kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

পুষ্পরানির ভিলফুডে নিমন্ত্রণ

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুষ্পরানির ভিলফুডে নিমন্ত্রণ

রান্নায় ব্যস্ত পুষ্পরানি

পুষ্পরানি সরকারের চ্যানেলের নাম ‘ভিলফুড’। বিভিন্ন পদের গ্রামীণ রান্নার ভিডিও পাওয়া যায় তাঁর এই চ্যানেলে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ইলামবাজারের বনভিলার এই বাসিন্দার রান্নার জনপ্রিয়তা শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বে। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন  আল সানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ছোট একটি এলাকা ইলামবাজার। সব মিলিয়ে হাজার দশেক মানুষের বসতি এখানে। ইলামবাজারে নিজের ভিটাবাড়িতে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি, নাত-বউ নিয়ে বসবাস ৮২ বছর বয়সী পুষ্পরানির। খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করলেও পুষ্পরানি এখন হয়ে উঠেছেন ইন্টারনেট সেনসেশন।

গ্রামীণ পরিবেশ, টাটকা সবজি, মাটির চুলা, শিলপাটায় বাটা মসলা আর একজন পুষ্পরানি—এসব মিলিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে একটি ইউটিউব চ্যানেল। নাম ভিলফুড। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে কুমড়া ফুলের বড়ার রেসিপির ৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে শুরু হয় ভিলফুডের যাত্রা। এখন সেই চ্যানেলে আছে আট শরও বেশি খাবারের ভিডিও। সব মিলিয়ে ভিউ হয়েছে ৫৫ কোটিবারেরও বেশি।

ভিলফুডের বেশির ভাগ ভিডিও ১০ থেকে ৩০ মিনিটের। এসব ভিডিওর মূল সঞ্চালনার দায়িত্ব থাকে পুষ্পরানিরই কাঁধে। অবশ্য রান্নাবান্না, চিত্রগ্রহণ ইত্যাদি কাজে পরিবারের লোকেরাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে তাঁকে। প্রায় বেশির ভাগ পর্বেই পুষ্পরানির সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ, নাতি ও নাত-বউকেও দেখা যায়।

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ রান্নার পাশাপাশি নতুন নতুন রান্নার রেসিপি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই হাজির হন ৮২ বছর বয়সী পুষ্পরানি। ভিলফুডের ভিডিওগুলোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এখানে রান্নার বেশির ভাগ উপকরণই প্রাকৃতিক উপায়ে সংগ্রহ করা। পুষ্পরানি যেদিন মাছ রান্না করেন, সেদিন পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে আনা হয়; আবার টক-ঝাল-মিষ্টি আচার বানানোর আগে গাছে উঠে আম পেড়ে আনা হয়। এসব দৃশ্যও যুক্ত করে দেওয়া থাকে তাঁর রান্নার ভিডিওর সঙ্গে। সেই আম কিংবা মাছ একেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতেও খুব সামান্য উপকরণে রান্না করে দেখান তিনি। আর তাতেই যেন বাজিমাত! চকচকে রান্নাঘর কিংবা নাম না জানা হাজারো মসলা উপকরণ ছাড়াই রান্নার কাজ সেরে ফেলে শহুরে মানুষকে কিছুটা হলেও বোকা বানিয়ে ফেলেন তিনি। পুষ্পরানির ব্লগের দর্শকরা এসব রান্নার ভিডিও দেখে তাঁদের ফেলে আসা দিনের কথা জানিয়ে দেন কমেন্ট বক্সে অথবা নিজ বাড়িতে বসেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব রান্না আরম্ভ করে দেন। বেশির ভাগ ভিডিওতে আবহসংগীত বাজলেও পুষ্পরানি খুব একটা কথা বলেন না; তবে মাঝে মাঝে ফেলে আসা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা করেন। হারিয়ে যান বছর পঞ্চাশের আগের দুনিয়ায়। আর বাংলাভাষী হওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও প্রচুর অনুসারী তাঁর। বাংলাদেশ ছাড়াও চায়না, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েক লাখ অনুসারী আছে ভিলফুডে। শুধু চীনেই আছে প্রায় অর্ধলাখ অনুসারী।

ভিলফুডের রান্নার ভিডিও ইউটিউব পেজে আপডেট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। বর্তমানে তাদের ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ছাড়িয়েছে ১৫ লাখ। গত বছর ভিলফুডকে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ দিয়েছে গোল্ড পে সম্মান। প্রতিবছর সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ লাখ রুপি আয় হয় এই ভিলফুড চ্যানেল থেকে। পুঁটি মাছের রান্না থেকে শুরু করে ইলিশ, কুমড়া ফুলের বড়া থেকে লাউ, শিম কিংবা মাংস-ভাজি সব কিছুই আছে পুষ্পরানির চ্যানেলে। চাইলে পুষ্পরানির ‘ভিলফুড’ থেকে ঘুরে আসতে পারেন এই লিংক থেকে : https://youtube. com/c/villfood



সাতদিনের সেরা