kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

এবারে এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি

বেশ কিছু ডিজিটাল রিয়ালিটিকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে এক্সআর। ভিআরের কল্পনানির্ভর বিষয়ের ত্রিমাত্রিক উপস্থাপনা, এআরের মূল ভিত্তি প্রাকৃতিক পরিবেশ কিংবা নেভিগেশন, এমআর হলো শারীরিকভাবে অনুভব করার প্রযুক্তি—এই তিনের মেলবন্ধনই হচ্ছে এক্সআর প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে এমন এক সেন্টার তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে। জানাচ্ছেন আল সানি

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবারে এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি

নীল রঙের এক বিশাল মঞ্চ। মঞ্চের পাশে সুঠামদেহি এক ভদ্রলোক। হাতে তাঁর পোষা পাখি। সেই পাখির ডাকও বেশ অদ্ভুত।

বিজ্ঞাপন

চোখের পলক পড়ল আপনার। পলক ফেলে চোখ মেলে তাকাতেই এতক্ষণ যা দেখলেন তার কোনো কিছুই নেই। সব অদৃশ্য। ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে, ভাবতে পারেন আপনি চোখে যা দেখলেন তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। তবে আপনি যা দেখেছেন সেটিকে শতভাগ স্বপ্ন কিংবা নিখাদ অবাস্তব ভাবার মোটেও কোনো সুযোগ নেই। মূলত আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন পোর্টসমাউথ ইউনিভার্সিটির হাই-টেক ডিজিটাল স্টেজে। এই স্টেজে দাঁড়িয়ে আপনি যা চান, যেভাবে চান সব কিছুই ইচ্ছামতো দেখতে পারবেন; পারবেন স্পর্শ করতে। এমনকি প্রয়োজনে চারপাশটা পরিবর্তন করে নিজেকে সবার সামনে উপস্থাপনের কাজটাও সেরে নিতে পারবেন। এ মাসের ৪ তারিখে চালু হয়েছে মাল্টিমিলিয়ন পাউন্ড সেন্টারের এক্সআর বা এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটির এই ব্যবসা। যার মূল লক্ষ্য গেমিং প্রতিষ্ঠান ও বিগ বাজেটের সিনেমাশিল্পকে শতভাগ ডিজিটালে রূপ দেওয়া। তবে ভিআর বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটির সঙ্গে আমরা বেশ পরিচিত থাকলেও এক্সআর বা এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় একটু হলেও কম। মূলত বেশ কিছু ডিজিটাল রিয়ালিটিকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে এক্সআর। বিশেষ করে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) এবং মিক্সড রিয়ালিটির (এমআর) সম্মিলিত প্রতিফলনই এটি। ভিআরের কল্পনানির্ভর বিষয়ের ত্রিমাত্রিক উপস্থাপনা, এআরের মূল ভিত্তি প্রাকৃতিক পরিবেশ কিংবা নেভিগেশন, এমআর হলো শারীরিকভাবে অনুভব করার প্রযুক্তি—এই তিনের মেলবন্ধনই হচ্ছে এক্সআর প্রযুক্তি।

এক্সআরকে শতভাগ বাস্তবতার মুখ দেখানোর জন্য ডিজিটাল রিয়ালিটির সব উপকরণ, যেমন—হেডসেট, গেমিং সামগ্রী, ডিজিটাল স্যুট-ব্যুট—সব কিছুই মিলতে চলেছে হাতের নাগালেই। আর এই কাজের জন্য পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড ইমারসিভ এক্সআর’ পেয়েছে ৫০ লাখ ইউরোর অনুদান, যার মধ্যে ৩৫ লাখ ইউরোর বেশিই এসেছে সরকারি খাত থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে গবেষণা আর নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার দুটিই বেশ ভালোভাবে এখন চালিয়ে নিতে পারবেন নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে। যার ফলে সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড ইমারসিভ এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি তাদের নিজস্ব পণ্য উৎপাদন ও তা ব্যবহারের জন্য ওয়ান স্টপ সলিউশন হতে চলছে বিশ্ববাসীর কাছে। তবে পোর্টসমাউথে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট লাইটসমৃদ্ধ একটি স্মার্ট স্টেজ। ত্রিমাত্রিকভাবে ৩৬০ ডিগ্রি ইমেজ খুব সহজে এই স্টেজ থেকে নেওয়া যায়, আবার যেকোনো কিছু চোখের পলকে করা যায় থ্রিডি স্ক্যান। মোশন ক্যাপচার গ্রাফিকসের মাধ্যমে রিয়াল টাইমে স্টেজে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর যেকোনো জায়গাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সবার সামনে উপস্থিতও হওয়া হবে একপ্রকার ডালভাত। সম্প্রতি এই সেন্টারে ডিজনির স্টার ওয়ার্স স্পিন-অফ টিভি সিরিজ ‘ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটিতে অবশ্য একটা দুর্বলতা এখনো বেশ ভোগাচ্ছে প্রযুক্তিবিদদের। চোখে দেখা কিংবা বাস্তব প্রতিবিম্ব তৈরির পাশাপাশি তা স্পর্শ কিংবা অনুভব করার মতো টেকসই প্রযুক্তি এখনো বাজারে আনতে পারেননি তাঁরা। এক্সআর সেন্টারে অনুভূতি পাওয়ার মতো টেসলা স্যুট ব্যবহৃত হচ্ছে বর্তমানে। এই স্যুটের মাধ্যমে যে কেউ চাইলে যেকোনো কিছুর অনুভূতি নিতে পারে। কেউ যদি হালকা বিদ্যুতের শকও পেতে চায়, এই স্যুটের মাধ্যমে সেটাও সম্ভব। তবে এটা এখনো আছে ডেমো পর্যায়েই।



সাতদিনের সেরা