kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ডাটা সেন্টার থেকে গরম পানিও পাওয়া যায়

ইন্টারনেটের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ডাটা সেন্টারগুলো। সেলফি আপলোড করতে, ভিডিও স্ট্রিম করতে বা অনলাইনে চ্যাট করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়। আর এসব সার্ভার থেকে উৎপন্ন হয় বিপুল পরিমাণ তাপ। প্রায়ই এই তাপীয় শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তবে ডেনমার্কের একটি ডাটা সেন্টারের কল্যাণে স্থানীয় অধিবাসীদের বাড়িতে গরম পানি এবং উষ্ণতা সরবরাহ করা যাচ্ছে। কিভাবে? জানাচ্ছেন আল সানি

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাটা সেন্টার থেকে গরম পানিও পাওয়া যায়

মনে করুন টিকটক বা ফেসবুকে ভিডিও দেখবেন আপনি। আপনার মোবাইলে থাকা প্লে বোতাম চাপ দেওয়া থেকে সেই ভিডিও চালু হওয়ার মাঝে যে কয়েক মিলিসেকেন্ড সময় থাকে, সেটুকু সময়ের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তিতে ঘটে যায় অনেক কিছুই, হয়তো আমরা সেটি টেরও পাই না। আপনার ভিডিও দেখতে চাওয়ার কমান্ডটি সঙ্গে সঙ্গে লোকাল আইএসপি থেকে ইন্টারন্যাশনাল আইএসপি-এর মধ্য দিয়ে চলে আসে নির্দিষ্ট ডাটা সেন্টারে। সেখান থেকে ভিডিও দেখার রিকুয়েস্ট প্রসেস হয়ে ভিডিওটির ডিজিটাল ডাটা আবার সেভাবেই চলে যায় আপনার হাতে থাকা ডিভাইসে।

বিজ্ঞাপন

আর এর পরেই আপনি ভিডিওটি দেখতে পান। কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে ঘটা পুরো প্রক্রিয়াটি যেখানে প্রসেস হয় সেই ডাটা সেন্টারকে দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের সাত দিনই চালু রাখা হয়। এতে একদিকে যেমন খরচ হয় প্রচুর বিদ্যুৎ, তেমনি উৎপন্ন হয় প্রচুর তাপও। মানুষ যত বেশি ভিডিও দেখবে, যত বেশি চ্যাট করবে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করবে, তত বেশি তাপ উৎপন্ন হবে। সাধারণত একটি ডাটা সেন্টারের তাপমাত্রা ৮০ থেকে ১১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে। এই তাপমাত্রাকে সর্বদা সহনীয় মাত্রায় রাখার জন্য ডাটা সেন্টারে থাকে কুলিংয়ের ব্যবস্থা। কিছু সেন্টারে এয়ারকুলিং ব্যবস্থা থাকলেও অনেকেই ব্যবহার করে শীতাতপ যন্ত্র। একদিকে ডাটা সেন্টার চালানোর জন্য লাগে বিদ্যুত্শক্তি, আবার সেগুলো কুলিংয়ের জন্যও লাগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ। তবে ডেনমার্কের ওডেন্স শহরের ডাটা সেন্টারগুলো পুরোপুরি নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে। ডাটা সার্ভারগুলো পরিচালনার জন্য অনবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চেয়ে নবায়নযোগ্য বাতাসের ওপর অনেকাংশ নির্ভর করতে শুরু করেছে তারা। ওডেন্সে থাকা ফেসবুকের মতো বড় বড় ডাটা সেন্টার বাতাসের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে তার থেকে প্রাপ্ত শক্তি দিয়েই পূরণ করছে নিজেদের চাহিদা। তবে এসব সেন্টারে থাকা সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপকে কিছুদিন আগে মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখলেও এখন সেটিকেই একপ্রকার আশীর্বাদ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে তারা।

ওডেন্স শহরে বছরে চার মাস ব্যাপক ঠাণ্ডা পড়ে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ—এই মাসগুলোতে তাপমাত্রা চলে আসে মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে। ওই সময় জ্বালানি ও গরম পানির চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। এই চাহিদার কথা বিবেচনা করে ডাটা সেন্টারের সার্ভারগুলো থেকে উৎপন্ন গরম বাতাসকে কয়েলের মাধ্যমে পরিচালিত করা হয়। কয়েলের ওপরে থাকে ঠাণ্ডা পানির পাইপ। কয়েলের উত্তাপে ঠাণ্ডা পানি ক্রমাগত গরম হতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে গরম পানি সরবারহকারী একটি প্রতিষ্ঠান এই পানিকে পৌঁছে দেয় ওডেন্সের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে।

প্রাথমিক অবস্থায় ডাটা সেন্টারে ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট মৃদু ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করে। ডাটা সেন্টারের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকা পাইপলাইন থেকে এই পানি যখন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সরবরাহ হয়, তখন এটির উষ্ণতা গিয়ে ঠেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি। ঠাণ্ডা পানির সরবরাহ নিয়মিত থাকার কারণে ডাটা সেন্টারগুলোতে থাকা সার্ভারের কুলিংয়ের খরচও কমে গেছে বেশ। তবে ওডেন্সে থাকা প্রায় দুই লাখ বসতির মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ এই সুবিধা ভোগ করতে পারছে। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য এই শক্তি আরো বেশি ব্যবহার উপযোগী করার চিন্তায় আছে ওডেন্স প্রশাসন।



সাতদিনের সেরা