kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

আসছে ভাঁজের যুগ

১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসছে ভাঁজের যুগ

অনেক গুঞ্জন, অনেক অপেক্ষা, অনেক আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসছে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের যুগ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরেই দেখা যাবে এ ধরনের ডিভাইস। নতুন ধরনের এই ডিভাইসটির নানা দিক নিয়ে লিখেছেন মিজানুর রহমান

 

স্মার্টফোন যুগের আগের স্লাইডিং আর ফোল্ডেবল ফোনগুলোর কথা মনে আছে? একপাশে কি-বোর্ড আর অন্য পাশে ডিসপ্লে! স্লাইডিং বা ফোল্ডেবল—যা-ই হোক না কেন, দুই ভাগের ফোনগুলোর আবেদনই ছিল অন্য রকম। আবার হাতছানি দিচ্ছে সেই ‘ফোল্ডেবল’ ডিভাইস। তবে এবার আর সাধারণ নয়, স্মার্টফোনেই মিটবে ‘ফোল্ডেবল’ আবেদন। পূর্ণোদ্যমে এগিয়েও চলেছে কাজ। সবচেয়ে এগিয়ে স্যামসাং। গত মাসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তাদের উন্নয়ন করা ভাঁজ করা স্মার্টফোন প্রদর্শনও করেছে তারা। এলজি, হুয়াওয়ে, অপোও হাঁটছে একই পথে।

 

কেন এমন স্মার্টফোন

এখনকার মানসম্পন্ন স্মার্টফোনগুলোর কম্পিউটিং ক্ষমতা ল্যাপটপের কাছাকাছি। ঘাটতিটা রয়ে গেছে ডিসপ্লের আকারে। এদিকে মোবাইলে ভিডিও দেখার হার বাড়ার কারণে বড় ডিসপ্লের চাহিদা বাড়ছে। বড় ডিসপ্লের চাহিদা মেটাতে ট্যাবলেট কম্পিউটার তৈরিতে জোরেশোরেই নেমেছিলেন নির্মাতারা। প্রথমে ভালো চললেও ব্যবহারকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে ধারণার তুলনায় অনেক কম সময়েই। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, পকেট বা হাতব্যাগে পুরে ঘুরে বেড়ানো অর্থাৎ বহন সহজ নয় বলেই দ্রুত বাজার হারিয়েছে এ ধরনের ডিভাইস।

এদিকে স্মার্টফোনের ডিসপ্লে বড় করে সাড়া পাওয়া গেল বেশ। তাই ট্যাবলেট ছেড়ে বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোন তৈরিতে মনোযোগ বাড়াল নির্মাতারা। বাজারে এখন ৫ ইঞ্চির কম ডিসপ্লের স্মার্টফোন দেখা যায় না বললেই চলে। কোনো কোনোটির আকার তো সাড়ে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত। তবে এর চেয়ে আকার বড় করলে ফিরে আসবে ট্যাবের মতো বহনের সমস্যা। তাই বডির আকার আর না বাড়িয়ে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও কমানোর প্রাণান্ত চেষ্টা নির্মাতাদের। ডিসপ্লের আকার বড়—তা বোঝাতে বিজ্ঞাপনে এখন ‘ব্যাজেলহীন’ শব্দটির ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। অনেক ফোনের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও পৌঁছে গেছে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। এর চেয়ে আর বাড়ানো প্রায় অসম্ভব।

‘বড় ডিসপ্লের চাহিদা মেটাতে এরপর কী?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পাওয়া গেছে ‘ভাঁজ করা’ ডিসপ্লের ধারণা। আর এই ধারণা এখন বাস্তব হয়ে আমজনতার হাতে পৌঁছানোর পথে।

 

পেছনের প্রযুক্তি

ফ্লেক্সিবল ও এলইডি উদ্ভাবনে স্মার্টফোনে ভাঁজ করা ডিসপ্লে ব্যবহার নিয়ে আসল বাধা দূর হয়েছে। শুরু হয়ে গেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। প্রথমে এক পাশে, পরে দুই পাশে বাঁকিয়ে ডিভাইসে ব্যবহার করে সফল হয়েছে স্যামসাং। ভাঁজ ফেলা যাচ্ছে মাঝেও। ফ্লেক্সিবল ও এলইডি ডিসপ্লের কারণেই সম্ভব হয়েছে বিষয়টি। অপারেট করার জন্য গুগল-স্যামসাং মিলে তৈরি করছে ‘বিশেষ’ অ্যানড্রয়েড।

 

সম্ভাবনা কতটুকু?

নতুন ধারার এই মোবাইল ডিভাইস গ্রাহকদেরই চাওয়া। তাই ব্যবসাসফল হবে—এমনটা মনে করছে বেশির ভাগ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

নেতিবাচক মতও রয়েছে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, স্মার্টফোন যুগের আগের ভাঁজ করা ফোনগুলো দ্রুত নষ্ট হতো বলে বাজার পায়নি। আরো কিছু সমস্যার সমাধান ভেবে বাজারে আসা উচিত বলে মনে করছে এই ধারণা পোষণকারীরা।

 

— ফোনটির স্ক্রিনের ওপর প্রটেক্টর লাগানো যাবে না, বিশেষ করে ভাঁজ পড়ার স্থানটি কিভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

 

— কার্নেগি ম্যালন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস হ্যারিসন মনে করেন, বারবার খোলা ও বন্ধ করা যেকোনো একধরনের ক্ষয়ের জন্ম দেবে। অর্থাৎ ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেখানে দাগও পড়তে পারে।

 

— সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে কি না? কারণ এরই মধ্যে বাজারে রটেছে দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে স্যামসাংয়ের ভাঁজ করা স্মার্টফোনটির দাম!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা