kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

টিপস

ক্লাউড স্টোরেজে সতর্কতা

আফরিন তৃষা   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লাউড স্টোরেজে সতর্কতা

আজকাল ইউএসবি ড্রাইভ বা পোর্টেবল হার্ডডিস্কের জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়ে ক্লাউড স্টোরেজগুলো। গুগল ড্রাইভ থেকে শুরু করে ড্রপ বক্স পর্যন্ত সব ক্লাউড স্টোরেজই আপনার ফাইল অনলাইনে সংরক্ষণ করে থাকে। ক্লাউড স্টোরেজে ডাটা রাখলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যখন খুশি যেখানে খুশি ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে আপনার ডাটাগুলো নামিয়ে নিতে পারেন। বিষয়টি খুব সহজ এবং জনপ্রিয় হলেও অনলাইনভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজে আপনার মূল্যবান ডাটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আসে। কারণ আপনি জানেন না যে আপনার এই মূল্যবান ডাটাগুলো অন্য কারো ব্যবহার করার সুযোগ আছে কি না।

চাইলেই কিছু নিয়ম মেনে আমাদের এই মূল্যবান ডাটাগুলোকে অন্য ব্যক্তিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।

 

ডাটা ব্যাকআপ রাখা

ক্লাউডে ডাটা সংরক্ষণ করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন ডাটা ব্যাকআপ রাখা। এর জন্য যেকোনো ডাটাকে ই-কপি বা ইলেকট্রনিক কপি করে রাখা যায়। এতে যদি প্রয়োজনীয় ডাটাটি হারিয়ে যায় বা মুছে যায়, তাহলে এই ইলেকট্রনিক কপি থেকে নামিয়ে ব্যবহার করা যায়। যদি ক্লাউড স্টোরেজে ডাটা সংরক্ষণ করেও থাকেন, তবু আপনার উচিত ইউএসবি ড্রাইভ কিংবা পোর্টেবল হার্ডডিস্কের মতো কোনো ডিভাইসে ডাটাগুলো সংরক্ষণ করে রাখা। ফলে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলেও আপনি এই ডাটাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

 

সংবেদনশীল ডাটাগুলো সংরক্ষণ না করা

ইন্টারনেটের জগতে গোপনীয়তা রক্ষা করা আসলেই কঠিন। তাই আপনার অতি মূল্যবান ও গোপনীয় ডাটাগুলো কখনোই ক্লাউডে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। কারণ আজকাল অন্যের পরিচয় (আইডেনটিটি) চুরি করে, নিজের নামে ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডাটা চুরির ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়। আর আমরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ডাটা প্রতিদিন ব্যবহার করি তা অবশ্যই ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। যেসব ফাইল মাঝেমধ্যে ব্যবহৃত হয় শুধু ওই ফাইলগুলোই ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা উচিত। বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তকরণযোগ্য তথ্য (পারসোনালি আইডেনটিফিকেবল ইনফরমেশন) যেমন—ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, বাসার ঠিকানা প্রভৃতি তথ্য) ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা উচিত নয়।

 

ডাটা এনক্রিপ্ট করা ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার

ডাটা সংরক্ষণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এমন কোনো ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা, যা কোনো ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে সংরক্ষণ করতে পারে। এটি একটি বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এনক্রিপ্ট করা মানে হলো কোনো ডাটাকে কোড বা সাইফারে রূপান্তর করা, যাতে তা অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে। যদি অন্য কেউ ফাইলটি ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই ফাইলটি ডিক্রিপ্ট করে নিতে হবে।

যদি কারো ক্রিপ্টোগ্রাফি সম্পর্কে কোনো ধারণাই না থাকে, তাহলে সে ডাটাটি ডিক্রিপ্ট করতে পারবে না। এতে আপনার ডাটাটি ক্লাউড স্টোরেজের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করতে পারবে না।

ক্লাউড স্টোরেজগুলোই যদি ডাটা আপলোডের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে নেয়, আবার ডাউনলোডের সময় ডাটাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিক্রিপ্ট করে নেয়, তাহলে সেই ব্যবস্থা হবে সর্বোত্তম। এ কাজটি করা যায় অ্যাডভান্সড এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ডের (এইএস) মাধ্যমে। ডাটা এনক্রিপ্ট ও ডিক্রিপ্ট করতে সময় একটু বেশি লাগলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় এর জুরি নেই।

মন্তব্য