kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

কীটপতঙ্গের উপদ্রব ঠেকাবে হাইটেক টোটকা

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কীটপতঙ্গের উপদ্রব ঠেকাবে হাইটেক টোটকা

‘স্পটাকো’র দুই উদ্যোক্তা

দিন দিন ওরা বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর তাই ইঁদুর ও ছারপোকাদেরও ছাড় দিল না প্রযুক্তি। জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ 

আয়ারল্যান্ডের উইকলো কাউন্টিতে একটা রেস্তোরাঁ চালান শেইন বোনার। ইঁদুরের যন্ত্রণায় মাঝেমধ্যেই ক্রেতাদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় তাঁকে। আবার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে গেলেও উটকো ঝামেলা। সমস্যা হোক বা না হোক, কীটপতঙ্গ দূরীকরণ প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাঝেমধ্যে এসে রেস্তোরাঁ পরীক্ষা করে যাবেই। এতে অনেক সময় ক্রেতারা মনে করেন, এ রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে বুঝি ইঁদুর-আরশোলার দারুণ উৎপাত। আবার অনেক সময় দেখা যায় ফাঁদে একটা ইঁদুর মরে পড়ে আছে, অথচ সেটার খবর জানা ছিল না কারো। এ কারণে অনেক সময় মামলার মুখেও পড়তে হয় শেইন বোনারের মতো অনেক রেস্তোরাঁ মালিককে। ফলে ব্যবসার ক্ষতি। আর তাই সমাধান হিসেবে সম্প্রতি শেইন বেছে নিয়েছেন প্রযুক্তি। শরণাপন্ন হয়েছেন নতুন একটি প্রতিষ্ঠান ‘পেস্ট পালস’-এর। ফাঁদে ইঁদুর ধরা পড়া মাত্রই ইন্টারনেটে খবর চলে যাবে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা এসে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে বাকি ইঁদুরগুলোকে। আর এ কাজে পেস্ট পালস ব্যবহার করছে প্রেসার সেন্সরযুক্ত ইঁদুরের ফাঁদ।

কীটপতঙ্গ তাড়ানোর বাণিজ্য কিন্তু নেহাত মন্দ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেই এ নিয়ে আছে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য। আর তাই গুগল ও ইবের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে পেস্ট পালস প্রতিষ্ঠা করেছেন টিম ও’টুলি। তিনি বলেন, ‘ইঁদুরসহ আরো পোকামাকড়ের উপদ্রব আগের চেয়ে বেড়েছে। গতানুগতিক পদ্ধতিতে কর্মীদের পরিদর্শনের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচও বেড়ে গেছে। আবার ইদানীং কীটনাশক ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি আছে ঢের। কেবল উপদ্রবের প্রমাণ পাওয়া গেলেই বিষ ব্যবহার করার অনুমতি আছে।’

আর এ কারণেই পেস্ট পালস-এর মতো আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এখন থারমাল ইমাজিং ক্যামেরাও ব্যবহার করছে। যা দিয়ে রাতের অন্ধকারে, দেয়ালের ফাঁক কিংবা কোনো কুঠুরিতে ইঁদুর বা আরশোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না সেটা বোঝা যাবে পরিষ্কার। এমনকি এ প্রযুক্তি দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ইঁদুরদের রেস্তোরাঁর ভেতরে আসার উৎসটাও শনাক্ত করতে পারবেন সহজে। আবার এই থারমাল ইমাজিংয়ে তোলা ছবি ও ভিডিও চলে যায় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে। সেখানে তথ্য বিশ্লেষণ করে বের করা হয় পোকামাকড়ের গতি-প্রকৃতি ও বংশবিস্তারের প্রবাহচিত্র।

ফ্রান্সের পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকারী থমাস বনি বিবিসিকে বলেন, ‘থারমাল ইমেজারের কারণে এখন প্রতি পরিদর্শনে কয়েক ঘণ্টা সময় বেঁচে যাচ্ছে। এখন পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিলে মুহৃর্তের মধ্যে ওদের বসতি শনাক্ত করা যাচ্ছে। পুরো দেয়াল বা সিলিং উপড়ে ফেলার দরকার হচ্ছে না।’

অন্যদিকে ইউরোপের বড় বড় হোটেলগুলোতে এখন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ছারপোকা। গ্রাহকদের মামলা তো আছেই, একবার উপদ্রব ছড়ালে হোটেল মালিকদেরও গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। তাঁদের দুশ্চিন্তা কমাতে অভিনব হাইটেক সমাধান নিয়ে এসেছে ‘স্পটাকো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ইংল্যান্ডের এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে ‘স্পটা পড’। হোটেল কক্ষের তোশক ও বিছানার মূল কাঠামোর মাঝে এটা রাখা হয়। এর ভেতর আছে সিনথেটিক ফেরোমোন নামের একটি রাসায়নিক। ছারপোকাগুলোকে রাসায়নিক সংকেত পাঠায় ওই যন্ত্রটা। যার আকর্ষণে পোকারা দ্রুত ওই পডের ফাঁদে ধরা দিতে থাকে। পরে স্পটার কর্মীরা এসে পোকাভর্তি ফাঁদটা নিয়ে যায়। অর্থাৎ প্রযুক্তির কারণে বদলে যেতে শুরু করেছে আরেকটা বড় বাণিজ্যের রূপরেখা। ওষুধের বদলে এখন প্রযুক্তি দিয়েই দমন করা যাবে এসব ইঁদুর আর পোকামাকড়কে।

মন্তব্য