের পরবর্তী সংস্করণের পরিচিতি হবে সংখ্যা দ্বারাই। আর তাই এবারের সংস্করণের নাম সংখ্যাক্রমে ‘অ্যানড্রয়েড ১০’।

অ্যানড্রয়েডের মাসকাট, ছোট্ট সবুজ রোবটেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর দেহ বাদ দিয়ে শুধু মাথাটি ব্যবহার করা হয়েছে লোগো হিসেবে। অ্যানড্রয়েড লোগোর ফন্টেও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ফন্ট আর রোবট মিলিয়ে পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে অ্যানড্রয়েডের লোগো।

 

বাদ যাচ্ছে নেভিগেশন বাটন

ফোনে বাস্তবিক বাটনের বদলে অ্যানড্রয়েড ৪ থেকে স্ক্রিনের মধ্যেই নেভিগেশনবার যুক্ত করা হয়েছিল। এবার জেসচার দিয়ে সেটি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এখন থেকে অ্যানড্রয়েডে ব্যাকে যেতে বাঁ থেকে ডানে, হোমে যেতে নিচ থেকে ওপরে, আর মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য নিচ থেকে মাঝ পর্যন্ত সোয়াইপ করে ধরে রাখতে হবে।

নেভিগেশনবারে অভ্যস্ত ব্যবহারকারীদের কাছে এ পরিবর্তন ভালো না লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেজেলহীন, লম্বাটে বিশাল ডিসপ্লে ফোনগুলোতে আর মানাচ্ছে না নেভিগেশন বাটন। উল্টো সেটি আঙুলের ওপর চাপ ফেলছে। তবে ব্যবহারকারীদের নতুন সিস্টেমে অভ্যস্ত হতে বেশ সময় লাগবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

 

আসছে ডার্ক মোড

পুরো সিস্টেমজুড়ে ‘ডার্ক মোড’ দেওয়া হোক—ব্যবহারকারীদের এ দাবি বহুদিনের। শেষ পর্যন্ত গুগল সেটি মেনে নিয়েছে, সেটিংসে যোগ করেছে ‘ডার্ক মোড’। ফোনের ইন্টারফেইসে যেসব সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের অংশ আছে, সেগুলো হয়ে যাবে কালো বা কালচে। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে নীল, সবুজের সমন্বয়ে পুরো ইন্টারফেইস তৈরি হবে। চোখ সুরক্ষায় এই ডার্ক মোড খুবই উপকারী।

ডিসপ্লেতে সাদার আধিক্য চোখের ওপর চাপ ফেলে থাকে, বিশেষ করে অন্ধকারে ব্যবহারের জন্য ডার্ক মোড বেশ উপকারী। অ্যামোলেড ডিসপ্লের ফোনগুলোতে ডার্ক মোড ব্যাটারি বাঁচাতেও কাজে আসবে, যদিও এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহারকারীরা বাড়তি ব্যাটারি লাইফ পাবেন না।

ডার্ক মোড শুধু মূল সিস্টেম ইন্টারফেইসেই নয়, অন্যান্য অ্যাপেও যাতে কাজ করে, সে জন্য গুগল একটি এপিআই তৈরি করেছে। ফলে অ্যাপ নির্মাতারা চাইলে তাঁদের অ্যাপেও যাতে ডার্ক মোডে যেতে পারেন, সেটি প্রগ্রাম করতে পারবেন।

 

ডেস্কটপ মোড এবং স্ক্রিন রেকর্ড

‘স্যামসাং ডেস্ক’ ফিচারটির মতো ডেস্কটপ মোড এখন থেকে সব অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীই ব্যবহার করতে পারবেন। ফোনের সঙ্গে আলাদা ডিসপ্লে যুক্ত করলেই পাওয়া যাবে ডেস্কটপ ইন্টারফেইস। অ্যাপগুলো ব্যবহার করা যাবে উইন্ডো আকারে; কি-বোর্ড, মাউস ব্যবহার করার মাধ্যমে যাতে সহজে কাজ করা যায়, সেভাবেই সাজানো হয়েছে ইন্টারফেইস। আছে একটি অ্যাপ মেন্যু, ক্রমে সব ওয়েবসাইট লোড হবে ডেস্কটপ সংস্করণে, একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে কাজ করবে কোনো সুইচিং ছাড়াই। বলা যেতে পারে, পকেটেই নিয়ে ঘোরা যাবে একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার!

স্ক্রিন রেকর্ড করার সুবিধা অ্যানড্রয়েডে সরাসরি দেওয়া হয়নি এত দিন। শাওমি, স্যামসাংয়ের মতো নির্মাতারা তাঁদের ফোনগুলোতে বাড়তি সুবিধা হিসেবে সেটি যুক্ত করত। এখন থেকে ডেভেলপার অপশনস থেকে পাওয়া যাবে স্ক্রিন রেকর্ড করার সুবিধা। অনেক সময় স্মার্টফোনের কোনো ফিচার বা সমস্যা অন্য কাউকে দেখানোর জন্য ফিচারটির খুবই প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি গেইমপ্লে রেকর্ড করার জন্যও এটি প্রয়োজন হয়। এখন আর ফোন রুট করে স্ক্রিন রেকর্ড করতে হবে না।

 

ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড শেয়ার

অ্যানড্রয়েড ফোনে সেভ থাকা ওয়াই-ফাইগুলোর পাসওয়ার্ড শেয়ার করা এখনো সরাসরি সম্ভব নয়। সেটি বদলে যাচ্ছে এবার। ফোনের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড চাইলে কিউআর কোডের মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে ওয়াই-ফাই সেটিংস থেকে যে নেটওয়ার্কের পাসওয়ার্ড শেয়ার করা হবে, সেটি বাছাই করে শেয়ার পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তবে নিরাপত্তা ধরে রাখতে, ব্যবহারকারীকে তার পিন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে তবেই পাসওয়ার্ড শেয়ার করতে হবে।

ফিচারটি মূল অ্যানড্রয়েডে না থাকলেও, শাওমি তাদের মিইউআই রমে এ সেবা ২০১৪ সাল থেকেই দিয়ে আসছে। এখন থেকে সব অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীই এই ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন।

 

নতুন চেহারায় থিম

নিজের মনের মতো করে ফোন সাজিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক থিম। অথচ থিম ব্যবহারের সেবা মূল অ্যানড্রয়েড সিস্টেমে এত দিনেও সরাসরি যুক্ত করা হয়নি। এবার থেকে আটটি থিম ফোনে রং হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। নীল, কালো, সবুজ, বেগুনি, দারচিনি, ওশেন, স্পেস এবং অর্কিড অ্যাকসেন্ট কালারের একটি ব্যবহারকারী সেটিংস থেকে বেছে নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে পিক্সেল থিমস নামের একটি অ্যাপ থেকে নিজের মনমতো থিম হয়তো তৈরিও করা যাবে।

এই ফিচারটির সঙ্গে ওয়ানপ্লাসের থিম সিস্টেমের বেশ মিল আছে। অক্সিজেন ওএসের এ ফিচার ব্যবহারকারীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়, তাই হয়তো গুগল সেটির আদলে থিম সিস্টেম তৈরি করেছে।

 

লাইভ ক্যাপশন

ইউটিউবে ক্লোজড ক্যাপশন বা সাবটাইটেল সিস্টেম অনেকেই দেখেছেন। এ ফিচার এখন থেকে ফোনে থাকা ভিডিওতেও কাজ করবে। সাবটাইটেলগুলো ফোনে আলাদা করে ডাউনলোড করারও দরকার নেই। ভিডিওতে থাকা অডিও অ্যানালাইজ করেই ক্যাপশন নিজ থেকে তৈরি করে নেবে অ্যানড্রয়েড। ফিচারটি মূলত বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে যাদের ইংরেজি বুঝতে একটু কষ্ট হয়, তাদেরও কাজে আসবে এ ফিচার। শুধু ভিডিও নয়, অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবা থেকে স্ট্রিম করা ভিডিওতেও এটি কাজ করার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তী আপডেটে সেটি চালু করা হবে। এমনকি গেইম, ভিডিও কলের মধ্যেও কাজ করবে লাইভ ক্যাপশন। প্রতিটি অডিও থেকেই পাওয়া যাবে সাবটাইটেল।

 

নতুন সাজে অ্যাপ পারমিশন, শেয়ার মেন্যু

অ্যাপগুলো ফোনের কী কী হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর কী কী তথ্য কাজে লাগাতে পারবে, তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারমিশন সিস্টেম নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এমনও হতে পারে, ব্যবহারকারী শুধু অ্যাপটি ব্যবহারের সময়ই চান, সেটি জিপিএস কাজে লাগাক, অন্য সময় ব্যবহার না করুক অথবা একবারই স্টোরেজ থেকে কোনো ফাইল অ্যাকসেস করুক, অন্য সময় অ্যাপটি যেন তা পড়তে না পারে। এমন সুবিধা এবার যুক্ত করা হচ্ছে পারমিশন ম্যানেজারে। অনেক ম্যাপ বা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ সরাসরি ব্যবহার না করা হলেও দেখা যাচ্ছে, ব্যবহারকারীদের লোকেশন ট্র্যাক করছে, কারণ ছাড়াই তাঁদের ফোনের ফাইলগুলো তাদের সার্ভারে পাঠাচ্ছে ফেইসবুক অ্যাপ, সেগুলো বন্ধ করতেই গুগলের এ উদ্যোগ। কোনো কিছু শেয়ার করতে গেলে দেখা যায়, অ্যানড্রয়েডের শেয়ার মেন্যু খুব ধীরে লোড হয় বা প্রচুর অপশনের ভিড়ে প্রয়োজনীয়টি হারিয়ে যায়। সেটি এবার ঠিক করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা যে শেয়ার অপশন সব সময় ব্যবহার করছেন, সেগুলো পিন করে রাখতে পারবেন, শেয়ারিং মেন্যুতে জনপ্রিয় অপশনগুলোই রাখা হবে সবার ওপরে। নতুন ইন্টারফেইসটি শেয়ার ফিচারের জনপ্রিয়তা আরো বাড়াবে বলে আশা করছে গুগল।

 

ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লের ফোনে চলবে

ফোনের ডিসপ্লে প্রযুক্তি বদলালে সেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে প্রয়োজন সিস্টেম থেকে সমর্থন। প্রথম যখন নচযুক্ত ডিসপ্লে বা ১৮:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও ব্যবহার শুরু হয়, তখন সব অ্যাপের ইন্টারফেইস নতুন করে সাজাতে হয়েছিল। এবার স্মার্টফোন দুনিয়ায় এসেছে নতুন দিগন্ত ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে। একটি ডিসপ্লের মধ্যেই হতে পারে একাধিক অ্যাপউইন্ডো, ডিসপ্লের আকার বদলে যাবে ভাঁজ খোলা বা বন্ধ করা অবস্থায়। এ ফিচার ঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অ্যাপের ইন্টারফেইস ছোট-বড় করা, অ্যাসপেক্ট রেশিও বদলানো, একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালনার মতো সিস্টেম এপিআই এবার যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতের ফোনগুলো ব্যবহার করা হবে আরো সহজে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা