kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাই টেকসই ফোন

২৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



চাই টেকসই ফোন

আড়াআড়িভাবে পড়লে বা চোখা বস্তুতে আঘাত পেলে গরিলা গ্লাসও ভেঙে যেতে পারে। মডেল : সীমান্ত, প্রীতি ও ছোঁয়া। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

কারো ফোনে সেলফি ভালো ওঠে, কোনোটায় আবার ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি। কেউ কেউ দাবি করেন—তাঁদের ব্র্যান্ডের ফোনের গতি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পড়ে গেলে সহজে ভাঙবে না, ভিজে গেলেও নষ্ট হবে না—এমন বিষয় নিয়ে আওয়াজ তুলনামূলক কম। তবে বাজারের অনেক ফোনেই সুবিধাগুলো আছে। কোন প্রযুক্তির কারণে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, কোন ফোনে কী সুবিধা আছে, টেকসই ফোন কিনতে কোন বিষয়গুলো নজরে রাখা উচিত—এসব নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

 

ডিসপ্লের রকমফের

এখন স্মার্টফোনের ডিসপ্লে বলতে টাচস্ক্রিনই বোঝায়। স্বচ্ছ এই টাচস্ক্রিনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় কাচ। কম দামের কিছু স্মার্টফোনের স্ক্রিনে প্লাস্টিকও ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের স্কিনে স্ক্র্যাচ পড়ে সহজে। বিশেষ করে পকেটে রাখলে ক্রমাগত কাপড়ের ঘষায় ডিসপ্লে ঘোলা হয়ে যায়। এ ধরনের ডিসপ্লেতে রোদের আলো পড়লে তথ্য দেখাই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্লাস্টিক ডিসপ্লের কিছু সুবিধা আছে। প্লাস্টিক কাচের তুলনায় নমনীয় হওয়ায় চাপ খেলে বা হাত থেকে পড়ে গেলে সহজে ভাঙে না। বিশেষ করে ‘পলিকার্বোনেট’ প্লাস্টিকে তৈরি ডিসপ্লে বেশি টেকসই হয়। অনেক সময় হাতুড়ি দিয়ে আঘাতেও অক্ষত থাকে।

দাম অনুযায়ী স্মার্টফোনে শক্তপোক্ত গ্লাস ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ‘গরিলা’ ও ‘ড্রাগনটেইল’-র সুনাম বেশি। নাম ভিন্ন হলেও এই দুই ধরনের গ্লাসের গুণাগুণ একই ধরনের।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম আয়নের পরিবর্তে পটাসিয়াম ও অন্যান্য উপাদান গ্লাসে যুক্ত করায় গরিলা ও ড্রাগনটেইল গ্লাসগুলো বেশ শক্ত হয়। ফোন পকেটে রাখলে সংস্পর্শে আসতে পারে এমন জিনিস যেমন চাবি, পয়সা ও অন্যান্য ধাতব বস্তু গ্লাসে সহজে দাগ ফেলতে পারে না। এ ধরনের গ্লাসের ওপর তেলনিরোধী বা অলিওফোবিক প্রলেপ দেওয়া থাকে। ফলে ডিসপ্লে ময়লা হয় কম। দীর্ঘদিন স্বচ্ছও দেখায়। স্যামসাং, শাওমি, নকিয়াসহ অনেক ব্র্যান্ড গরিলা গ্লাস ব্যবহার করছে।

দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন ও সিম্ফনি ড্রাগনটেইল গ্লাসও ব্যবহার করে। উইনম্যাক্সের ফোনে পলিকার্বোনেট ডিসপ্লে দেখা যায়।

অনেকেরই ধারণা, গরিলা গ্লাস কোনোভাবেই ভাঙে না। বিষয়টি শতভাগ সঠিক নয়। আড়াআড়িভাবে পড়লে বা চোখা বস্তুতে আঘাত পেলে এ ধরনের গ্লাসও ভেঙে যেতে পারে। তবে গ্লাস ভাঙলেও কাচ ছিটে শরীরে আঘাতের আশঙ্কা কম। ভাঙা টুকরোগুলো সাধারণত ডিসপ্লের সঙ্গেই আটকে থাকে।

 

ফ্রেম ও বডির উপাদান এবং বিশেষত্ব

স্মার্টফোনের বডি বা ফ্রেম সাধারণত পলিকার্বোনেটেড প্লাস্টিকে তৈরি হয়। স্যামসাং কম ও মাঝারি দামের স্মার্টফোনে পলিকার্বোনেট ব্যবহার করে। নমনীয় প্লাস্টিক হওয়ায় সহজে না ভাঙলেও স্ক্র্যাচ পড়ার সুযোগ আছে।

অ্যালুমিনিয়াম দিয়েও কিছু ফোনের বডি তৈরি হয়। এ ধরনের স্মার্টফোনে সহজে স্ক্র্যাচ পড়ে না। হাত থেকে পড়লে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে কম। অ্যালুমিনিয়ামের মধ্যে আবার বিভিন্ন গ্রেড আছে।

সম্প্রতি স্বল্প পরিসরে সিরামিক বডিও ব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের বডিতে একেবারেই স্ক্র্যাচ পড়ে না। সহজে ভাঙেও না।

 

ক্যামেরা ও অন্যান্য অংশ

স্মার্টফোনে বেশি স্ক্র্যাচ পড়ে ক্যামেরা, ফ্ল্যাশ আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে। অধিকাংশ ফোনের ফ্ল্যাশ তাই প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো থাকে। অন্যদিকে ক্যামেরার ওপরে গরিলা গ্লাস আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে ব্যবহার করা হয় সিরামিক।

 

পানি ও ধুলানিরোধী

বর্তমানে বেশির ভাগ স্মার্টফোনেই পানি ও ধুলা প্রতিরোধের প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। আইপি বা ইনগ্রেস প্রটেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে এই মান বোঝানো হয়। যেসব ফোন পানিনিরোধী সেগুলোর স্পেসিফিকেশনে আইপি নম্বর দেওয়া থাকে। দুটি সংখ্যার এই নম্বরের প্রথমটি ধুলা আর পরেরটি পানি থেকে ফোনটি কতটুকু নিরাপদ থাকবে তা নির্দেশ করে। যেমন—আইপি ৫ বা আইপি ৬-এর মাধ্যমে বোঝানো হয় স্মার্টফোনটির মধ্যে ধুলা ঢুকতে পারবে না। আর আইপি৬৭ বা আইপি৬৮-এর মাধ্যমে জানানো হয় ধুলার পাশাপাশি পানিতেও সমস্যা হবে না।  

 

নিরাপত্তা নিশ্চিত

ডিসপ্লে বাঁচাতে সাধারণত প্রটেক্টর ব্যবহার করা হয়। আগে প্লাস্টিকের নমনীয় প্রটেক্টর জনপ্রিয় হলেও হাল আমলে ‘টেম্পার্ড গ্লাস’ ব্যবহারে ঝুঁকছেন অনেকে। এ ধরনের প্রটেক্টরের মধ্যেও আছে রকমফের।

দামভেদে এই প্রটেক্টরগুলো গ্লাস ও শক্ত পলিকার্বোনেটে তৈরি হয়। আঠার বদলে স্থির বিদ্যুতের মাধ্যমে স্মার্টফোনের গ্লাসের সঙ্গে এই প্রটেক্টরগুলো আটকে থাকে। তাই বারবার খুলেও লাগানো যায়।

কম দামের টেম্পার্ড গ্লাসের দাম ১০০ টাকা থেকে শুরু। এগুলো বেশ নিম্নমানের, অল্প চাপেও ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে নতুন ফোনগুলোতে ২ দশমিক ৫ডি প্রযুক্তির গ্লাস থাকায় এ প্রটেক্টরগুলো ডিসপ্লের কোনার দিক থেকে খুলে যায়।

মানসম্পন্ন টেম্পার্ড গ্লাসের দাম ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকা মধ্যে। স্মার্টফোনের মডেলের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হওয়ায় এগুলো ডিসপ্লে থেকে খুলে যায় না। অনেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেই কভার বা কেইস কিনে ফেলেন। এতে ঠকার আশঙ্কা থাকে।

নরম রাবার, কাপড় বা পলিইউরাথিনে তৈরি কেইস কেনা উচিত। নাহলে কেইস থেকেও ফোনে দাগ পড়তে পারে। অতিরিক্ত মোটা কেইসের কারণে ফোন ‘ওভারহিট’ হয়ে যেতে পারে। চেষ্টা করা উচিত হালকা-পাতলা গড়নের কেইস ব্যবহার করার। রাবারের ওপর অ্যালুমিনিয়াম বডি দেওয়া হলে তা হাত পিছলে পড়ে যাওয়ার থেকেও বাঁচাতে পারবে।

কিছু প্রতিষ্ঠান আজকাল মোটাসোটা শক্তপোক্ত ‘রাগেড’ কেইস তৈরি করছে। এগুলো স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত রাখলেও পকেটে পুরতে বেগ পেতে হয়। স্মার্টফোনকে পানি ও ধুলা থেকেও রক্ষা করতে পারে কিছু কেইস। আরবান আরমর ও অটারবক্স এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়।

ব্যাগের মধ্যে রেখেও স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে। পানিনিরোধী এসব স্বচ্ছ ব্যাগের দাম ৩৫০ টাকা থেকে শুরু।

ক্যামেরার লেন্স নিরাপদ রাখার জন্যও পাওয়া যায় গ্লাস প্রটেক্টর, দাম পড়বে ৪০ থেকে ১০০ টাকা। ডুয়াল ক্যামেরা স্মার্টফোনের জন্য গ্লাস প্রটেক্টরগুলো বেশ কাজে দেবে। টেম্পার্ড গ্লাস আর কেইসের জন্য আছে নিলকিন, অর্জলি, অটারবক্স, জিকেকে, মোফি, ব্যাসাস আর রিম্যাক্সের মতো কিছু নামি ব্র্যান্ড।

নকশা ও মডেলভেদে এসব পণ্যের দাম ৩০০ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাওয়া যাবে রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন মার্কেটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা