kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

গেম

ইগরের বাগদত্তার খোঁজে

মোহাম্মদ তাহমিদ   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইগরের বাগদত্তার খোঁজে

চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা কারোরই অজানা নেই। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের শত শত মাইল এলাকা হয়ে পড়েছিল বসবাসের অযোগ্য, আজও যেখানে পা ফেলার কথা ভাবাও যায় না। এই পটভূমিতেই তৈরি করা হয়েছে নতুন গেম ‘চেরনোবিলাইট’। মূল চরিত্র ইগরের বাগদত্তা চেরনোবিল এলাকায় হারিয়ে যায় সেই দুর্ঘটনার মাঝে, তার অন্তর্ধানের রহস্য উদঘাটনই গেমের মূল কাহিনি।

ফার্স্ট পারসনে খেলা হলেও গেমটি শুটার নয়, রোল প্লেয়িং ঘরানারও নয়। এই ঘরানাকে বলা হয়ে থাকে ‘রোগলাইট’। নিজস্ব ঘাঁটি তৈরি ও সব শেষে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর জন্য দল গঠন করা নিয়েই সাজানো হয়েছে গেমপ্লে। পুরো গেমটি শেষ করতে ১৫-১৬ ঘণ্টার বেশি লাগবে না অবশ্য, অর্থাৎ দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে সব গোছানোর মতো বিরক্তিকর না হলেও শুটার ঘরানার গেমের মতো দ্রুতগামীও নয় চেরনোবিলাইট।

গেমটির গ্রাফিকস মানানসই, অসাধারণ নয়। তবে চেরনোবিলের আধাভৌতিক পরিবেশ চমৎকার ফুটে উঠেছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর, কুয়াশায় ঢেকে থাকা বন-বনানী আর অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা বিপদ।

পুরোপুরি ওপেন ওয়ার্ল্ড নয় চেরনোবিলাইট; কিন্তু এর ছয়টি এলাকার একটিতে প্রবেশ করার পর ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ানো যাবে। ঘুরতে অবশ্য হবেই। কেননা গেমটির ঘাঁটি তৈরি, তার ক্ষমতা ও আরাম-আয়েশ বাড়ানো এবং মূল ঘটনার সূত্র খুঁজতে একই এলাকায় একাধিকবার মিশন খেলতে হবে। গেমাররা যাতে বিরক্ত না হন সেদিকে খেয়াল রাখতেই প্রতিটি এলাকা সময়ের সঙ্গে যেন বদলে যায়, সেটি সূক্ষ্মভাবে ডিজাইন করেছে এটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দ্য ফার্ম ৫১। বারবার মিশন করে পাওয়া জিনিসপত্র দিয়ে সাজাতে হবে ঘাঁটি, বানাতে হবে আরো শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র এবং যন্ত্রপাতি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ঘাঁটিতে যাতে অন্যরা আরামে থাকতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।

দল গঠন চেরনোবিলাইটের অন্যতম বড় কাজ। অন্যান্য চেরনোবিল অন্বেষণকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাদের সঙ্গে কাজ করে দল গঠন করা এবং তাদের শেষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার মাধ্যমেই গেমের কাহিনি এগোতে থাকবে। ঘাঁটিতে তাদের থাকার জায়গা তৈরি করে দিতে হবে, মেটাতে হবে তাদের চাহিদা। না হলে একসময় তারা দল ছেড়ে চলেও যেতে পারে। পুরো দল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শেষ মিশনে যাওয়া উচিত হবে না; কিন্তু দল গঠন শেষ করতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।

পুরো গেমটিতেই ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত, যা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেবে। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে কাহিনির বড় অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে দল তৈরিই হতে পারে অসম্ভব। যাতে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের পস্তাতে না হয় সে জন্য অবশ্য গেমটিতে রয়েছে চেরনোবিলাইট ক্রিস্টাল, যা ব্যবহার করে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো বদলে ফেলা যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে গেমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়েই ছিল, সদ্যই তার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। কাহিনির দৈর্ঘ্য কিছুটা কম হওয়ায় গেমাররা একটু কষ্ট পেয়েছেন বলা যায়, তবে সামনে নতুন চ্যাপ্টার বা অধ্যায় যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। গেমটি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ ৭ ৬৪বিট, ইন্টেল কোর আই৫ ২৫০০কে প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, জিটিএক্স ৬৬০ বা রেডিওন আর৭ ২৬০ জিপিউ আর ৪০ গিগাবাইট জায়গা।



সাতদিনের সেরা