kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

গেম

সেকেন্ডে জেতা গাড়ির রেসে

এস এম তাহমিদ   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেকেন্ডে জেতা গাড়ির রেসে

এখনকার বাজার কাঁপানো রেসিং গেমগুলোর মধ্যে আছে—‘ফোরজা হরাইজন’, ‘গ্র্যান টুরিজমো’, ‘প্রজেক্ট কারস’, ‘অ্যাসেটো কোরসা’ বা ‘গ্রিড সিরিজ’। গেমগুলো একে অপরের থেকে খুবই আলাদা, আবার ঘুরেফিরে একই রকমও বলা যায়। প্রতিটি গেমেরই মূল উদ্দেশ্য—গেমারকে বাস্তব বা বাস্তবসম্মত রেসিংয়ের স্বাদ দেওয়া।

কিন্তু বিগত দিনগুলোতে ব্যাপারটা এমন ছিল না। আর্কেড ঘরানার রেসিং গেম যেমন ‘বার্নআউট’, ‘ফ্ল্যাটআউট’ বা ‘রিজ রেসার’-এর মতো গেমগুলোই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এমনকি নিড ফর স্পিডও একসময় রেসিং সিমুলেটর নয়, বরং আর্কেড রেসিং গেমের তালিকায়ই পড়ত।

আর্কেড রেসিং ঘরানার সর্বশেষ গেমগুলোর একটি ‘স্প্লিট সেকেন্ড’। কিছুটা ‘বার্নআউট’, কিছুটা ‘রিজ রেসার’ আর অল্প একটু ‘নিড ফর স্পিড’ মিলিয়ে বলা যায় গেমটি তৈরি হয়েছে। নির্মাতা ব্ল্যাক রক স্টুডিও গেমটির মাধ্যমে ‘ডেথ রেস’-এর মতো একটি অ্যাকশন গাড়ি রেসিং টিভি শোতে অংশ নেওয়ার স্বাদ গেমারকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

শুরুতেই গেমারকে দেখানো হবে, পুরো শহর দখল করে নানাবিধ রেসিং ট্র্যাক তৈরি করেছে একটি রিয়ালিটি টিভি শোয়ের নির্মাতা। যদিও শোয়ের মূল বিষয়বস্তু রেসিং, কিন্তু দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য তাঁরা সাধারণ রেসিংয়ের বদলে স্টান্টবাজি আর বিশাল পরিব্যাপ্তির বিস্ফোরণের ব্যবস্থা করেছে প্রতিটি ট্র্যাকে। ফলাফল, রেস যদিও শুরু হবে খুব সাধারণভাবেই, তবে রেসের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে অ্যাকশন সিনেমাকেও হার মানানো সব স্টান্ট সিকুয়েন্স। আর এই রেসের জন্য সর্বশেষ নিয়োগ দেওয়া ড্রাইভারদের একজনকে নিয়েই গেমারের খেলতে হবে।

স্টান্ট সিকুয়েন্স ও বিস্ফোরণের ফাঁদগুলোকে কাজে লাগানোই রেসগুলোতে জেতার একমাত্র উপায়। আর সেগুলোকে গেমে নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাওয়ারপ্লে’। রেস করার সময় গেমার যত বেশি ড্রিফটিং এবং অন্যান্য স্টান্ট করতে পারবেন, ততই তার পাওয়ার মিটার ভরতে থাকবে। সে পাওয়ার মিটার ব্যবহার করে নাগালের মধ্যে থাকা পাওয়ার প্লেগুলো চালু করা যাবে। সেটা অবশ্য ট্র্যাকভেদে অনেক কিছুই হতে পারে। হয়তো গেমার একটি ট্র্যাকে বড় শর্টকাট পাবেন পাওয়ারপ্লে হিসেবে। সেটা ব্যবহার করে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা ফাটিয়ে সামনের বা পেছনের গাড়ি উড়িয়ে দেওয়া যাবে। পাওয়ার মিটার পুরো ভরে গেলে গেমার একসঙ্গে ট্র্যাকের সবগুলো পাওয়ারপ্লে চালু করতে পারবেন। সেটা অবশ্য একটা দেখার মতো জিনিসই বটে। পাওয়ার প্লে ব্যবহার করে ট্র্যাকের বিভিন্ন অংশের রাস্তা বদলেও ফেলা যাবে, অতএব একই ট্র্যাকে বারবার রেস করলেও প্রতিবার পাওয়া যাবে নতুন অভিজ্ঞতা।

গেমটিতে অবশ্য বাস্তব দুনিয়ার কোনো গাড়ি ব্যবহার করা হয়নি। তবে বাস্তব সব নামিদামি গাড়ির সঙ্গে মিল রেখে গেমের গাড়িগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেগুলো চলতেও সক্ষম। উদ্দাম গতিতে ছুটে চলার সবটুকু মজা গেমটিতে শুধু পাওয়াই যাবে তা নয়, খুব কম গেমই এভাবে গতি আর অ্যাকশন তুলে ধরতে পেরেছে।

যাঁরা বার্নআউট খেলেছেন তাঁরা শুধু গেমপ্লে নয়, বরং গ্রাফিকসেও মিল পাবেন। খেলার জন্য দ্রুততার সঙ্গে অবশ্যই হাত চালাতে জানতে হবে। নামের সঙ্গে গেমের কাজেও মিল আছে। কেননা সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্তেই জেতা রেসে হেরেও যেতে পারেন।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩

ইন্টেল পেন্টিয়াম ডি বা এএমডি এথলন ৬৪ এক্স২ প্রসেসর

৩ গিগাবাইট র্যাম

২৫৬ মেগাবাইট এনভিডিয়া জিফোর্স ৭৬০০ অথবা এটিআই রেডিওন এক্স১৬০০ জিপিউ

হার্ডডিস্কে ৭ গিগাবাইট জায়গা।

বয়স

গেমটি কিশোর বয়সীদের জন্য    

মন্তব্য