kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

গেম

গবলিন স্টিক্সের ফিরে আসা

এস এম তাহমিদ   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গবলিন স্টিক্সের ফিরে আসা

‘স্প্লিন্টার সেল’ ও ‘প্রিন্স অব পার্সিয়া’ গেম দুটির মিশেল গেম বলা যেতে পারে ‘স্টিক্স : শার্ডস অব ডার্কনেস’কে।

আগের ‘স্টিক্স : মাস্টার অব শ্যাডোজ’ গেমের সিক্যুয়াল এটি। এবারও হিরো গবলিন স্টিক্স আর গেমের মূল লক্ষ্য সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করা। লুকিয়ে থাকার ওপরেই গেমপ্লে পুরোটা নির্ভর, সরাসরি মারামারি বা অ্যাকশনের ওপর নয়।

গেমের মূল ঘটনার শুরু মানুষ ও গবলিনদের মধ্যকার সংঘাতে। গবলিনদের নিকেশ করে দেওয়ার চেষ্টায় মানুষ গঠন করেছে একটি বিশেষ বাহিনী ‘কার্নেজ’। মাত্র একটি গবলিনই আছে বাকি সবার চেয়ে আলাদা, সে ব্যবহার করতে পারে জাদুবিদ্যা, আবার কথাও বলতে পারে মানুষের সঙ্গে। এই গবলিনই স্টিক্স, যার পেশাই বলা যেতে পারে চুরি। বেশ কিছু মানুষ ও গবলিন তাকে এটা-সেটা গোপনে জোগাড় করার মিশন দিয়ে থাকে।

গ্রাফিকসের দিক থেকে গেমটি কার্টুন এবং বাস্তবসম্মত ডিটেইলসের মিশেল। গেমের শত্রুদের বুদ্ধিমত্তাও প্রশংসনীয়। অন্য স্টেলথ গেমে যেখানে গেমার একবার কোথাও লুকিয়ে পড়লে তাকে শত্রুরা কিছুতেই খুঁজে পায় না, সেখানে ‘শার্ডস অব ডার্কনেস’-এ এক ঝলকের জন্যও যদি শত্রুদের চোখে স্টিক্স ধরা পড়ে, তাহলে লুকিয়েও লাভ নেই, তাকে খুঁজে বের করবেই তারা। আর সরাসরি মারামারি করার অপশন ইজি ও মিডিয়ামে থাকলেও হার্ড ও মাস্টার মোডে তার উপায় একেবারেই নেই। এই দুই মোডে স্টিক্সের একমাত্র শক্তি পালিয়ে বেড়ানো, সরাসরি যুদ্ধ করা নয়।

প্রতিটি লেভেলের ডিজাইন বারবারই ‘স্প্লিন্টার সেল’ ও ‘প্রিন্স অব পার্সিয়া’ গেমের কথা মনে করিয়ে দেবে। বিশেষ করে স্টিক্সের সহজেই লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে আর তরতরিয়ে ওয়াল বেয়ে উঠে যাওয়া দেখে একেবারে শুরুতেই প্রিন্সের কথা মনে পড়বে। আবার লুকিয়ে লুকিয়ে শত্রুদের ধরা এবং তাদের দেহ লুকিয়ে রাখার সিস্টেমটি পুরোই স্প্লিন্টার সেলের মতো। স্টিক্স দেয়ালে ঝোলানো মশাল ও টেবিলে রাখা মোমবাতি নিভিয়ে এলাকা অন্ধকার করে লুকিয়ে থাকতে পারবে, বালু ছুড়ে মশাল দূর থেকে নেভাতে পারবে, আবার নিজেকে ক্লোন করেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ সেরে সটকেও পড়তে পারবে।

স্টিক্সের ব্যক্তিত্ব পুরোই ডেডপুলের মতো। সে নিজ থেকেই গেমারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, অদ্ভুত সব কৌতুক করতেই থাকে নিজের চলাফেরার মাঝখানে। এমনকি শত্রুদের সঙ্গেও কৌতুক করা আটকায় না স্টিক্সের। আর যদি স্টিক্স কোনো কারণে মরে যায় তাহলে লোডিং স্ক্রিনে গেমারকে অনবরত গালমন্দ করতে থাকে। গেমপ্লেতে বাড়তি মজা যুক্ত করেছে স্টিক্সের এই কথাবার্তা।

সব মিলিয়ে গেমটি চমৎকার, তবে সেরা নয়। খেলতে খেলতে একটু একঘেয়ে লাগতে পারে, বিশেষ করে শেষের দিকে একই ঘরানার মিশন থাকায় অনেকেই হয়তো গেমটি শেষ নাও করতে চাইতে পারেন। তবে অন্তত একবার গেমটি খেলা উচিত ‘প্রিন্স অব পার্সিয়া’ ভক্তদের।

 

খেলতে যা যা লাগবে

উইন্ডোজ ৭ ৬৪ বিট

ইন্টেল দ্বিতীয় প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই৫ বা এএমডি এফএক্স ৬৩০০ প্রসেসর

৮ গিগাবাইট র‌্যাম

এএমডি রেডিওন আর৭ ২৬০এক্স বা এনভিডিয়া জিটিএক্স ৫৬০ জিপিইউ

১১ গিগাবাইট জায়গা

 

বয়স

১৬+ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা