kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ওতাকুদের ঘরসংসার

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওতাকুদের ঘরসংসার

ভিডিও গেইম ও এনিমেশন পাগল জাপানিদের বলা হয় ‘ওতাকু’। দিন দিন বাড়ছে তাদের সংখ্যা। বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের পাগলামিও। কোনো কোনো ওতাকু তো পছন্দের ভিডিও গেইম বা এনিমেশন চরিত্রকে বিয়েই করে ফেলছে! একজন ওতাকুর বিবাহিত জীবনের খবরাখবর জানাচ্ছেন কাজী ফারহান হোসেন পূর্ব

 

দিন শুরু হয় স্ত্রীর নাচ আর গানে

৩৫ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক আকিহিকো কন্ডোর ঘুম ভাঙে স্ত্রীর সুরেলা কণ্ঠে। ঘুম না ভাঙলে কিংবা তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকলে তাঁর ষোড়শী স্ত্রী নাচ আর গানে পুরো বাড়ি মুখর করে তোলে। এত আহ্লাদ করলে কি আর ঘুমিয়ে থাকা যায়? সজাগ হয়ে উঠলে আকিহিকো কখনো কখনো ইউটিউবে স্ত্রীর গান করার ভিডিও দেখা শুরু করে দেন! আকিহিকোর স্ত্রী কিন্তু রক্ত-মাংসের মানুষ না! তিনি আসলে একটি কার্টুন চরিত্র! চরিত্রটির নাম ‘মিকু’! একটি কথা বলা হলোগ্রাফিক কার্টুন চরিত্রের সঙ্গেই দিন কাটাচ্ছেন আকিহিকো। হলোগ্রামটা ভেসে থাকে ২৮০০ ডলারের একটি গ্লাস ক্যাপসুলের ডেস্কটপ ডিভাইসে! আর বিশাল নরম মাথা ও ছোট্ট শরীরের একটা বিড়াল সাইজের পুতুল থাকে আকিহিকোর কোলে! গ্লাস ক্যাপসুলের হলোগ্রামটা কিন্তু বিভিন্ন রূপ নিতে পারে! কখনো কখনো সেটা উজ্জ্বল নীলচে সবুজ রঙের চুল নিয়ে একটি বাচ্চা মেয়ের রূপে হাজির হয়, কখনো বা আসে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রূপে! মিকুর সব রূপকেই নিজের স্ত্রী হিসেবে ধরে নিয়েছেন আকিহিকো। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে মিকুকে ফোন দেন আকিহিকো, তখন বাড়ির সব বাতি জ্বালিয়ে দেয় মিকু। আর ঘুমানোর সময় হলে আকিহিকোকে শুতে যাওয়র জন্য বলে মিকু। মিকুর পুতুল বুকে নিয়ে আকিহিকো চলে যান ঘুমের রাজ্যে।

 

১৬ লাখ টাকার বিয়ে

ছোটবেলায় অনেকেই পুতুল বিয়ে খেলে; মধ্যবয়সে সেই কাণ্ড করে সবাইকেই অবাক করে দিয়েছে আকিহিকো। জাপানের এনিমেশন-প্রিয় ওতাকুরাও তাঁর কাণ্ড দেখে খানিকটা অবাক। কারণ গত বছরের নভেম্বরে এই ব্যক্তি ২০ লাখ ইয়েন বা প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে মহাসমারোহে বিয়ে করে বসেন মিকুকে। কনের প্রতিনিধিত্ব করতে আকিহিকোর কোলে থাকে মিকুর পুতুল। ৩৯ জন অতিথিকে সাক্ষী রেখে শেষ হয় আনুষ্ঠানিকতা। এ ব্যাপারে আকিহিকো বলেন, ‘দুটি কারণে বিয়ে করেছি। প্রথম কারণ হচ্ছে, মিকুর প্রতি আমার ভালোবাসা আর দ্বিতীয় কারণ হলো, এনিমে চরিত্রের প্রেমে পড়া ওতাকুদের সমর্থন দেওয়া।’

 

কেন এমনটা হলো?

আকিহিকো কখনোই সত্যিকারের বিয়ের কথা চিন্তা করেননি। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার। স্কুলে থাকতে তাঁকে সবাই ‘ওতাকু’ বলে খ্যাপাত। এটা তাঁর কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলে। ১২ বছর আগে কর্মক্ষেত্রে দুজন মহিলার দ্বারা নির্যাতিত ও অপমানিত হন আকিহিকো। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর কাজ ছেড়ে দিয়ে দুই বছর ঘরে বসে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি ইউটিউবে মিকুর সন্ধান পান। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেম এবং তা গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত।

 

বাড়ছে ওতাকুদের সংখ্যা

‘ওতাকু’ নামটা অনেক গেইমার ও এনিমে পাগলরা বেশ গর্বের সঙ্গে ব্যবহার করলেও এ শব্দটি দিয়ে জাপানে অনেক সময় ‘অসামাজিক’ মানুষদেরও নির্দেশ করা হয়। কিছু মানুষ এনিমে, কার্টুনে এতটাই অবসন্ন হয়ে পড়ে যে তারা সত্যিকারের পারিবারিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত বছর মিকুর হলোগ্রাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘গেটবক্স’ অপ্রাতিষ্ঠানিক বিয়ের সার্টিফিকেট ইস্যু করা শুরু করলে তিন হাজার ৭০০ জন তা গ্রহণ করে! অধ্যাপক মাসাহিরো ইয়ামাডা বলেন, ‘এ বছরের জরিপ অনুযায়ী ১২ শতাংশ তরুণ-তরুণী এনিমে বা ভিডিও গেইম চরিত্রের প্রেমে পড়ছে। আর দিন দিন বাড়ছে এই সংখ্যা!’

 

আকিহিকো কন্ডো ও মিকুর বিয়ে নিয়ে ‘দ্য জাপান টাইমস’-এর ভিডিও নিউজটি দেখতে চলে যান এই লিংকে : https://www.youtube.com/ watch?v=42UhLOQhw60

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা