kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

অধিকারের কথা বলে ভোর

সমাজের অসংগতি, অন্যায়, অনিয়ম, প্রথাগত কুসংস্কার তুলে ধরে সেসবের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অবস্থান গড়ে তোলার কাজ করে থাকে ফেসবুক গ্রুপ ‘ভয়েস অব রাইট’ [ভোর]। জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অধিকারের কথা বলে ভোর

রাজবাড়ীর পরিত্যক্ত একটি পুরনো কবর। একদিন দেখা গেল সেই কবরের ওপর লাল গালিচা। লোকের কানাকানি, মুখে মুখে গুঞ্জন। কে বা কারা করল এসব। হঠাৎ দেখা গেল, একদল লোক সেই কবরটি কোনো পীরের দাবি করে মাজার ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। কবরের ছবি ও তথ্য ‘ভয়েস অব রাইট’ গ্রুপের পেজে প্রকাশ করেন এক সদস্য। পোস্ট দেখে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার স্থানীয় থানায় ফোন করে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পুলিশ গিয়ে বন্ধ করে ভণ্ডপীরের মাজার। শুধু তা-ই নয়, তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য গ্রুপটির সদস্যদের ধন্যবাদও জানান পুলিশ সুপার।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে মেয়েদের ইভ টিজিং করত বখাটের দল। এই তথ্য ও ছবি গ্রুপে পোস্ট করে একজন। জানতে পেরে স্থানীয় থানার ওসির নেতৃত্বে আইনের আওতায় আনা হয় বখাটেদের। সেই তথ্য ও ছবি শেয়ার করা হয় গ্রুপটির পেজে। গাজীপুরে একটি বহুতল ভবনের ভুল কাঠামোর ছবি গ্রুপে প্রকাশ করে একজন। জানতে পেরে ভবনটাই গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এ রকম বহু ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ‘ভয়েস অব রাইটস’ ফেসবুক গ্রুপ [ভোর]।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রিফাত হাসান ও আদনান রহমান চালু করেন এই পেজ (https://www.facebook.com/groups/voiceofrigthts/)। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন রিফাত ও আদনান। তখন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার নেশা। ভাবলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে কিভাবে সবাইকে একত্র করে দেশ ও দশের কাজ করা যায়। সে লক্ষ্যেই ‘ভয়েস অব রাইটস’ গ্রুপ চালু করেন তাঁরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আগ্রহী অন্যদের যুক্ত করেন গ্রুপে। এখন গ্রুপটির সদস্য প্রায় পাঁচ লাখ। এর মধ্যে সারা দেশের প্রায় ৩০০ সদস্য আছেন, যাঁরা নিয়মিতই গ্রুপটিতে সময় দেন। বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। রিফাত হাসান বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি চেষ্টা করি, তাহলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। এখন জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। সমস্যাটা যদি তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়, তবে সমাধানও আসবে। সে উদ্যোগ থেকেই ভয়েস অব রাইটস।’

ফেসবুকে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ঈদে গরিব-দুঃখীদের নতুন জামা দেওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি সমস্যা নিয়েও কাজ করে গ্রুপটি। রিফাত বলেন, ‘আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে চাই। যেখানে মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারের কথা বলবে। এখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক রাজনীতিবিদও যুক্ত আছেন। সমস্যাটি তাঁদের কাছে পৌঁছলে সেটির একটা ফলাফল মানুষ পাবেই। আমাদের চাওয়া—দেশের সব তরুণ গ্রুপটিতে যুক্ত হয়ে নিজেদের অধিকারের কথা বলুক। এর মধ্য দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।’

এটা থেকে তাঁদের প্রাপ্তি কী জানতে চাইলে রিফাত বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। খাগড়াছড়িতে ঘুরতে গিয়ে সেখানকার এক টমটমচালক আমাদের চিনতে পারেন। তিনি খুবই খুশি হন আমাদের দেখে। জানান, ভোর গ্রুপটিতে নিয়মিত ঢু মারেন তিনি। গ্রুপটির কর্মকাণ্ড খুবই ভালো লাগে তাঁর। এটাই হচ্ছে আমাদের পাওয়া।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা