kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইউটিউবে সত্যিকারের স্কুইড গেম

‘স্কুইড গেম’ নেটফ্লিক্সের পর্দা কাঁপিয়ে এবার হাজির হয়েছে বাস্তব দুনিয়ায়। এর পেছনে রয়েছেন খ্যাতিমান ইউটিউবার জিমি ডনাল্ডসন, যিনি কিনা ইউটিউবে ‘মিস্টার বিস্ট’ ছদ্মনামেই সর্বাধিক পরিচিত। আগেও তিনি বেশ কয়েকটি বড়সড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন, তবে স্কুইড গেমই ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাম

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউটিউবে সত্যিকারের স্কুইড গেম

মিস্টার বিস্টের সঙ্গে সত্যিকারের স্কুইড গেমে অংশ নেন ৪৫৬ জন প্রতিযোগী

সর্বমোট ৩৫ লাখ ডলার খরচ করে আয়োজন করা হয় গেমটির। এর মধ্যে ১৫ লাখ ডলার প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে, বাকি ২০ লাখ ডলায় ব্যয় হয়েছে আয়োজন ও মার্কেটিংয়ের পেছনে। বেশির ভাগ অর্থ জোগান দিয়েছে স্পন্সর সুপারসেল গেমস তাদের ‘ব্রল স্টারস’ গেমটির প্রচারের জন্য।

টিভি ধারাবাহিক ‘স্কুইড গেম’-এ দেখানো হয়েছিল—প্রতিযোগীরা তাদের বড় মাপের দেনা শোধের জন্য গেমটিতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে শিশুতোষ সব খেলা খেলতে হবে, জিততে পারলে পরবর্তী খেলায় অংশ নেওয়া যাবে, আর হেরে গেলে মৃত্যু অবধারিত। মূল শোতে দেখানো ‘রেড লাইট, গ্রিন লাইট’, ‘টাগ অব ওয়ার’, ‘ব্রিজ জাম্পিং’ এবং ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলাগুলো মিস্টার বিস্টের প্রতিযোগিতায়ও রাখা হয়েছিল, তবে শেষে প্রতিযোগীদের মধ্যে মারামারির বদলে রাখা হয়েছে কোরীয় খেলা ‘ডাকজি’।

অবশ্যই প্রতিযোগীদের জীবন বাজি রেখে খেলতে হয়নি, কিন্তু শোয়ের আবহ ধরে রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। মূল শোতে রেড লাইট, গ্রিন লাইট গেমে যারা হেরেছে তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছিল, এখানে প্রতিযোগীদের পোশাকে রঙের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে, যা গেমে হেরে গেলে ফেটে গুলির মতোই ইফেক্ট সৃষ্টি করেছে। ‘টাগ অব ওয়ার’ এবং ব্রিজ জাম্পিংয়ে প্রতিযোগীরা হেরে গেলে উচ্চতা থেকে পরে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের জন্য নিচে রাখা হয়েছে বড়সড় ফোমের বিছানা। খেলাতে অংশ নিয়েছিলেন ৪৫৬ জন প্রতিযোগী। প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছিল স্কুইড গেমের আদলে তৈরি ইউনিফর্ম, আয়োজকরা নিজেরাও পরেছিলেন শোতে দেখানো অ্যাডমিনের পোশাক।

গেম শোটির ভিডিও ইউটিউবে আপলোডের মাত্র চার দিনের মধ্যেই ১০ কোটি ৩০ লাখ ভিউ হয়েছে। গেমটি তৈরি করতে সময় লেগেছে সাত সপ্তাহ। এদিকে নেটফ্লিক্সের স্কুইড গেম তৈরিতে সময় লেগেছে সর্বমোট ১০ বছর, আর এক মাসে মাত্র ১১ কোটি ১০ লাখ ভিউ এসেছে। সে হিসাবে বলা যায় ইউটিউবের ব্যাবসায়িক মডেল নেটফ্লিক্সের চেয়ে বহুগুণ কার্যকর। কিন্তু এটাও বলা যেতে পারে মিস্টার বিস্ট শুধু নেটফ্লিক্সের করা হাইপের মাধ্যমেই এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।

এদিকে মূল টিভি ধারাবাহিকের লেখক ও পরিচালক হোয়াং ডং-হিউক বলেছেন, স্কুইড গেমের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক শ্রেণিভেদের বিভাজন তুলে ধরা এবং সেটাকে সমালোচনা করা। তাঁর ভাষ্য, স্কুইড গেমের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন কিভাবে ক্ষমতাসীনরা সাধারণ মানুষকে শুধু টাকার জোরে যা ইচ্ছা করতে বাধ্য করে, আর দুর্বলরা কিভাবে যেকোনো মূল্যে রোজগারের জন্য রাজি হয়ে যায়। মিস্টার বিস্ট তাঁর আয়োজনের মাধ্যমে সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি নষ্ট করেছেন।

মিস্টার বিস্টের আগেও অনেকেই স্কুইড গেমকে বাস্তবায়ন করেছেন, কিন্তু তাঁর মতো এমন বিশাল আয়োজনে নয়। ফলে সেগুলো জনপ্রিয় হতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত জেতা প্রতিযোগীকে দেওয়া হয়েছে চার লাখ ৫৬ হাজার ডলার। বাকি প্রতিযোগীরাও একেবারে খালি হাতেও ঘরে ফেরেননি।



সাতদিনের সেরা