kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

এলো গুগল কারেন্টস

গুগল প্লাসের বিকল্প অ্যাপ ‘কারেন্টস’ নিয়ে আসছে গুগল। কী আছে এতে? ‘কারেন্টস’ কি পারবে গুগল প্লাসের বিকল্প হতে? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন এস এম তাহমিদ

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলো গুগল কারেন্টস

অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল গুগলের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেবা—‘গুগল প্লাস’। কখনোই তেমন জনপ্রিয়তা না পাওয়া এ সেবা সাম্প্রতিক সময় দুর্বল নিরাপত্তা এবং বড় মাপের হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর গুগল সেটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে না গুগল প্লাস। ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য সেটি ফিরে আসছে ‘গুগল কারেন্টস’ নামে।

পুরনো ব্যবহারকারীদের মনে থাকতে পারে, আগেও ‘গুগল কারেন্টস’ নামে একটি সেবা ছিল। তার সঙ্গে অবশ্য নতুন সেবার কোনো মিল নেই। যাঁরা গুগলের এন্টারপ্রাইজ সেবা জি-স্যুট ব্যবহার করছেন, তাঁরা ভার্চুয়াল অফিস বা ওয়ার্কপ্লেস তৈরির জন্য গুগল কারেন্টস ব্যবহার করতে পারবেন। মূলত ফেইসবুকের ‘ওয়ার্কপ্লেস’ ফিচারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্যই এ সেবার জন্ম।

গুগল কারেন্টসের মাধ্যমে একই কর্মক্ষেত্রের সব কর্মকর্তা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন। যেভাবে একই বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করার জন্য গুগল প্লাসে খোলা যেত গ্রুপ, সেভাবে অফিসের প্রজেক্টের জন্যও তৈরি করা যাবে কারেন্টস গ্রুপ। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা গ্রুপে করা হলে সবাই সহজে আপডেট থাকতে পারবেন, সে চিন্তা থেকেই এটি তৈরি। ধারণা করা হচ্ছে, গুগল প্লাসের পরিচিত গ্রুপ তৈরির ফিচার ‘সার্কেল’ ব্যবহার করে একই অধিদপ্তরের সবাই সংযুক্ত থাকতে পারবেন। সঙ্গে থাকছে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি চ্যাট করার সুবিধা বা গ্রুপে ভিডিও কল করার উপায়ও। যদিও চ্যাট বা কলের ফিচারটি সম্ভবত গুগল হ্যাংআউটসের মাধ্যমে দেওয়ার চিন্তা করছে গুগল।

তবে এন্টারগ্রাইজ বাজারে সুবিধা করে নেওয়া গুগলের পক্ষে সহজ হবে না। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম সেবায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘স্ল্যাক’। তাদের সেবা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড়সড় কম্পানি আজ ব্যবহার করছে। জি-স্যুটের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫ পিছিয়ে নেই, তাদের ‘টিমস’ সেবার সর্বশেষ আপডেট স্ল্যাকের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে। সেদিক থেকে গুগল একেবারেই নবীন, নতুন গ্রাহক পেতে তাদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। এন্টারপ্রাইজ বাজারে নিজেদের অবস্থান করে নিতে হলে গুগলকে নিরাপত্তার দিকে আরো বাড়তি নজর দিতে হবে।

গত বছর গুগল প্লাসের প্রায় পাঁচ লাখ ব্যবহারকারীর গোপনীয় তথ্য হ্যাকাররা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরই তারা গুগল প্লাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে একই সেবা এবার কম্পানির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যবহারের জন্য তারা বাজারজাত করার চেষ্টা করছে। আবারও তথ্য ফাঁস হবে না, সে নিশ্চয়তার প্রমাণ গুগলকে অবশ্যই দিতে হবে।

ভবিষ্যতে গুগল আবারও হয়তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেবার বাজারে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। এর আগে তারা ‘গুগল ওয়েভ’ আর ‘অরকুট’ নামে এ বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আপাতত এটা পরিষ্কার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে ফেইসবুক আরো কিছুদিন একচ্ছত্র ব্যবসা চালিয়ে যাবে।

মন্তব্য