kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

গেম

নতুন করে ম্যাস ইফেক্ট

মোহাম্মদ তাহমিদ   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন করে ম্যাস ইফেক্ট

বিগত দশকের তুমুল জনপ্রিয় অ্যাকশন রোল-প্লেইং গেম সিরিজ ম্যাস ইফেক্টের রিমাস্টার সংস্করণ কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এ সংকলনের নাম ‘লেজেন্ডারি এডিশন’। আর এতে প্রথম তিনটি গেম এবং তার সব ডিএলসি থাকছে। নতুন টেক্সচার, লাইটিং ও হেডসআপ ডিসপ্লের পাশাপাশি গেমটির ফিজিকস এবং কন্ট্রোলেও থাকছে নতুনত্ব, বিশেষ করে সিরিজের প্রথম গেমটির বেশ কিছু কন্ট্রোলগত সমস্যা ঠিক করতে চেষ্টা করেছে নির্মাতা বায়োওয়্যার।

যাঁরা ম্যাস ইফেক্ট সিরিজের সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁদের জন্য এই সংকলন আদর্শ। ম্যাস ইফেক্টের পটভূমি আগামী শতাব্দী যখন মানুষ মঙ্গল গ্রহে পুরনো এলিয়েন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ ঘেঁটে আবিষ্কার করে এবং মহাবিশ্বের বেশ কিছু গ্রহ সিস্টেমের মধ্যে যাতায়াতের জন্য কিছু ম্যাস রিলে বসানো হয়েছিল, যাতে এক সিস্টেম থেকে অন্য সিস্টেমে ম্যাস ইফেক্ট ব্যবহার করে আলোর চেয়ে বহুগুণ বেশি গতিতে লাফ দিয়ে চলে যাওয়া যায়। সৌরজগতেও আছে এমন একটি রিলে। এই ম্যাস রিলে ব্যবহার করে মানুষ প্রথমবারের মতো জাম্প করে হাজির হয় এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহে, যেখানে তারা প্রথমবারের মতো জানতে পারে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে আরো অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী বাস করে এবং তাদের রয়েছে একটি কাউন্সিল। এভাবেই গ্যালাক্টিক সরকারের অংশ হয় মানবসভ্যতা। এই ঘটনার বহু বছর পর থেকে শুরু গেমের কাহিনি।

মূল চরিত্র কমান্ডার শেফার্ড, যিনি মানব মহাজাগতিক সামরিক বাহিনীর অংশ। স্পেস কাউন্সিলের দেওয়া দায়িত্বে একটি মিশন শেষে তিনি আবিষ্কার করেন মহাবিশ্বের সব প্রাণীর ওপর আসছে বিশাল এক ধ্বংসযজ্ঞ। এটি ঠেকানো নিয়েই তিনটি গেম সাজানো হয়েছে।

শুধু শেফার্ডকে নিয়েই খেলা গেলেও গেমটিতে শেফার্ডকে সাহায্য করার চরিত্রের অভাব নেই।

প্রতিটি চরিত্রের আছে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, চিন্তা-ভাবনা। মূলত এই চরিত্রগুলো এবং তাদের গভীরতাই সে সময় ম্যাস ইফেক্টকে করেছিল অন্য সব রোল প্লেইং গেমের থেকে আলাদা। এখন পর্যন্ত ম্যাস ইফেক্টের মতো গভীরতাসমৃদ্ধ স্পেস সায়েন্সফিকশন গেম তেমন নেই।

গেমটি খেলতে হবে থার্ড পারসন ভিউ থেকে। অ্যাকশনভিত্তিক গেমপ্লেতে গেমারকে দেওয়া হবে বেশ কিছু অস্ত্রপাতি এবং বিশেষ ক্ষমতা, যাকে বলা হয়ে থাকে ‘বায়োটিক পাওয়ার’। তিনটি গেমের কাহিনি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, ফলে প্রথম গেমে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত পরে শেষ গেমেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেভাবেই চিন্তা-ভাবনা করে এগোতে হবে।

নতুন গ্রাফিকস, লাইটিং এবং কিছু কন্ট্রোল পুরনো গেমারদের আকৃষ্ট করবে; নতুন গেমারদের পুরনো গেম খেলার সমস্যা থেকে রাখবে দূরে। কিছু কনটেন্ট অবশ্য বাদ পড়েছে লেজেন্ডারি এডিশন থেকে, বিশেষ করে ম্যাস ‘ইফেক্ট ৩’-এর মাল্টিপ্লেয়ার বাদ দেওয়ায় কিছু পুরনো গেমার হয়েছেন ক্ষুব্ধ। নতুনদের কাছে অবশ্য সেটি সমস্যা মনে হবে না।

ম্যাস ইফেক্ট সিরিজের অন্যতম বড় অংশ বলা যায় পলিটিকস এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ। চাইলেই গেমের সবাইকে বাঁচানো সম্ভব নয়, আবার কিছু ভুল সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের বেশ কিছু সভ্যতা হয়তো বাঁচানো সম্ভব না-ও হতে পারে। এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলেই গেমগুলো একাধিকবার খেলেও সবটুকু কাহিনি না জানার আশঙ্কা রয়েই যায়।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত ৬৪বিট উইন্ডোজ ১০

ইন্টেল কোর আই৫ তৃতীয় প্রজন্ম বা এএমডি এফএক্স-৮৩৫০ প্রসেসর

৮ গিগাবাইট র‌্যাম

এনভিডিয়া জিটিএক্স ৭৬০ বা এএমডি রেডিওন ৭৯৭০ জিপিউ

১২০ গিগাবাইট খালি জায়গা।

 

বয়স

১৮+



সাতদিনের সেরা