kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নতুন প্লেস্টেশন নিয়ে এলো সনি

এস এম তাহমিদ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন প্লেস্টেশন নিয়ে এলো সনি

অবশেষে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে হাজির সনির নতুন গেমিং কনসোল ‘প্লেস্টেশন ৫’। বছরের শুরু থেকেই গুঞ্জন চলছিল সনির নতুন কনসোল আসছে, জুলাই মাসে সনি নিজেই ঘোষণা করে নতুন প্লেস্টেশনে কী থাকছে, সেটির ডিজাইন কেমন হবে, আর কী কী গেম থাকতে পারে এটির জন্য। বাকি ছিল শুধু কনসোলটির দাম এবং বিক্রি শুরুর তারিখের ঘোষণা। সেটাও ১৬ সেপ্টেম্বরের ইভেন্টে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১২ নভেম্বর কনসোলটি কয়েকটি দেশের বাজারে প্রাথমিকভাবে বিক্রি শুরু হবে বলে জানা গেছে। আর পুরো দুনিয়ায় বিক্রি শুরু হবে ১৯ নভেম্বর থেকে। দুটি মডেলে কনসোলটি বিক্রি হবে, একটি ব্লু-রে ডিস্ক ড্রাইভসহ, অন্যটি ডিস্ক ড্রাইভ ছাড়া। ডিস্কসহ সংস্করণটির মূল্য ৪৯৯ মার্কিন ডলার। আর ডিস্ক ছাড়া শুধু ডিজিটাল সংস্করণের মূল্য ৩৯৯ ডলার। তবে যারা শুরুতেই কনসোলটি কিনতে চায় তারা এখন থেকেই প্রি-অর্ডার করতে পারবে।

প্লেস্টেশন ৫ এবং এক্সবক্স সিরিজ এক্স কনসোলের মাধ্যমে গেম তৈরির নবম প্রজন্মের শুরু হতে যাচ্ছে। গেম নির্মাতারা পিসি নয়, বরং বর্তমান কনসোলের হার্ডওয়্যার অনুযায়ীই গেম তৈরি করে থাকে। ফলে প্রতি সাত বছরে যখন নতুন কনসোল বাজারে হাজির হয়, প্রত্যেক গেমারই নড়েচড়ে বসে। কেননা কনসোলের গ্রাফিকস দেখেই আন্দাজ করা যাবে আগামী সাত বছর গেমের গ্রাফিকস কেমন হতে পারে। আর এবারের কনসোলগুলোর হার্ডওয়্যার দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে আগামী দিনের গেমগুলোর গ্রাফিকস বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে।

প্লেস্টেশন ৫-এর মধ্যে থাকছে এএমডি জেন ২ সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি কাস্টম প্রসেসর, এএমডি রেডিয়ন আরডিএনএ ২ সিরিজের জিপিউ, ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম এবং ৮২৫ গিগাবাইট কাস্টম এনভিএমই এসএসডি। ডিস্ক ড্রাইভসহ ও ডিস্ক ড্রাইভ ছাড়া দুটি সংস্করণের হার্ডওয়্যার একই। এক্সবক্স সিরিজ এক্সের স্পেসিফিকেশনও প্রায় একই, শুধু জিপিউর ক্ষমতা কিছুটা বেশি আর এসএসডির গতি কিছুটা কম। দুটি কনসোলই রে-ট্রেসিংসহ ৪-কে রেজল্যুশনে ৬০ এফপিএস এবং বিশেষ কিছু গেম ১২০ এফপিএস গতিতে চালাতে পারবে। সনির দাবি, তাদের কাস্টম এসএসডি ডিজাইনের কেরামতিতে গেমের গ্রাফিকস র‌্যামে লোড না হয়ে সরাসরি জিপিউতে চলে যাবে। ফলে গেম লোডিং টাইম থাকবেই না বলতে গেলে।

প্লেস্টেশন নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজ থেকেই চলে আসে সনির এক্সক্লুসিভ গেমের কথা। এবার সনি নিজেদের স্টুডিওতে শুধু প্লেস্টেশনের জন্যই গেম বানাচ্ছে না, বেশ কিছু থার্ড পার্টি গেম নির্মাতাও তাদের গেমগুলো প্রথম কিছু বছর বা মাস শুধু ‘প্লেস্টেশন এক্সক্লুসিভ’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্লেস্টেশন ৫ এক্সক্লুসিভ হিসেবে আসছে ‘গড অব ওয়ার : র‌্যাগনারক’, ‘ফাইনাল ফ্যান্টাসি ১৬’, ‘হরাইজন : ফরবিডেন ওয়েস্ট’ এবং ‘স্পাইডারম্যান : মাইলস মোরালেস’। নতুন গ্র্যান টুরিজমোও শিগগিরই আসছে বলে জানা গেছে।

সমস্যা হচ্ছে বেশির ভাগ গেমই ২০২১ সালের শেষের দিকে বাজারে আসবে। আবার কিছু এক্সক্লুসিভের প্লেস্টেশন ৪ সংস্করণও বাজারে আনা হবে। ফলে অনেক ক্রেতা শুরুতেই অর্ডার না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সনি চাচ্ছেও সেটাই—প্লেস্টেশন ৫ প্রথমেই অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা হচ্ছে না, প্রি-অর্ডার সবাই করতে পারছে না, সনি চেষ্টা করছে হাইপ একটু কমিয়ে রাখতে। বিশেষ করে এক্সক্লুসিভ গেমগুলো কনসোল বিক্রির সময়ই প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত সেটারই ইঙ্গিত করে।

এখন দেখার বিষয়, মাইক্রোসফট এবারও সনির সঙ্গে দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে কি না। যদিও হার্ডওয়্যারে এক্সবক্স কিছুটা এগিয়ে, কিন্তু মন মাতানো গেমের অভাব এবারও কাটেনি। তবে তাদের গেমপাস আল্টিমেট সাবস্ক্রিপশন, যার মাধ্যমে গেমাররা জনপ্রিয় সব গেম মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ইচ্ছামতো খেলতে পারবে, এই প্রতিযোগিতায় তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখবে। সনিও গেমপাসের মতো প্লেস্টেশন নাউ ও প্লেস্টেশন প্লাস কালেকশন সেবা ঘোষণা করেছে; কিন্তু গেমের সংখ্যায় সেটি এক্সবক্সের চেয়ে পিছিয়ে। মোট কথা, এবারের দৌড় পুরোটাই নির্ভর করছে সময়মতো কনসোল এক্সক্লুসিভ গেম বাজারে আনার ওপর। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা