kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

ই-বর্জ্যের মাউন্ট রিসাইকেলমোর

আল সানি   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ই-বর্জ্যের মাউন্ট রিসাইকেলমোর

এবারের ‘জি-৭ সম্মেলন’কে সামনে রেখে দুই ইংরেজ শিল্পী জো রাশ ও অ্যালেক্স র‌্যাকেজ মিলিতভাবে তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মাউন্ট রাশমোরের আদলে একটি ভাস্কর্য ‘মাউন্ট রিসাইকেলমোর’। এতে স্থান পেয়েছেন ‘জি-৭’-এর সাত রাষ্ট্রপ্রধান। আর এটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ই-বর্জ্য। মূলত পরিবেশে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এই সাতটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী রাষ্ট্রজোট ‘জি-৭’। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সব দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির পেছনে রয়েছে ভারী ও মাঝারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন। অথচ এই শিল্পজোটই ই-বর্জ্য উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ই-বর্জ্য উৎপাদনে সবার ওপরে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মাথাপিছু প্রায় ২০ কেজি ই-বর্জ্য উৎপাদন হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই পরিমাণটা প্রায় ১৮ কেজি। ফেলে দেওয়া এসব ই-বর্জ্যে থাকতে পারে প্রায় ছয় হাজার দুই শ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যমানের স্বর্ণ, তামা ও লোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। এই লোভে অনেক স্বল্পোন্নত ও দরিদ্র দেশ ই-বর্জ্য আমদানি করে ইউরোপ থেকে। কিন্তু এসব দেশে ই-বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে চলছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে নিম্ন আয়ের দেশগুলো। এই বার্তাটিই জি-৭-এর নেতাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেই এই ‘মাউন্ট রিসাইকেলমোর’। বৈদ্যুতিক বর্জ্য যেমন—মুঠোফোন চার্জার, কেবল, মাইক্রোচিপ, সেমিকন্ডাক্টর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে জি-৭-এর সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের মূর্তি। সম্মেলন শুরুর আগেই শিল্পীর কাজ শেষ হয়ে যায়। ভাস্কর্যটি ‘জি-৭’-এর সম্মেলনস্থল যুক্তরাজ্যের কার্বিস বে হোটেলের ঠিক সামনে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন সম্মেলনে অংশ নেওয়া শীর্ষ নেতাদের চোখে সহজেই সেটি ধরা পড়ে। এই ভাস্কর্যের শিল্পীরা বেশ আশাবাদী, এটা দেখে পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলোর এই নেতারা ই-বর্জ্যের মতো স্পর্শকাতর ব্যাপারে আরো সচেতন হবেন।



সাতদিনের সেরা