kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

বিশ্বের প্রথম ভার্চুয়াল পপস্টার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিল্পীদের গান কিছুদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে স্পটিফাইয়ের প্ল্যাটফর্মে। শুধু তা-ই নয়, হাটসুনে মিকু’র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিল্পীও মাতিয়ে বেড়াচ্ছে জাপানে। বুদ্ধিমত্তার শিল্পী ও সংগীত সম্পর্কে জানাচ্ছেন মোহাম্মদ তাহমিদ

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বের প্রথম ভার্চুয়াল পপস্টার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ আজকাল নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যেকোনো তথ্য বিশ্লেষণ করে সে তথ্যের মধ্যকার মিল, অমিল এবং একটি তথ্যের সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক বের করে সে অনুযায়ী একটি মডেল তৈরির মাধ্যমে চাইলে নতুন তথ্যের সঙ্গে পুরনো তথ্যের সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও বের করা যায় নতুন করে বিশ্লেষণ ছাড়াই।

পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মডেল দিয়ে অবশ্য শুধু নতুন তথ্য বিশ্লেষণই করা যায় না, চাইলে তার সঙ্গে মিল রেখে নতুন কিছু তৈরিও করা যায়, যেমন—১০০টি গোয়েন্দা কাহিনি দিয়ে একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক প্রশিক্ষণ করার পর সেটি ব্যবহার করে লেখানো যেতে পারে একই ঘরানার একটি আনকোরা গল্প। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অবশ্য এআইর লেখা গল্পের কোনো মানে পাওয়া যায় না, কয়েকটি লাইনের মধ্যে হয়তো কিছু মিল বা ঘটনাবলি থাকতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত বিস্তীর্ণ একটি নিউরাল নেটওয়ার্ককে যদি কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ কল্পকাহিনি পড়ানো যায়, তাহলে সেটি একটি মানানসই গল্প লিখতে পারবে মুহূর্তেই।

গল্প বা উপন্যাসে এআই লেখকের আবির্ভাব না হলেও সংগীতজগতে এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিল্পীরা হাজির হয়ে গেছেন। কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি মেশিন লার্নিংয়ের ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা রচনা করছেন গান, সুর এবং কিছু ক্ষেত্রে সেটি গাইছেও, যদিও তার মান এখনো অসাধারণ কিছু নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এআইর রচনা করা সংগীত কিছু মানুষ মিলে সম্পাদনা এবং মিক্সিং করে প্রকাশও করছে। আবার বেশ কিছু মানব শিল্পী এআইর সাহায্যে গান লিখছেন, সুর করছেন আবার গাইছেনও।

এমন একটি জনপ্রিয় এআই সংগীতশিল্পীর নাম ‘হাটসুনে মিকু’। জাপানিজ সফটওয়্যার নির্মাতা ক্রিপ্টন ফিউচার মিডিয়ার সৃষ্টি এই সফটওয়্যার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করতে পারে, যদিও গান ও সুর নিজ থেকে রচনা করতে পারে না। এই ঘরানার সফটওয়্যারকে বলা হয়ে থাকে ‘ভোকালয়েড’, যার মধ্যে হাটসুনে মিকু সবচেয়ে জনপ্রিয়। ২০০৮ সাল থেকেই সফটওয়্যারটি এবং তার অবতার জাপানে রয়েছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। হাটসুনে মিকুর অবতার একটি কিশোরী মেয়ে, তার কণ্ঠটাও তেমনই। বেশ কিছু সংগীত রচয়িতা মিকুর কণ্ঠে তাঁদের গান গাইয়েছেন, সেগুলো সংকলনও আছে ইউটিউব, স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে। যেহেতু বাস্তব মানব পপশিল্পীরাও বেশির ভাগ সময় আলাদা গীতিকার ও সুরকারের করা গান গেয়ে থাকেন, সে হিসেবে হাটসুনে মিকুকে বলা যায় বিশ্বের প্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় ভার্চুয়াল পপস্টার।

২০১৮ সালে ফ্রাঁসোয়া প্যাশের প্রথম পপ অ্যালবাম ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশিত হয়, যার মূল আকর্ষণ বলা যায় ফ্রাঁসোয়ার সংগীত রচনায় ব্যবহৃত হয়েছিল এআই। এরপর রয়েছে হলি হারন্ডনের অ্যালবাম ‘প্রোটো’, যেখানে তিনি নিজের এআই সংস্করণের সঙ্গে ডুয়েট গেয়েছেন। বেশ কিছু শিল্পী আজকাল তাঁদের কণ্ঠের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য এআই ব্যবহার করছেন, কিছু ক্ষেত্রে গানের কথাও বাছাই করছেন এআইর মাধ্যমে।

‘আউশুমান’ নামের একটি প্রজেক্ট চেষ্টা চালাচ্ছে পুরোপুরি এআইর একটি গানের প্রকাশনা সংস্থা তৈরি করার। তাদের কিছু এআই, যেমন জেমিনি বা ইয়োনা এরই মধ্যে বেশ কিছু পপসংগীত তৈরি করেছে, যা সংকলন অ্যালবাম আকারে প্রকাশও করেছে আউশুমান।

ভবিষ্যতে এআইর কারণে মানুষ গান গাওয়া বা সৃষ্টি করা ছেড়ে দেবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর অন্তত এখনই নয়। কিন্তু এআই ব্যবহার করে গান তৈরি, গাওয়া বা সম্পাদনা ও মিক্সিং করা যাবে আরো সহজে, আরো সুন্দরভাবে। আপাতত মানুষকে এ ক্ষেত্রে এআই সাহায্যই করবে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দেবে না। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে, এআই এখনো নিজ থেকে আনকোরা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, বরং আগে যেসব গান আছে সেগুলোরই নতুন কম্বিনেশন করতে পারে মাত্র। তবে ভবিষ্যতে সে সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে এআই যে এগিয়ে যাবে বহু দূর, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।



সাতদিনের সেরা