kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

গুগলে ‘কর্ম’ সন্ধান

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



গুগলে ‘কর্ম’ সন্ধান

গুগলে কর্মরত বাংলাদেশি ভিকি রাসেলের উদ্যোগে তৈরি হলো চাকরি খোঁজার বিশেষায়িত অ্যাপ ‘কর্ম’। শুরুতে শুধু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্যই কাজ করবে অ্যাপটি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আল-আমীন দেওয়ান

গুগলের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যখন বাংলাদেশের বাজার দিয়ে কোনো প্রকল্প চালু করে তখন বিস্মিতই হতে হয়। তবে এর পেছনে কোনো বাংলাদেশির ‘হাত’ রয়েছে জানতে পারলে বিস্ময়ের জায়গাটা নেয় গর্ব। দেশের সেই ছেলের নাম ভিকি রাসেল। প্রায় এক দশক ধরে কাজ করছেন গুগলে। তাঁর উদ্যোগেই গুগলের হয়ে বাজারে এলো চাকরি খোঁজার অ্যাপ ‘কর্ম’।

সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ‘কর্ম’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীতে ভিকি রাসেল বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বেশি। চাকরিপ্রার্থীদের দলে প্রতিবছর যুক্ত হয় কয়েক লাখ তরুণ। তাদের বড় একটি অংশই জানে না কোথায় চাকরি, কেমন যোগ্যতা লাগবে আর আবেদন করার পথই বা কোনটা।

অন্যদিকে যাঁরা চাকরি দেবেন তাঁরাও কাঙ্ক্ষিত কর্মীটি খুঁজে পেতে হিমশিম খান। চাকরির চুক্তি, বেতন, শর্ত ও সুবিধার মতো বিষয়গুলোও আরো অস্পষ্ট। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ‘কর্ম’র যাত্রা শুরু।

 

আতুড়ঘরের কথা

গুগলে জন্ম নেওয়া সম্ভাবনাময় নতুন আইডিয়াগুলোর বেড়ে ওঠার জায়গা হচ্ছে এরিয়া ১২০ (www.area120.com)। এখানে গুগলকর্মীদের ছোট ছোট দল এক হয়ে কাজ করে। কর্মীদের বিভিন্ন আইডিয়ার ‘ভবিষ্যৎ’ কেমন তা বুঝতে চলে গবেষণা ও যাচাই। মূল আইডিয়াগুলোর পরিসর ছোট করে এনে (আইডিয়ার প্রটোটাইপ) বিচার করা হয় সক্ষমতা। আইডিয়াগুলোকে পরিণত হতে দেওয়া হয় যথাযথ সহায়তা। বাংলাদেশের বাজার মাথায় রেখে তৈরি অ্যাপভিত্তিক জব মার্কেটপ্লেসের ধারণাটিও ২০১৬ সালের শেষভাগে চলে যায় গুগলের এরিয়া ১২০-এ। এটি ছিল এরিয়া ১২০-র প্রথম দিককার প্রকল্প। ‘কর্ম’ নামটি তখনো পায়নি ভিকি রাসেলের চাকরির এই অ্যাপ। ২০১৭ সালের শেষ দিকে অ্যাপের প্রথম সংস্করণ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সময় দেওয়া হয় নামটি।

 

কর্ম দিয়ে পরিচয়

অ্যাপটির উদ্যোক্তারা জানালেন, ‘কর্ম’ নাম নেওয়া হয়েছে কাজের প্রতিশব্দ হিসেবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। লোগোতে একটি ঘুড়ি দেওয়া হয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সুযোগ এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ঘুড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে।

কর্ম এখনো শুধু বাংলাদেশেই চলছে। গ্রহণযোগ্যতা ভালো হলে অন্যান্য দেশে একে বিস্তৃত করার কথা ভাবা হতে পারে। কর্মের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। আর যুক্ত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি নিয়োগদাতা।

দেশে কর্মের মূল দলে আছেন ১২ জন। এ ছাড়া গুগলের স্বেচ্ছাসেবকরাও যুক্ত হচ্ছেন এর সঙ্গে। ঢাকায় ইয়াং বাংলা, বুমেরাং ডিজিটাল, ব্র্যাক, টেন মিনিট স্কুল, বাংলালিংক, ডন সামদানী ফ্যাসিলিটেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করেছে কর্ম। 

 

যেভাবে কাজ করে

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মেশিন লার্নিং’ ব্যবহার করে ‘বেস্ট ম্যাচ’ মডেলিংয়ে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য চাকরির সংযোগ করায় ‘কর্ম’। সাহায্য করে কর্মীর যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা চাকরিটিই খুঁজে দিতে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা উভয়ের জন্যই আছে টু-ওয়ে রেটিং সিস্টেম। যেমন—ইন্টারভিউ কল পেয়েও যথাযথভাবে উপস্থিত হন না এমন চাকরিপ্রার্থীর রেটিং খারাপ দেখাবে। আবার কেউ চাকরি পেয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রফাইল আপডেট হয়ে যাবে। ফলে ভালো-মন্দ দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন চাকরিদাতারা।

ভিকি রাসেল জানান, চাকরির প্রচলিত সাইটগুলো থেকে কর্ম কিছুটা আলাদা। দক্ষতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন বাড়াতে এই অ্যাপে বিষয়ভিত্তিক তথ্য (কন্টেন্ট) রয়েছে। ইন্টারভিউ উপস্থিতি, সফল নির্বাচন, সনদ, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ে রয়েছে বিস্তারিত তথ্য। চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা উভয়ের সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।

 

যেভাবে ‘কর্ম’ পাওয়া যাবে

ইন্টারনেট সংযোগ চালু অবস্থায় স্মার্টফোন থেকে গুগল প্লেস্টোরে গিয়ে Kormo সার্চ দিলে শুরুতেই পেয়ে যাবেন অ্যাপটি। সরাসরি যেতে পারেন https://play.google.com/store/apps/details?id=com.area120.kormo.seeker ঠিকানায়ও। এবার install আইকনে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন।

অ্যাপটি চালু হলে লগইন অপশনে গিয়ে মোবাইল নম্বরটি লিখুন। এখানে গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়েও লগইন করার সুযোগ রয়েছে।

মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর Set up your account আসবে। এখানে নিজের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বসবাসের ঠিকানা দিতে হবে। এরপর কর্ম সম্পর্কে কার কাছে বা কোথায় শুনেছেন, সে বিষয়ে কয়েকটি ঘর আসবে। যথাযথ উত্তর নির্বাচন করে দিলেই কর্মের নিবন্ধন হয়ে যাবে।

এরপর পেশা নির্বাচনের পালা। এখানে বিভিন্ন পেশা দেখাবে। আপনি যেগুলোতে আগ্রহী সেগুলো নির্বাচন করে দিন। এর পর থেকে আপনার সঙ্গে মানানসই চাকরির পোস্টগুলো আপনার অ্যাপে চলে আসবে।

সিভি তৈরির সুযোগও আছে। সিভিতে যত বেশি তথ্য থাকবে অ্যাপটি আপনার পছন্দ অনুযায়ী তত বেশি কাজের খোঁজ দেবে। আর এতে নিয়োগকর্তারা আপনার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাবে।

কর্ম সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে দু-একটিতে আবেদন করে ডাক না পেলেও মন খারাপের কিছু নেই। প্রার্থীর সিভি অনুয়ায়ী আকর্ষণীয় চাকরির পোস্ট তার কাছে আসতেই থাকবে। মাঝেমধ্যে তিনি সিভি আপডেট করে ও অ্যাপের খবধত্হ বিভাগে থেকে দক্ষতা বাড়ানোর কৌশল শিখে পরের ইন্টারভিউর জন্য আরো তৈরি হতে থাকবেন।

অ্যাপ ডাউনলোড, নিবন্ধন, প্রফাইল তৈরি ইত্যাদি কাজে কোনো সাহায্য দরকার হলে ০৯৬১৭০১৬৫৭৯ নম্বরে সরাসরি কল করা যাবে।

এ ছাড়া যোগাযোগ করা যাবে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে (www.facebook.com/messages/t/KormoApp) বা টুইটারে (twitter.com/KormoApp)।চাকরিদাতাদের জন্য

কর্মী নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে প্রথমে https://services.google.com/fb/forms/kormointerestform/ ঠিকানায় দেওয়া ফরম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। সাবমিটের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘কর্ম’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হবে। চাকরিদাতারা এখন পর্যন্ত বিনা মূল্যে সেবাটি পেলেও ভবিষ্যতে ‘সাবক্রিপশন ফি’ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুরুতে ঢাকার মধ্যেই ভালো মানের সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

 

সাধারণের চাকরিই বেশি

উচ্চ বেতন ও বড় পদের চাকরির খোঁজখবর খুব বেশি নেই এখানে। রিটেইল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যান্ড প্রমোশন, রেস্টুরেন্ট, হসপিটালিটি, ই-কমার্স, লজিস্টিকসের মতো চাকরির খবরই বেশি।

রয়েছে সেলসম্যান থেকে শুরু করে ডেলিভারি ম্যান, ড্রাইভার, গার্ড, সেবিকা, অফিস সহকারী, কাস্টমার কেয়ারের মতো নিম্ন-মধ্যম চাকরিগুলো।

কর্ম সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে ৮৬ শতাংশ নিয়োগ হয় এই ক্ষেত্রগুলোতে। তাই ‘কর্ম’ও শুরুতে এখানেই বেশি জোর দিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা