kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ধ্যান যখন ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে

ফয়সাল ইসলাম   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধ্যান যখন ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে

কানে ভেসে আসছে বাঁশির সুর। শুনে মনে হবে যেন মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছেন। কিংবা একের পর এক ঢেউ এসে পড়ছে সমুদ্রসৈকতে। চারপাশটা দেখে বুঝতে পারলেন আপনি ইস্টার দ্বীপে আছেন। দ্বীপে পাথরের বিশাল সব মূর্তি আর পামগাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। চারদিকে সাদা পালক বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ কানে ভেসে এলো দরজা ধাক্কানোর শব্দ আর তাতেই কেটে গেল আপনার মনোযোগ। আর হঠাৎই কোথা থেকে যেন চোখের সামনে থাকা সমুদ্রের পানির ওপর হাজির হলো ঘন কুয়াশা। কিছু আর চোখে পড়ছে না আপনার।

এতক্ষণ ধরে যে বর্ণনা পড়লেন তা বাস্তবিক কোনো ঘটনা নয়। এসবই ঘটবে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে। এ রকম এক ভার্চুয়াল রিয়ালিটি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান ‘নিউরোপ্রো’। এই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ডা. আল-ইমাদ বলছেন, ‘মেডিটেশন বা ধ্যান মানুষের মন স্থির করে। স্থির মনের উপকারিতা অনেক। কিন্তু এই মেডিটেশনের জন্য যে ধরনের শান্ত আর সুন্দর পরিবেশ দরকার সেটার আয়োজন করা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নিতান্তই কঠিন। বর্তমানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এর একটি সমাধানের প্রয়াস পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেটা হলো ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইস দিয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং কৌশল কাজে লাগিয়ে মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করা। এরপর মস্তিষ্কের অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত মেডিটেশনের অভিজ্ঞতা দেওয়া। এখানে মূলত নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের অভিযোজন যোগ্যতাকে কাজে লাগানো হয়েছে।’

মানুষের মস্তিষ্কের এই বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম’ বা ‘ইইজি’ প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটের মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করবে। অর্ধবৃত্তাকার আকৃতির এই ইইজি যন্ত্রটিতে রয়েছে একাধিক সেন্সর, যা মস্তিষ্ককে অনুধাবন করতে পারে। এটি মস্তিষ্ক থেকে বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের চিন্তাধারা সম্পর্কে একটি পর্যাপ্ত ধারণা তৈরি করে রাখে।

এক হাজার পাউন্ড খরচেই এই ভিআর ও ইইজি হার্ডওয়্যারটি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন জিম অথবা ফিটনেস সেন্টারগুলোতে যন্ত্রটির মাধ্যমে সেবা দেওয়া যাবে। এমনকি বিভিন্ন করপোরেট অফিসও নিজেদের বিনোদনকক্ষে এই যন্ত্র রাখতে পারে। এটা তাদের কর্মীদের মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মদক্ষতাও বাড়বে অনেক গুণ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা