kalerkantho

গেইম খেলে কোটিপতি

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গেইম খেলে কোটিপতি

২৮ জুলাই হয়ে গেল এ সময়ের জনপ্রিয় অনলাইন গেইম ‘ফর্টনাইট’-এর প্রথম ওয়ার্ল্ড কাপ। তাতে একক প্লেয়ার হিসেবে ২৫ কোটি টাকা জিতে নিয়েছে ১৬ বছরের কিশোর কাইল গিয়েরসডর্ফ। কোনো গেইমিং প্রতিযোগিতায় এই পরিমাণ অর্থ জেতা একটা রেকর্ডই বটে। লিখেছেন এস এম তাহমিদ

 

এখনো অনেকেই ভিডিও গেইমকে শিশুতোষ বিনোদন মনে করে। কিন্তু সেটা যে কবেই পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, তার খোঁজ হয়তো অনেকের কাছেই নেই। অনেক দিন ধরেই ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘ডটা ২’ বা ‘লিগ অব লেজেন্ডস’-এর মতো গেইমগুলো। সেসবের মধ্যে এবার যোগ দিয়েছে ব্যাটল রয়াল ঘরানার গেইম ‘ফর্টনাইট’। প্রথম বিশ্ব ফর্টনাইট চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সী মার্কিন বালক কাইল গিয়েরসডর্ফ জিতে নিয়েছে ২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ফর্টনাইট গেইমটির নির্মাতা ‘এপিক গেইমস’ নিজেরাই আয়োজন করেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। সব মিলিয়ে চারটি বিভাগে টুর্নামেন্টটি খেলা হয়েছে। এর মধ্যে সলো বা একা খেলার ম্যাচে বিজয়ী হয়েছে কাইল। এ ছাড়া ছিল দুজনের দল করে খেলা, সেটিতে জয়ী হয়েছেন এমিল বার্গকুইস্ট এবং ডেভিড ডাব্লিউ। ক্রিয়েটিভ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ফেইস সিজরস ও তাঁর দল। সেলিব্রিটি প্রো-অ্যাম ম্যাচে জিতেছেন এয়ারওয়াকস এবং আরএল গ্রাইম। সেলিব্রিটি ম্যাচের পুরস্কারের পরিমাণ ছিল আট কোটিরও বেশি টাকা, যা দাতব্য সংস্থায় দান করা হয়।

ফর্টনাইট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রতিটি আসন ছিল পূর্ণ। স্টেডিয়ামের ১৯ হাজার দর্শকের বাইরেও ইউটিউব এবং অনলাইন স্ট্রিমিং সেবা টুইচে টুর্নামেন্টটি দেখেন আরো ২৩ লাখ মানুষ।

একক ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাইল ছোটবেলা থেকেই গেইমিংয়ের বিশাল ভক্ত। অন্যান্য কিশোরের মতোই মা-বাবার কাছে এ জন্য কম বকুনি শুনতে হয়নি। তার পরও সে গেইমিং থেকে সরে আসেননি, যার ফল আজকের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। এ ব্যাপারে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আধা ঘণ্টা ওয়ার্ম আপ করে তবেই ফর্টনাইট অনুশীলন শুরু করতাম। প্রতিদিন কী কী অনুশীলন করব, তা-ও ছক করা আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গেইমিং আর অন্যান্য খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু অনুশীলন ও শৃঙ্খলা ছাড়া দুটি ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ার গড়া অসম্ভব। ফর্টনাইট গেইমটি বিশ্বব্যাপী অনেক গেইমার খেললেও, সেটি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অনুশীলন করেন খুব কম ব্যক্তিই। ফলে পেশাদার গেইমারের সংখ্যা আশানুরূপভাবে বাড়ছে না।’ 

ফর্টনাইট ওয়ার্ল্ড কাপের প্রাথমিক খেলাগুলো শুরু হয় মার্চ মাসে। কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলো এপ্রিল থেকে একে একে চলতে থাকে। প্রতি সপ্তাহে যাঁরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তাঁরা পেয়েছেন পয়েন্ট। সর্বোচ্চ পয়েন্টধারীরাই শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার সুযোগ পান।

বিশ্বজুড়ে ছয়টি অঞ্চল মিলিয়ে চার কোটি গেইমার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের থেকে বাছাই করে শেষ পর্যন্ত ১০০ জন একক গেইমার এবং ৫০টি জোড়া দল বাছাই করা হয়।

ফর্টনাইট একটি ব্যাটল রয়াল ঘরানার গেইম। এখানে একটি এলাকায় সর্বমোট ১০০ জন গেইমারকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তারা এককভাবে বা দল হিসেবে বাকি সবাইকে দমন করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই করে। গেইমাররা কাঠ কেটে, পাথর ভেঙে দেয়াল, বাড়ি, সিঁড়ি বা মনের মতো নানা ধরনের স্থাপনা তৈরি করতে পারেন। এভাবে অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিয়েটিভিটিও গেইমপ্লের অংশ হওয়ায় অনেক গেইমারই পাবজির চেয়ে ফর্টনাইটকেই বেশি পছন্দ করেন।

মন্তব্য