kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ছাপা হলো ইস্পাতের সেতু

থ্রিডি প্রিন্ট করে কত কিছুই তো বানানো হয়েছে—খেলনা থেকে শুরু করে আস্ত বাড়ি পর্যন্ত। তাই বলে সেতু, তা-ও আবার লোহার সেতু! এমন এক সেতু তৈরি করা হয়েছে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী অ্যামস্টারডামে। বলা হচ্ছে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি সেতু তৈরি করতে লেগেছে ৪.৫ টন ইস্পাত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আল সানি

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাপা হলো ইস্পাতের সেতু

অ্যামস্টারডামের নাম শুনলেই মনে পড়ে টিউলিপ ফুল আর বাইসাইকেলের কথা। ইউরোপে সাইকেলচালকদের রাজধানী এই আমস্টারডাম। ২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম সাইকেল পার্কিং ব্লক তৈরি হয়েছে আমস্টারডামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই। এবার সেই আমস্টারডামে প্রথমবারের মতো তৈরি হলো থ্রিডি প্রিন্ট বা ত্রিমাত্রিকভাবে ছাপানো সেতু। আর এই থ্রিডি সেতু তৈরির মূল কারিগর ডাচ থ্রিডি মেটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান ‘এমএক্সথ্রিডি’। যেকোনো স্থাপনা বানানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই সেটির জ্যামিতিক নকশা কাগজে এঁকে নিতে হয়। এরপর সেই নকশাকে বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার কাজ করতে হয়। কিন্তু নকশা বানানো যতটা সহজ, তা বাস্তবে পরিণত করা ততটাই জটিল। তবে এই ত্রিমাত্রিক জটিলতাকে সহজ করে দিয়েছে কাগজের নকশার বদলে স্টিলের ওপর ত্রিমাত্রিক নকশা বানানোর নতুন প্রযুক্তি। বিশ্বজুড়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান এই নতুন প্রযুক্তির পেছনে ছুটলেও এগিয়ে আছে এমএক্সথ্রিডি। বলা যায় ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে একপ্রকার বিপ্লব এনে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মধ্য আমস্টারডামের আওডাজাইডস আক্টারবার্গবাউ খালের ওপর ৪.৫ টন ইস্পাত দিয়ে সেতুর কাঠামো  তৈরি করেছে তারা। এতে কাজ করেছে চারটি রোবটিক হাত। ‘এমএক্সথ্রিডি’র টানা চার বছরের ফসল বলা যায় সেতুটিকে। নেদরল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা গত মাসে এটির উদ্বোধন করেন।

১২ মিটার দীর্ঘ আমস্টারডামের সেতুটি এখন পথচারী ও সাইকেলচালকদের জন্য উন্মুক্ত। তবে সেতুটি যে শুধুই থ্রিডি সেতু তা কিন্তু নয়। সব মিলিয়ে এক ডজন সেন্সর লাগানো হয়েছে এটির সঙ্গে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, মানুষের গতিবিধি, তাপমাত্রা ইত্যাদি তথ্যই সংগ্রহ করবে এসব সেন্সর। সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে সেতুর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ভবিষ্যতে বড় বড় প্রজেক্টে কিভাবে ত্রিমাত্রিক স্টিল প্রিন্টেড ডিজাইন ব্যবহার করা যায় সেসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালাবেন। অবশ্য গবেষকরা এসব তথ্যের মাধ্যমে সেতুর কার্যক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল নিয়েও কাজ করবেন। বর্তমানে আমস্টারডামের ২০০টি খালের ওপর বারো শরও বেশি সেতু রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব খালে ধীরে ধীরে থ্রিডি সেতু বসাতে চায় ডাচ সরকার। খালপারেই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং পদ্ধতিতে নতুন সেতুগুলো তৈরি করা হবে। সেতু তৈরিতে থাকবে না কোনো প্রকার জ্যামিতিক বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে রোবট ব্যবহারের ফলে যেকোনো ধরনের নকশার কাঠামো থেকে সহজেই প্রিন্ট করা সম্ভব হবে। এসব কারণে সময়, অর্থ, লোকবল আর নকশার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন সবাই।

আমস্টারডামের এই ত্রিমাত্রিক স্থাপত্য প্রিন্ট করার পদ্ধতিটির সঙ্গে যুক্ত আছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে তারা আরো হালকা-পাতলা বস্তু নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় যেকোনো ব্রিজ বা স্থাপনার নির্মাণকাজের জন্য অনেক বেশি সময় লাগত। বছরের পর বছর সময় নিয়ে পাথর কেটে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা বা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হতো। তবে জুরিখে থাকা থ্রিডি প্রিন্টারে থাকা সূক্ষ্ম বালু দিয়ে একের পর এক স্তর  তৈরি করে এক বিশেষ ধরনের আঠা সেই স্তরকে কৃত্রিম পাথরে পরিণত করা যায়। এভাবে রোবটের মাধ্যমে প্রতিটি ডিজাইনের ছোট ছোট অংশও সূক্ষ্মভাবে করে অসাধ্যকে সাধ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।



সাতদিনের সেরা