kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

গেম

ইনোকে বেঁচে থাকার লড়াই

মোহাম্মদ তাহমিদ   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইনোকে বেঁচে থাকার লড়াই

পরিবেশদূষণের ফলে বিশ্ব যদি একদিন পুরোপুরি বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়ে, মানুষ যদি পাড়ি জমায় নতুন এক গ্রহের উদ্দেশ্যে, তাহলে কী ঘটতে পারে, কেমন হতে পারে সে নতুন কলোনি—এমন কাহিনির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা গেমের অভাব তো নেই-ই; বলা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো এটিও অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানসে থেকে তেতো হয়ে গিয়েছে। নতুন গেম আউটরাইডারেরও কাহিনি ঠিক এটিই। ফলে শুরুতেই পয়েন্ট হারাতে বাধ্য আউটরাইডার; কাহিনি একেবারে ম্যাড়মেড়ে বললেও বেশি বলা হবে না।

নতুন এক গ্রহে মানুষ পৌঁছানোর পর জানতে পারে, সেখানে অতিপ্রাকৃত শক্তির উৎস রয়েছে, যার স্পর্শে মানুষ নিজেও অসীম ক্ষমতার মালিক হতে পারে। গ্রহটির নাম ইনোক, আর এ গ্রহে সব কলোনিস্ট নামার আগে শুরুতে কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী যোদ্ধাকে নামানো হয় তা ঘুরে দেখে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। এ যোদ্ধাদের নাম দেওয়া হয় ‘আউটরাইডার’। অতিপ্রাকৃত শক্তির কাছে একমাত্র গেমারের চরিত্র ছাড়া বাকি সবাই মৃত্যুবরণ করে। এরপর কেটে যায় ৩০ বছর। এ সময় গেমের মূল চরিত্র থাকে ক্রায়োজেনিক স্লিপে, যাতে সে অতিপ্রাকৃত অ্যানোমালির ছোঁয়ার ধাক্কা সামলে নিতে পারে। ক্রায়ো-স্লিপ থেকে জেগে সে জানতে পারে, ইনোকে মানুষ এখনো পুরোপুরি কলোনি স্থাপন করতে পারেনি, তাদের ঘিরে রেখেছে অ্যানোমালি। এই অ্যানোমালিকে কাটিয়ে মানুষের পূর্ণাঙ্গ কলোনি স্থাপন করাই গেমারের লক্ষ্য।

কাহিনির মান মাঝারি পর্যায়েই রয়ে যায় বাকিটা গেমে, দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে গেমপ্লের উন্নতিও দেখা যায়নি। শক্রদের তালিকায় আছে বেশ কিছু মানুষের গ্যাং, এলিয়েনদের গ্যাং, ইনোক গ্রহের বেশ কিছু অদ্ভুত শক্তি—যাদের কোনোটিই মনে দাগ কাটার মতো না। গেইমপ্লে বলা যায় গিয়ারস অব ওয়ারের মতো, নিজেকে বাঁচিয়ে শক্রদের পরাস্ত করতে হবে অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় কাটবে কোনো কিছুর আড়ালে বসে গুলি চালানোর মধ্যেই। আউটরাইডারের যে জাদুকরী সব ক্ষমতা আছে, তার বেশির ভাগই বসের সঙ্গে টক্কর না লাগা পর্যন্ত ব্যবহার হবে না। গেমের দুনিয়া যখন বিশাল, তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায় গেমারকে আটকে চারপাশের সব শক্র পরাস্ত না করা পর্যন্ত এগোনো যাবে না। এই ধরনের আল্টিমেটাম দেওয়া গেমপ্লে অন্তত ২০২১ সালে এসে সাজে না।

গেমটির বড় অংশ বলা যায় লুটিং অর্থাৎ পরাস্ত করা শক্রদের থেকে পাওয়া শক্তিশালী সব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ব্যবহার করা। ডেস্টিনি বা বর্ডারল্যান্ডসের মতো গেমগুলোতে এ জিনিসটি গেমারদের আকর্ষণ ধরে রাখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তারা সেরা একটি অস্ত্র পাওয়ার জন্য একই মিশন একাধিকবার খেলে থাকে। আউটরাইডারে শুধু এমন লেজেন্ডারি অস্ত্রই পাওয়া যাবে না, সঙ্গে সেগুলোর জন্য কেনা যাবে মডিফিকেশন। সমস্যা একটাই, সেগুলো ব্যবহার করার সময় পাওয়াই যাবে না; কেননা গেমার চাইলে ১৫ ঘণ্টায়ই গেমটি শেষ করে ফেলা যাবে।

গ্রাফিকসে গেমটি এগিয়ে আছে অবশ্যই। ইনোক গ্রহের প্রতিটি এলাকা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ডিজাইনাররা। চরিত্রগুলোর ডিজাইনও বলা যায় বেশ সুন্দর; কিন্তু শুধু গ্রাফিকসের পুঁজি করে গেম তৈরি করা আসলে উচিত নয়। মজার বিষয় হচ্ছে, আউটরাইডার ডেস্টিনি বা অ্যানথেমের মতো সার্ভিসভিত্তিক গেম নয়, বরং বন্ধুদের সঙ্গে কো-অপ খেলার মতো কিছু মিশনের বাইরে কোনো সাপ্তাহিক ইভেন্ট বা কিছু রাখা হয়নি।

 

খেলতে যা যা লাগবে

উইন্ডোজ১০ ৬৪ বিট, ইন্টেল কোর আই ৫ তৃতীয় প্রজন্মের প্রসেসর বা এএমডি এফএক্স ৮৩৫০;

৮ গিগাবাইট র‌্যাম

এনভিডিয়া জিটিএক্স ৭৫০টিআই বা এএমডি রেডিওন আর৯ ২৭০এক্স জিপিউ

হার্ড ডিস্কে থাকতে হবে ৭০ গিগাবাইট জায়গা;

এই কনফিগারেশনে ৭২০পি রেজুলেশনে ৬০ এফপিএস গতিতে গেমটি চলবে।

 

বয়স

১৮+