kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

উইকিপিডিয়ার আলোচিত পাঁচ নিবন্ধ

১৫ জানুয়ারি ২০ বছর পূর্ণ করল মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া। অনলাইনের বৃহত্তম এই বিশ্বকোষে বাংলা ভাষার যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি। তিন শতাধিক ভাষায় উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধ রয়েছে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ। সেসবের মধ্য থেকে আলোচিত-সমালোচিত পাঁচটি নিবন্ধ সম্পর্কে জানাচ্ছেন আল সানি

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উইকিপিডিয়ার আলোচিত পাঁচ নিবন্ধ

দুই মার্কিন উদ্যোক্তা জিমি ওয়েলস ও ল্যারি সেঙ্গারের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডার ‘উইকিপিডিয়া’। ভাণ্ডার যত বড়, চ্যালেঞ্জটাও তত কঠিন। যে কেউ চাইলেই এখান থেকে তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন, আবার তাঁর নিজের ভাষায় এখানে কোনো তথ্য সংযুক্তও করতে পারেন। মুক্ত ও অবাধ তথ্যভাণ্ডার হওয়ার কারণে এই মাধ্যমে বারবার ঘটে তথ্যবিভ্রাট আর হালনাগাদের কারসাজি। এই হালনাগাদ এমন পর্যায়ে মাঝেমধ্যে চলে যায়, যা থেকে জন্ম নেয় বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা।

 

জর্জ ডাব্লিউ বুশ

২০০১ সালে বিশ্বব্যাপী উইকিপিডিয়া উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক পাঁচ দিন পর মার্কিন মুল্লুকের ৪৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জর্জ ডাব্লিউ বুশ। উইকিপিডিয়ায় যে কেউ তথ্য হালনাগাদ করতে পারে—এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে একের পর এক ভুল তথ্যের সন্নিবেশ ঘটতে থাকে জর্জ বুশের উইকি পেজে, বিশেষ করে উপসাগরীয় যুদ্ধের ভুলে ভরা তথ্যে ব্যাপক আকারে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বুশের উইকি পেজটি লক করার পথেও হাঁটতে হয় উইকিপিডিয়াকে। উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস বুশের উইকি পেজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে পেজটিকে গুজবের হাত থেকে রক্ষা করেন।

 

কভিড-১৯ মহামারি

গত বছরের জানুয়ারি মাসে উইকিপিডিয়ার একজন স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক একটি উইকি পেজ তৈরি করেন। উইকি পেজটির শিরোনাম ছিল ‘2019-2020 China Phenumonia Outbreak।’ পরে এই পেজের নাম দেওয়া হয় ‘Covid-19’। উইকিপিডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গুজব ছড়িয়েছে এই পেজের মাধ্যমে; এমনকি এই পেজের অনেক সম্পাদক দাবি করেন, এ রকম কোনো মহামারির অস্তিত্বই নেই। পেজটির মাধ্যমে গুজবের ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ২০২০ সালের মে মাসে উইকিপিডিয়া প্রশাসন পেজটি লক করে দেয়। তবে প্রায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত পেজটিতে আর কোনো নতুন তথ্য জুড়ে দেওয়া বা হালনাগাদ করা কোনোটাই সম্ভব হয়নি।

গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বর্ণবৈষম্য এতটা ভোগাতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ গ্ল্যাডিস মে ওয়েস্টের উইকি পেজ। পেশায় একজন গণিতবিদ গ্ল্যাডিস, যিনি জিপিএস ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে একেবারে সামনের সারির একজন। তবু উইকিপিডিয়ায় সম্পাদনার কাজে যুক্ত অনেক মার্কিন বর্ণবিদ্বেষীর কাছ থেকে বারবার আক্রমণের মুখে পড়েছে ‘গ্ল্যাডি ওয়েস্ট’ পেজটি। উইকিপিডিয়া প্রশাসনের নজরে আসার পর থেকেই পেজটির ওপর খবরদারি জোরদার করা হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই ঘটনার পর থেকে অনলাইনে কেউ জিপিএস সিস্টেমের ব্যাপারে খোঁজাখুঁজি করলে সবার প্রথমেই চলে আসে গ্ল্যাডিস মে ওয়েস্টের উইকি পেজটি।

 

লিস্ট অব ডাব্লিউডাব্লিউই পারসোনেল

অনেক বছর ধরেই জর্জ বুশের উইকি পেজ ছিল সবচেয়ে বেশিবার হালনাগাদ হওয়া পেজের তালিকার শীর্ষে। তবে এই তালিকায় বুশকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে চলে এসেছে ডাব্লিউডাব্লিউই খেলোয়াড়দের তালিকাটি। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, কয়েক বছরে ৫৩ হাজারের বেশিবার পেজটি হালনাগাদ করা হয়েছে। এই পেজটিতে এত হালনাগাদ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যায়, অনেকেই পেজটিতে এসে নিজেকে রেসলারের তালিকায় যুক্ত করে দেন। তবে বুশের পেজের মতো এই পেজটি লক করে দেওয়া সম্ভব হয়নি; কারণ প্রতিনিয়ত রেসলিং প্রগ্রামগুলোতে নতুন নতুন রেসলার যোগ হয়েই চলছে। কিন্তু কড়া নজরদারির কারণে ভুয়া রেসলারদের তথ্য মুছে দেওয়ার কাজেও পিছিয়ে নেই উইকিপিডিয়া।

 

ইনহেরেন্টলি ফানি ওয়ার্ডস

উইকিপিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলসের অন্যতম পছন্দের পাতা ছিল এটি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, পেজটি উন্মুক্ত করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, অনেক সম্পাদক এই পেজটিতে মজার নয় এমন অনেক শব্দ সংযোজন করেছিলেন যেসবের আদৌ কোনো প্রকৃত অস্তিত্বই নেই। অনেক সম্পাদকই এটিকে গুরুত্বসহকারে না নিয়ে মজা হিসেবে নিয়েছিলেন। তবে শব্দ বা তথ্য কতটা মজাদার হবে বা কিভাবে ব্যবহার হবে, সেসবের একটা মাপকাঠিও বানিয়ে দিয়েছে উইকিপিডিয়া। এই মাপকাঠির পেছনে কাজ করেছেন একাধিক দেশের ভাষাবিদ। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এত কিছুর পরও পেজটি আবার চালু করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা