kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

অনলাইনে ডাব্লিউডাব্লিউডিসি

এবারের অ্যাপলের ডাব্লিউডাব্লিউডিসি ছিল অন্যবারের তুলনায় একেবারেরই আলাদা। করোনার জন্য এবারের আয়োজনটা হয়েছে অনলাইনে। সেখানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে অ্যাপলের নতুন সব প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি নতুন কিছু অ্যাপ্লিকেশনেরও। বিস্তারিত তুসিন আহম্মেদের কাছে

২৮ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনলাইনে ডাব্লিউডাব্লিউডিসি

অ্যাপলের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্সের (ডাব্লিউডাব্লিউডিসি) সম্মেলনে ডেভেলপারদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকেন অনেক সাংবাদিকও। কিন্তু এবার স্টিভ জবস থিয়েটার ছিল একেবারে ফাঁকা। অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাব্লিউডাব্লিউডিসি ২০২০। ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত হওয়া এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে নতুন প্রসেসর, ম্যাকওএস ১৪, ম্যাকওএস বিগ সুর, ওয়াচওএস ৭সহ বেশ কিছু ঘোষণা এসেছে।

 

ইন্টেল বাদ, ম্যাকবুকের জন্য নিজস্ব প্রসেসর আনল অ্যাপল

ইন্টেলের প্রসেসরের সঙ্গে অ্যাপলের দীর্ঘদিনের সম্পর্কোচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক। অ্যাপলের তৈরি কম্পিউটারগুলোতে ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছিল ইন্টেলের প্রসেসর। কিন্তু এবার ডাব্লিউডাব্লিউডিসিতে ইন্টেলকে হতাশ করলেন টিম কুক। জানালেন ‘অ্যাপল সিলিকন’ নামে নতুন প্রসেসরের কথা। ম্যাকবুক, ম্যাক, ম্যাক মিনিসহ অ্যাপলের সব কম্পিউটারে পরবর্তী সংস্করণে ইন্টেলের প্রসেসর আর ব্যবহার করা হবে না।

চলতি বছরের শেষে ম্যাক কম্পিউটারে অ্যাপলের চিপ দেখা যাবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন সব ম্যাক কম্পিউটারই অ্যাপলের চিপসহ বাজারে আসবে। তবে ইন্টেলের প্রসেসরচালিত ম্যাক কম্পিউটারের জন্য সব রকম সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখবে অ্যাপল।

নতুন প্রসেসরে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে শক্তি বা ব্যাটারি খরচও হবে কম। ফলে ব্যবহারকারীরা অধিক সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবে এই প্রসেসরচালিত ডিভাইসে। সেই সঙ্গে গ্রাফিকসের কাজে চমৎকার পারফরম্যান্সও দেবে এই প্রসেসর। প্রসেসরের বাজারে অ্যাপল কিন্তু নতুন হয়। ১০ বছর ধরে আইফোনে নিজস্ব প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার ম্যাকবুকের নিজস্ব প্রসেসর। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে অ্যাপল নিজস্ব ইকো সিস্টেম তৈরির পথেই হাঁটছে।

 

ওয়াচওএস ৭

অ্যাপলের স্মার্ট ঘড়ির নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘ওয়াচওএস ৭’ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। এতে বেশ কিছু নতুন ফিচার আনা হয়েছে। তবে করোনার এই সময় ‘হ্যান্ডওয়াশ’ নামে দারুণ একটি ফিচার আনা হয়েছে ‘ওয়াচওএস ৭’-এ। অ্যাপল ওয়াচ হাতে পরে কোনো ব্যবহারকারী যখন হাত ধুবে তখন ঘড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যান্ডওয়াশ মুডে চলে যাবে এবং ব্যবহারকারীকে সময় দেখাবে যেন ন্যূনতম ২০ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করে। আরো যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নতুন ‘ওয়াচফেস’। ‘ফেস শেয়ার’ নামে নতুন এক ফিচারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পছন্দমতো ওয়াচফেস যেকোনো বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করা যাবে কয়েক ক্লিকে। অ্যাপল ওয়াচ থাকা ম্যাপস অ্যাপেও সাইকেল মুড চালু করা হয়েছে।

ওয়ার্কআউট অ্যাপে ড্যান্স ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অ্যাপল ওয়াচ হাতে পরে কেউ নাচলে ট্র্যাক করতে পারবে অ্যাপ ওয়াচ এবং ব্যবহারকারীকে জানাতে কত ক্যালরি খরচ হয়েছে। অ্যাক্টিভিটি অ্যাপের ইউএক্সে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে আরো বিস্তারিত জানা যাবে বিভিন্ন তথ্য। ঘুমিয়ে গেলে যেন অ্যাপল ওয়াচ অযথা নোটিফিকেশন দিয়ে ডিস্টার্ব না করে যে জন্য ‘উইন্ড ডাউন’ নামে ফিচার এনেছে অ্যাপল। ব্যবহারকারীরা ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করে দিলে এই সময় স্বয়ংক্রিভাবে উইন্ড ডাউন মুডে চলে যাবে অ্যাপল ওয়াচ। ফলে ঘুমানোর সময়ে থাকবে না কোনো নোটিফিকেশনের ঝামেলা।  

 

ম্যাকওএস বিগ সার

প্রতিবারের মতো এবারও ম্যাকওএসের নতুন সংস্করণ আনা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাকওএস বিগ সার’। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পর্যটনপ্রধান জায়গার নাম। প্রতিবার অ্যাপল ম্যাকওএসের নামকরণ কোনো না কোনো জনপ্রিয় স্থানের নামে রাখা হয়। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। নতুন ওএসটির ডিজাইন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো তুলে ধরেন অ্যাপলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রেইগ ফ্রেডরিগে। অ্যাপল দাবি করেছে, ম্যাক ওএস এক্স উন্মোচনের পর থেকে এটি হবে ডিজাইনে সবচেয়ে বড় আপগ্রেড। অ্যাপের আইকনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাইডবার নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে। মেইলে অ্যাপ আপডেট আনা হয়েছে, সেই সঙ্গে ফটো অ্যাপ, ক্যালেন্ডার, মিউজিকসহ সব অ্যাপের বেশ কিছু ছোট ছোট ডিজাইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নোটিফিকেশন সেন্টারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্যানেলে বিভিন্ন আকারের উইজেট যোগ করার সুবিধা যুক্ত হয়েছে। অনেকটা আইওএসের নতুন সংস্করণের মতোই সাজানো হয়েছে ম্যাকওএস।