kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গেম

হারিয়ে যান বুনো পশ্চিমে

এস এম তাহমিদ   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হারিয়ে যান বুনো পশ্চিমে

অবশেষে পিসিতেও হাজির হলো তুমুল জনপ্রিয় গেম ‘রেড ডেড রিডেম্পশন-২’। ওপেন ওয়ার্ল্ড স্যান্ডবক্স ঘরানার অ্যাকশন গেমের জন্য বিখ্যাত নির্মাতা ‘রকস্টার গেমস’-এর তৈরি এই সিরিজের এবারই প্রথম পিসিতে পদার্পণ। তবে কনসোলে এ সিরিজটি পুরো এক দশক ধরেই গেমারদের মন জয় করে আসছে।

গেমটির পটভূমি ১৮৯৯ সাল। যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আইনের শাসনে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। দস্যুদের একে একে ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মূল চরিত্র আর্থার মরগ্যান এবং তার দস্যুদল নিয়েই গেমটির কাহিনি সাজানো হয়েছে। দীর্ঘদিন আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা চুরি, ডাকাতি থেকে শুরু করে ট্রেন দখলের মতো দুঃসাহসিক অপকর্ম করেও পার পেয়ে আসছিল। তবে শেষটায় তারা লঞ্চ ডাকাতি করার সময় ব্ল্যাকওয়াটার শহরে পিংকারটন গোয়েন্দা সংস্থার কবলে পড়ে যায়। কোনো মতে সেখান থেকে দলের বেশির ভাগ সদস্যকে বাঁচিয়ে তারা গাঢাকা দিতে পাড়ি জমায় পাহাড়ে। আর সেখান থেকেই এই গেমের কাহিনির শুরু।

অ্যাকশনধর্মী গেম হলেও, রোল প্লে ও সিমুলেশনের অনেক গেম প্লে আছে এতে। দলের সবাইকে সুস্থ রাখা, ক্যাম্পে যথেষ্ট খাবার, টাকা ও রসদের মজুদ রাখা এবং আর্থারকে সুস্থ রাখা গেমের বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে আছে আর্থারের ঘোড়া ও অস্ত্রপাতিরও রক্ষণাবেক্ষণ। সব কিছু ঠিকঠাক রেখে তবেই গেমের মূল কাহিনির মিশনে এগোনো যাবে। তবে গেম প্লেতে এসব ছোটখাটো খুঁটিনাটি দেওয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গেমের দুনিয়াটা যাতে খুবই বাস্তব মনে হয়, আর সে হিসেবে রকস্টার প্রচণ্ডভাবে উতরে গেছে। অত্যন্ত বাস্তসম্মত গ্রাফিকস, ফিজিকস গেমটিতে অন্য রকম বাস্তবতার ছোঁয়া দিয়েছে। এর সঙ্গে আছে নন-প্লেয়ার চরিত্রদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের ছোটখাটো কাজ করে দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ বা এখানে-সেখানে কাজ করে বাড়তি টাকা রোজগারের উপায়। সোজা কথা, মিশন থেকে মিশনে লাফিয়ে দ্রুত গেমটি শেষ করার উপায় নেই। বাস্তব দুনিয়ার মতো এখানেও সমাজ মেনে চলতে হবে, অন্যান্য মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে।

শিকার গেমটির অন্যতম অংশ। মাংস ও চামড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সে জন্য ধৈর্য ধরে শিকার করা ছাড়া উপায় নেই। প্রাণী খুঁজে বের করে গুলি করলেই হবে না, চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য জায়গামতো তীর ছুড়ে তবেই সঠিকভাবে শিকার করা যাবে। টোপ ফেলে, পায়ের ছাপ ধরে ট্র্যাকিং বা অনুসরণ করে, তবেই গেমটিতে ভালো মানের শিকার পাওয়া যাবে।

অনেক গেমেই ঘোড়াকে যান্ত্রিক বাহনের মতো ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া থাকে, তবে রেড ডেড রিডেম্পশন-২ তার ব্যতিক্রম। ঘোড়ার প্রাণশক্তি, সহ্যক্ষমতা ও গেমারের সঙ্গে সদ্ভাব—সব কিছুর ওপরই নির্ভর করবে সেটি কত দূর দৌড়াতে পারবে, কত ভার বহন করবে বা গেমারের কথা শুনবে কি না! ঘোড়াকে নিয়মিত খাওয়ানো, নিরাপদে রাখা এবং পরিষ্কার না করালে সেটি একসময় মারাও যেতে পারে। গেমে অন্যদের ঘোড়া চুরি করাও যাবে; কিন্তু গেমার নিজের আস্তাবলে রাখতে পারবে সর্বোচ্চ পাঁচটি।

অস্ত্রশস্ত্রের অভাব নেই গেমটিতে। সেগুলো কেনার জন্য আছে দোকান, আবার অস্ত্র সার্ভিসিং করাও গেমের অন্যতম অংশ। আর্থার চাইলে সময় মন্থর করে আরো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারবে, সেটিকে বলা হচ্ছে ‘ডেড আই টাইম’। ‘ম্যাক্স পেইন’ গেমের সঙ্গে এই গেমের গোলাগুলোর মিল আছে, আবার মিল আছে ‘জিটিএ’ সিরিজের গেমের সঙ্গেও।

গেমের কাহিনি চমকপ্রদ, তবে এর চেয়েও তাক লাগিয়ে দেওয়া তার অত্যন্ত ডিটেইলসে ভরা দুনিয়া। সিংগল প্লেয়ার খেলার পর অনলাইলে ঝাঁপিয়ে পড়তে এক মুহূর্তও দেরি করতে মন চাইবে না।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ৭ ৬৪ বিট, ইন্টেল কোর আই৫ বা সমমানের এএমডি প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, এনভিডিয়া জিটিএক্স ৭৭০ বা রেডিওন আর৯ ২৮০ জিপিউ, হার্ডডিস্কে ১৫০ গিগাবাইট খালি জায়গা

 

বয়স

১৮+

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা