kalerkantho

আকর্ষণের কেন্দ্রে এই ১০ সেট

বছরের শুরুতেই হয়ে গেল ‘স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা’। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন প্রদর্শন করা হয়। ২০১৯-এর প্রথম ভাগ বাজার মাতাবে এই স্মার্টফোনগুলোই। এমন ১০টি স্মার্টফোনের বিস্তারিত লিখেছেন ইমরান হোসেন মিলন

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আকর্ষণের কেন্দ্রে এই ১০ সেট

হুয়াওয়ে ওয়াই নাইন ২০১৯

ডিজাইনে নতুনত্ব থাকায় সবার নজর কেড়েছে ওয়াই নাইনের ২০১৯ সংস্করণ। ফোনটিতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৭১০ অক্টাকোর চিপসেট। রয়েছে নচযুক্ত ১০৮০ বাই ২৩৪০ পিক্সেলের ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি ফুলভিউ ডিসপ্লে ব্যাকআপের জন্য ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির র‌্যাম ৪ জিবি ও রম ৬৪ জিবি।

ডুয়াল সিমের ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আছে অ্যানড্রয়েড ওরিও ৮.১। ফোনটির পেছনে রয়েছে ১৩ ও ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা। সামনে রয়েছে ১৬ ও ২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।

 

টেকনো

টু প্রো, টু পাওয়ার এবং টু পপ সিরিজের তিন স্মার্টফোন নিয়ে মেলায় আছে টেকনো। ডিজাইনে সাদৃশ্য থাকলেও ফিচারে কিছু পরিবর্তন রয়েছে। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে পপ টু প্রো। এতে আছে ৫.৫ ইঞ্চির ফুলভিউ ডিসপ্লে। রেজল্যুশন ৯৬০ বাই ৪৮০ পিক্সেল। সামনে আছে ৮ মেগাপিক্সেল এবং পেছনে ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। ফেইস আনলক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লকের ফোনটিতে রয়েছে এক জিবি র‌্যাম এবং ১৬ জিবি স্টোরেজ সুবিধা। মাইক্রো এসডি ব্যবহার করে আরো বাড়ানো যাবে স্টোরেজ। অ্যানড্রয়েড ৮.১ ওপারেটিং সিস্টেমচালিত ফোনটিতে ব্যাকআপ সুবিধা দিতে রয়েছে ৩০৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।

 

স্যামসাং এ৭

গ্যালাক্সি এ৭-এ রয়েছে ৬ ইঞ্চির ফুলএইচডি+ সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। রেজল্যুশন ১০৮০ বাই ২২২০ পিক্সেল। ১৬৮ গ্রাম ওজনের ফোনটিতে দুই সিমও ব্যবহার করা যাবে।

ডিভাইসটির অক্টাকোর প্রসেসরের সঙ্গে রয়েছে ৪ জিবি র‌্যাম ও ৬৪ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি। চাইলে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে ৫১২ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে। ফোনটির পেছনে রয়েছে তিনটি রিয়ার ক্যামেরা। যার একটি ২৪ মেগাপিক্সেল, অন্যটি ৮ এবং আরেকটি ৫ মেগাপিক্সেলের। ব্যাটারি ৩৩৮০ এমএএইচের।

 

ভিভো ওয়াই৯৫

মেলায় ‘ভিভো ওয়াই৯৫’ মডেলের ফোনটির নতুন সংস্করণ এনেছে ভিভো। এর অরোরা রেড সংস্করণটি দর্শক টানছে বেশি। ৬ দশমিক ২২ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনটির রেজল্যুশন ৭২০ বাই ১৫২০ পিক্সেল। অ্যানড্রয়েড ৮.১ ওরিও চালিত ফোনটিতে আছে ১২ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৪৩৯ চিপসেট।

চার জিবি র‌্যাম ও ৬৪ জিবি রমের হ্যান্ডসেটের মেমোরি কার্ডের সাহায্য্যে বাড়ানো যাবে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত। এলইডি ফ্ল্যাশসহ পেছনে ১৩ ও ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা এবং সামনে ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে। ডুয়াল সিমের ডিভাইসটির ব্যাটারি ৪০৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের। অরোরা রেড ছাড়াও ফোনটি স্টারি নাইট ও নেবুলা পার্পেল কালারে পাওয়া যাচ্ছে।

 

উই 

কম দামের হ্যান্ডসেট দিয়ে গ্রাহক টানছে উই। বেশি চলছে ‘উই আর৪’ মডেলটি। ফোনটিতে রয়েছে ৫ ইঞ্চির আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, রেজল্যুশন ৭২০ বাই ১২৮০ পিক্সেল। ডুয়াল সিমের ফোনটিতে রয়েছে দুই জিবি র‌্যাম এবং ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি। চাইলে বাড়ানো যাবে ৬৪ জিবি পর্যন্ত। অ্যানড্রয়েড ৮.১ ওরিও চালিত হ্যান্ডসেটটিতে রয়েছে মিডিয়াটেকের এমটি৬৭৩৯ প্রসেসর। সামনে পাঁচ ও পেছনে আট মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে ফোনটিতে। ব্যাটারি ২৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের।

 

মটরোলা ওয়ান

গত সপ্তাহ থেকে অনলাইনে বিক্রি হলেও মটরোলা ওয়ান সরাসরি বিক্রি শুরু হয়েছে মেলা থেকেই। ৫ দশমিক ৯ ইঞ্চি ডিসপ্লের ডিভাইসটির রেজল্যুশন ১৫৭০ বাই ৭২০ পিক্সেল। প্রসেসর রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ চিপসেট। পেছনে ১৩ ও ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল রিয়ার ও সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। ৪ জিবি র‌্যামের ফোনটির ইন্টারনাল মেমোরি ৬৪ জিবি। মাইক্রোএসডি কার্ডের সাহায্যে বাড়ানো যাবে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত।

ব্যাকআপ সুবিধা দিতে রয়েছে নন রিমুভেবল ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। রয়েছে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। যে কারণে ফোনটি মাত্র ২০ মিনিটের চার্জে টানা ৬ ঘণ্টা কথা বলা যাবে। ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে অ্যানড্রয়েড ওয়ান।

 

আইটেল এস১৩ প্রো

মেলায় ‘আইটেল এস১৩ প্রো’ মডেলের ফোন এনেছে টেকনো। ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনটির রেজল্যুশন ৭২০ বাই ১২৮০ পিক্সেল। অ্যানড্রয়েড ৮.১ ওরিও অপারেটিং সিস্টেমের ফোনটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক এমটি৬৫৮০ চিপসেটের প্রসেসর।

২ গিগাবাইট র‌্যাম ও ৬৪ জিবি রমের হ্যান্ডসেটটির মেমোরি বাড়ানো যাবে ৩২ জিবি পর্যন্ত। এলইডি ফ্ল্যাশসহ পেছনে ৫ ও ০.৩ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা এবং সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে। ব্যাটারি ২৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের। কালো ও লাল রঙে পাওয়া যাচ্ছে ডিভাইসটি। ডুয়াল সিম সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে ফেইস আনলক, ব্লুটুথ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুবিধা।

 

নকিয়া

মেলায় এইচএমডি গ্লোবাল উন্মোচন করল নকিয়া ৮.১ মডেলের স্মার্টফোন। নচসহ ৬.১ ইঞ্চি ডিসপ্লের ডিভাইসটির রেজল্যুশন ১০৮০ বাই ২২৮০ পিক্সেল। এর প্রসেসর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৭১০ এবং অপারেটিং সিস্টেম স্টক অ্যানড্রয়েড পাই।

৪ ও ৬ গিগাবাইট র‌্যামের সংস্করণে ডিভাইসটির স্টোরেজেও পার্থক্য রয়েছে—৬৪ ও ১২৮ গিগাবাইট। মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করে ধারণক্ষমতা বাড়ানো যাবে ৪০০ গিগাবাইট পর্যন্ত। ব্যাকআপ সুবিধা দিতে আছে সাড়ে তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। আছে ফাস্ট চার্জ সুবিধা। ছবি তোলার জন্য পেছনে রয়েছে ১.৮ অ্যাপারচারের ১২ ও ১৩ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা সেটআপ। ক্যামেরাগুলো দিয়ে ফোরকে ভিডিও রেকর্ড করা যায়। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

 

ইউমিডিজি

অল্প সময় দেশের বাজারে এসেই ভালো সাড়া ফেলেছে ইউমিডিজি। কম দামের মধ্যে ভালো মান ও ডিজাইন দিয়ে বাজার ধরেছে তারা। মেলা থেকেই বিক্রি শুরু করেছে নতুন মডেল ‘ওয়ান প্রো’। এতে আছে ৫ দশমিক ৯ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে ও ৪ডি কার্ভ গ্লাস বডি। রয়েছে ১.৫ গিগাহার্জ হেলিও অক্টাকোর পি২৩ ফোরএক্স কর্টেক্স-এ৫৩ চিপসেটের প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট র‌্যামের পাশাপাশি ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি। তোলার জন্য পেছনে রয়েছে ১২ ও ৫ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে এফ/২.০ অ্যাপারচারসহ ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

ওয়্যারলেস চার্জিং ও ফাস্ট চার্জিং সুবিধাসহ দীর্ঘ ব্যাকআপ দিতে রয়েছে ৩৫৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।

 

আইফোন ১০ এক্স ম্যাক্স

ডিসপ্লোইজ যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮ ও ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি। ৪৫৮ পিপিআই ও এলইডি এইচডিআর ডিসপ্লে রয়েছে এতে। এ১২ বায়োনিক চিপসেটের ৭ ন্যানোমিটারের প্রসেসরটি আগের এ১১ চিপ থেকে ৩০ শতাংশ দ্রুতগতির।

পেছনের ১২ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরার একটি ওয়াইড লেন্স, আরেকটি টেলিফটো। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে ৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। অ্যাপলের দাবি, ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে আইফোন ১০-এর তুলনায় উন্নত মানের প্রোটোটাইপ ছবি তোলা যায়। ২ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট ব্যবহার করা যায় ডিভাইসটি।

মন্তব্য