kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক্সবক্সের ২০ বছর

২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর বাজারে হাজির হয় মাইক্রোসফটের গেম কনসোল সিরিজ ‘এক্সবক্স’। এই ২০ বছরে বাজারে এসেছে কনসোলটির চারটি প্রজন্মের মোট সাতটি মডেল। পেছন ফিরিয়ে তাকিয়েছেন সালাম মোহাম্মদ

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক্সবক্সের ২০ বছর

১৭ হাজার কোটি টাকার গেমিং বাজার এক্সবক্সের দখলে রয়েছে। প্রথম কনসোলটিতে ছিল দলবদ্ধ হয়ে মাল্টিপ্লেয়ার খেলার সুবিধা। আর সেটির পাশাপাশি অনলাইনে গেম কেনাবেচা এবং জনপ্রিয় সব গেমিং ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে গেমারদের মন জয় করে নিয়েছিল এক্সবক্স। পরে অবশ্য কিছুটা হার্ডওয়্যারগত সমস্যার কারণে এক্সবক্স ৩৬০ কিছুটা বাজার হারালেও তেমন পিছিয়ে পড়েনি।

বিজ্ঞাপন

বেশ কিছু বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন—সেকেন্ড হ্যান্ড গেম বিক্রি বন্ধ এবং অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের ফলে সনির প্লেস্টেশন সিরিজের তুলনায় বেশ পিছিয়ে পড়ে এক্সবক্স ওয়ান, যার খেসারত এখনো মাইক্রোসফট দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এক্সবক্স সিরিজ এস এবং এক্স—দুটি কনসোলের কাটতি ভালোই যাচ্ছে, এর পরও প্লেস্টেশনকে ধরতে অনেক পথ বাকি।

এ তো গেল গত ২০ বছরের কথা, কিন্তু এক্সবক্সের আগামী ২০ বছর কেমন যাবে? এ প্রসঙ্গে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এক্সবক্সের প্রধান ফিল স্পেন্সার বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা দেখেছি, কনসোল ও গেমের পেছনে বেশ বড় টাকা খরচ করে আসছেন গেমাররা। ভবিষ্যতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কনসোল আর পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে গেম কেনার দিকে তাঁরা আর ঝুঁকতে চাইবেন না। আমরা মনে করি, কনসোলের দাম যতটা কমানো যায় আর গেমটা যদি করা যায় এককালীন মালিকানার পরিবর্তে মাসিক ভাড়া নেওয়ার মতো একটি সেবা, তাহলে গেমাররা আরো উৎসাহী হবেন। তাই বলে চাইলে যে গেম কেনা যাবে না তা নয়, তবে বই না কিনে লাইব্রেরি থেকে নিয়ে পড়লে পড়ার পরিমাণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনই গেমের লাইব্রেরি গেমারদের জন্য খুলে দেওয়া হলে তাঁরা লাভবান হবেন বেশি। আপাতত সেটা নিয়েই কাজ করছে এক্সবক্স। ’

তিনি আরো বলেন, গেমের চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেদের খুঁজে নিচ্ছেন গেমাররা, যেমনটি উপন্যাসের পাতায় বা সিনেমার পর্দায় একসময় পেয়েছেন তাঁদের পূর্বসূরিরা। তাই তিনি মনে করেন, গেমে সব ধরনের চরিত্র ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা শুধু নারী-পুরুষের সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না রেখে সব জাতিগোষ্ঠী, এমনকি প্রতিবন্ধীদেরও নানাবিধ চরিত্রের মাধ্যমে গেমে তুলে ধরতে হবে।

ফিল আরো বলেন, সব কিছুই যেভাবে স্মার্টফোন আর টিভির মধ্যেই চলে যাচ্ছে, কনসোলের ক্ষেত্রেও সেটা হতে বাধ্য। ফোনে ও টিভিতে সরাসরি ইন্টারনেট থেকে স্ট্রিমিং করেই গেম খেলবেন আগামী দিনের গেমাররা। তবে স্মার্টফোন, টিভি, পিসি বা কনসোল, যেভাবেই গেমাররা অভ্যস্ত হন না কেন, এক্সবক্স তাঁদের জন্য সেবা দিয়ে যাবে

আর সময়ের সঙ্গে বদলাতে না পারলে এক্সবক্সকেও একদিন আরেক জনপ্রিয় কনসোল সেবার মতোই হারিয়ে যেতে হবে।



সাতদিনের সেরা