kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সমস্যা সমাধানে হ্যাকাথন

তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জনগুরুত্ব সমস্যার সমাধান করে জাতীয় হ্যাকাথনে বিজয়ী হয়েছে ১০টি দল। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আয়োজিত হ্যাকাথনটি সম্পর্কে জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন

৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সমস্যা সমাধানে হ্যাকাথন

একসঙ্গে বিজয়ীরা

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে অনেক তরুণই কাজ করছেন। মাথায় আসা অনেক ধরনের ধারণা বা আইডিয়া বাস্তবে রূপ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ তাঁদের অনেকের। এমন ধারণা খুঁজতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস’। যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার দলগুলো অংশ নেয় নিজেদের ধারণা নিয়ে। টানা দুদিনের (২৮-২৯ ফেব্রুয়ারি) ওই আয়োজন থেকে পাওয়া যায় সেরা ১০টি ধারণা।

হ্যাকাথনের সমস্যা সমাধানে অংশগ্রহণকারীদের মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, বিগ ডাটা, ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি), মেশিন লার্নিং এবং রোবটিকসসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়।

 

বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ আয়োজন

সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীন ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প বা আইডিয়া’-এর মাধ্যমে আয়োজিত হয় এই হ্যাকাথন। ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি সহযোগিতা করে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং টেক মাহিন্দ্রা লিমিটেড।   

 

অংশ নিয়েছিলেন যাঁরা

সারা দেশ থেকে আবেদনের পর প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ৩৪৯ আবেদন থেকে প্রায় ১৫০ জন তরুণের মোট ৫১টি দল নিয়ে শুরু হয় ‘ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস’ প্রতিযোগিতা। সেখানে সমস্যা হিসেবে ছিল দেশের ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এসবের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে বলা হয় তাঁদের।

অবশ্য এই চূড়ান্ত আয়োজনের আগে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় হ্যাকাথনের প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন বা অ্যাকটিভেশন প্রগ্রাম। 

৫১টি দল মূল হ্যাকাথনে অংশ নিয়েছে, তাদের মেনটর করেছে ৪০ জন মেনটরের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ দল। হ্যাকাথনে ১০টি চ্যালেঞ্জের জন্য ১০টি বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়। সেখানে ছিলেন ৩০ জন অভিজ্ঞ বিচারক। ধারণাগুলো বাস্তবায়নের নানা দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত হিসেবে ১০ ধারণাকে বেছে নিয়েছেন বিচারকরা।

 

সেরা ১০

টিম সিগনাস : রেল দুর্ঘটনা রোধে ‘ক্যাব সিগন্যালিং’ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন চ্যালেঞ্জে ‘কমিউনিকেশন বেইজড রেল ট্রাফিক কন্ট্রোল উইথ ক্যাব সিগন্যালিং’ প্রকল্প নিয়ে বিজয়ী হয়েছে আমিনুল হক চৌধুরীর ‘টিম সিগনাস’। এতে রেলের সিগন্যালব্যবস্থা পুরোটাই ডিজিটাল হয়ে আসবে। তখন দুর্ঘটনাও কমে যাবে।

টিম অনটন : গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রবর্তন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে নির্বাচিত হয়েছে ‘টিম অনটন’। তাদের প্রকল্পটির নাম ছিল ‘অণ্বেষা’। দলনেতা তাসিন ইশমাম জানান, তাঁরা যে সমস্যাটি নিয়ে কাজ করেছেন সেটিকে আরো যোগ-বিয়োগ করে একটি পরিপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

গ্রিন বিডি : ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’-এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আবির হাসান মুন্না, জান্নাতুল ফেরদৌস তন্বী এবং ইমরান হোসেন ‘গ্রিন বিডি’ প্রকল্পটি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আনবে পরিবর্তন। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবেশদূষণ প্রতিরোধের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে আয়ও করা যাবে। এ জন্য ইমেজ প্রসেসিং, স্মার্ট বিন, রোবটিক হ্যান্ড ব্যবহার করা হবে। আর এ ধারণা দিয়েই বিজয়ী হয়েছে গ্রিন বিডি।

ব্রগ্রামার্স : যথাযথভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে স্মার্ট ওয়্যারহাউস (এলএসডি/সিএসডি/সাইলো) চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়েছে দল ‘ব্রগ্রামার্স’। তাদের প্রকল্প ‘অ্যান আইওটি বেইজড স্মার্ট ওয়্যার হাউস ফর প্রিজার্ভিং গ্রেইনস প্রপার্লি’ খাদ্যশস্য সংরক্ষণে স্মার্ট ওয়্যার হাউস পদ্ধতি ব্যবহার করবে। ফলে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের খাদ্যশস্য পাওয়া সম্ভব হবে।

জ্যান্ডার : নৌ-দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক নৌযান সিগন্যালিং বা ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালুকরণ বিভাগে আবু ইসমাইল সিদ্দিকীর দল ‘জ্যান্ডার’ বিজয়ী হয়েছে। তাদের ‘দ্য কোস্ট গার্ড’ প্রকল্পটি নৌ-দুর্ঘটনা রোধে সিগন্যালিং ব্যবস্থার পরিবর্তন আনবে।

ল্যাম্বডা : অনুমোদিত বিল্ডিং কোড অনুযায়ী স্থাপনা তৈরিতে রিয়েল টাইম ইমারত নির্মাণ মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তন বিভাগে ফাইয়াজ আহমেদের দল ‘ল্যাম্বডা’ বিজয়ী হয়েছে। তাদের ‘পর্যবেক্ষণ’ প্রকল্পটি বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ কাজটি করে থাকবে।

শাউট#২ : পল্লী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মনিটরিংয়ের জন্য একটি কার্যকর টুল তৈরি করে বিজয়ী হয়েছেন মাহির আশরেফের ‘শাউট#২’ দলটি। তাদের প্রকল্পটির নাম ‘ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম’।

ট্রজান : একটি কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ধারণা দিয়ে বিজয়ী হয়েছে আবির হাসান মুন্নার দল ‘ট্রজান’।  

রুয়েট অ্যাবাকাস : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাজহারুল ইসলাম তুষারের নেতৃত্বে দল ‘রুয়েট অ্যাবাকাস’ পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা প্রবর্তন চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়েছে। দলটির ‘অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ প্রকল্পটি সমস্যাগুলোর সমাধান দেবে।

বুয়েট স্ক্যামারস : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ এবং ‘মোটরযান ফিটনেস সনদ’ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বুয়েটের দল ‘বুয়েট স্ক্যামারস’ তাদের ‘ড্রাইভ সেভ লাইভ’ প্রকল্পটি দিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

বৈশ্বিক হওয়ার সুযোগ

তরুণদের কাছ থেকে আসা এই প্রযুক্তিগত সমাধান আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে টেক মাহিন্দ্রার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে। বিজয়ী দলগুলোকে তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘টেক মাহিন্দ্রা লিমিটেড’-এর মেকারস ল্যাবে গবেষণা এবং প্রযুক্তি সহায়তাসহ মেনটরিং ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। আর এ জন্য তাদের যাবতীয় সহযোগিতা করবে আইডিয়া প্রকল্প, স্টার্টআপ বাংলাদেশ, তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ।

 

ছিল নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্যও

►       দেশের ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান প্রদানে তরুণদের আগ্রহী করা এবং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

►       বিশ্বের স্টার্টআপ পরিমণ্ডলের সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।

►       একই দেশে ডিজিটাল স্টার্টআপ ব্যবস্থার বিকাশের সাহায্য করা। উদীয়মান উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সহযোগিতা দেওয়ার একটা পথ বের করা।

►       বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশীয় উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে সহযোগিতাসহ প্রচার ও প্রসারে সার্বিক সহায়তা প্রদান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা