kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

গেম

অ্যানড্রয়েডদের দুনিয়ায় স্বাগত!

মোহাম্মদ তাহমিদ   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যানড্রয়েডদের দুনিয়ায় স্বাগত!

ঠিক কতটুকু বুদ্ধিমান ও আবেগসম্পন্ন হলে একটি বুদ্ধিমান যন্ত্র মানুষের কাতারে পড়ে? নাকি যত বুদ্ধিমান আর আবেগসম্পন্নই হোক, মানুষের তৈরি রোবট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো দিনই যন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু নয়? এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই নির্মাতা কোয়ান্টিক ড্রিমের গেম ‘ডিট্রয়েট : বিকাম হিউম্যান’। প্রকাশের বেশ কয়েক বছর শুধু প্লেস্টেশনে খেলা গেলেও কিছুদিন আগে গেমটি পিসির জন্যও প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত বাস্তব গ্রাফিকস, তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো জটিল ও গভীর কাহিনি এবং গেমারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বদলে যাওয়া গেমের ঘটনাবলি—এসবের জন্য শুরু থেকেই প্লেস্টেশন গেমারদের মন জয় করে আসছে। এবার পিসি গেমারদের পালা।

শুরুতেই বলে রাখা ভালো, কোয়ান্টিক ড্রিমের গেমগুলো একেবারেই অ্যাকশন ঘরানার নয়। শুধু অ্যাকশনের কমতিই নয়, গেম খেলার চেয়ে ঘটনার বিবরণ পড়াতেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হবে। তাই শুধু যাঁরা কাহিনি ও ঘটনাবলির জন্য গেম খেলেন, তাঁদের কাছেই গেমটি ভালো লাগবে। শুরু থেকেই ডিট্রয়েট নিয়ে চলছে এ বিতর্ক, আদতে এটি ঠিক গেম, নাকি বলা যায় ইন্টারঅ্যাক্টিভ মুভি। যেটাই হোক, মাথা খাটিয়ে গেমটি শেষ করার পর গেমারের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার শুরু করতে ইচ্ছা করবে। কেননা প্রতিবার গেমারের বেছে নেওয়া পথের সঙ্গে বদলে যাবে গেমের ঘটনার মোড় আর শেষের উপসংহার।

গেমটি খেলতে হবে তিনটি মানবসাদৃশ্য রোবট বা অ্যানড্রয়েডকে নিয়ে। প্রতিটি অ্যানড্রয়েডই প্রায় মানুষের সমান বুদ্ধিমান, তাদের আবেগও মানুষের চেয়ে কম না। কিন্তু এ দুনিয়ায় তাদের মানুষ তো নয়ই, বরং কেনা যন্ত্রের মতো করে ব্যবহার করা হয়। যদিও তাদের প্রগ্রামিং সেভাবেই করা, তারা নিজেদের কোনো আত্মপরিচয় বা সত্তার জন্ম দেয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু অ্যানড্রয়েডের মধ্যে দেখা দেয় প্রগ্রামিং সমস্যা। যদিও সেটাকে সমস্যা নয়, বরং ব্যক্তিত্বের জন্মই বলা যায়। তাদের মধ্যে শুরু হয় নিজের জীবন নিজে গড়ার তাড়না, নিজেদের অবস্থানকে ক্রীতদাসের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে তারা। আন্দোলন প্রায় শুরু হয় হয়, বিদ্রোহের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে অ্যানড্রয়েডরা—এমন সময় থেকেই গেমের কাহিনি শুরু।

গেমারকে শুরুতে একটি পুলিশ ডিটেক্টিভ অ্যানড্রয়েড হিসেবে খেলতে হবে। ব্যক্তিত্ব বিকাশ ঘটা একটি বিদ্রোহকারী অ্যানড্রয়েডকে থামানো তাঁর দায়িত্ব। গেমার ঠিক কিভাবে সেটি করবেন তার ওপর নির্ভর করবে সেই অ্যানড্রয়েডটির ভাগ্য, আর সে ঘটনার জেরে পরিবর্তন হবে গেমারের অ্যানড্রয়েডের প্রগ্রামিং। এরপর গেমারকে দেওয়া হবে একটি গৃহস্থালি কাজের অ্যানড্রয়েডের দায়িত্ব, এভাবেই চরিত্র বদলে বদলে এগোতে থাকবে গেমের কাহিনি। পরে অবশ্য তিনটি আলাদা চরিত্রের কাহিনি এক হয়ে যাবে, যেমনটা দেখা গেছে ‘জিটিএ ৫’ গেমের ক্ষেত্রে।

মেন্যু থেকে শুরু করে প্রতিটি অংশে গেমটির অত্যন্ত উচ্চমানের গ্রাফিকস গেমারদের দৃষ্টি কাড়বে। চোখের, মুখের ও শরীরের প্রতিটি অভিব্যক্তি অত্যন্ত বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে গেমটিতে। শুধু গেমারদের হতবাক করে দেওয়ার জন্যই এমন বাস্তব গ্রাফিকস ব্যবহার করেছে কোয়ান্টিক ড্রিম তা নয়; বরং গেমের চরিত্রগুলোর মনের অবস্থা, তাদের কথা সত্য না মিথ্যা—সেগুলো গেমারকে এই অভিব্যক্তি দেখেই বুঝে নিতে হবে। তা না হলে গেমে এগোনোই হবে মুশকিল। এদিক থেকে ডিট্রয়েটের সঙ্গে মিল আছে ‘এলএ নোয়া’র গেমটির।

অবশ্য এরূপ উচ্চমানের গ্রাফিকসের খারাপ দিকও আছে। শুধু যে বেশ শক্তিশালী গ্রাফিকস কার্ড লাগবে গেমটি খেলতে তা-ই নয়, গেমটি পুরোটাই প্রগ্রাম করা হয়েছে ভুলকান সিস্টেমে, ডাইরেক্টএক্স নয়। অতএব পুরনো কিন্তু শক্তিশালী গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহারকারীদের খেয়াল করতে হবে তার কার্ডটি ভুলকান ১.১ সমর্থন করে কি না।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত ৬৪বিট উইন্ডোজ ১০

ইন্টেল কোর আই ৫ কোয়াডকোর অথবা এএমডি রাইজেন ৩ ১২০০ প্রসেসর

৮ গিগাবাইট র‌্যাম

এনভিডিয়া জিটিএক্স ৭৮০ বা রেডিওন ৭৯৫০ জিপিউ

গ্রাফিকস কার্ডে অন্তত ৩ গিগাবাইট ভির‌্যাম থাকতে হবে, লাগবে ভুলকান ১.১ সমর্থন

হার্ড ডিস্কে লাগবে ৬০ গিগাবাইট জায়গা

 

বয়স

১৮+

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা