kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পজিটিভ বাংলাদেশের খোঁজে

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পজিটিভ বাংলাদেশের খোঁজে

বিশ্বের ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে লড়ে ‘পিয়ার টু পিয়ার : ফেইসবুক গ্লোবাল ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ স্প্রিং ২০১৯’ জিতেছে ‘পজিটিভ বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক ঘটনা তুলে ধরে তরুণদের সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহিত করে এই উদ্যোগ। বিস্তারিত তুসিন আহম্মেদের কাছে

 

‘পজিটিভ বাংলাদেশ’ আসলে একটি যাত্রার গল্প। টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক বিকেলের আড্ডায় শুরু হয়ে যে গল্প আজ ইউরোপ ঘুরে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। শুরু করেছেন চারজন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তওসীফ তানজীম আহমেদ, সওসান সুহা আমিন, সামিন ইয়াসার ও রোবটিকস ডিপার্টমেন্টের তাসিন জুলকারনাইন।

তাসিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো—নেতিবাচক বিষয়গুলোর বেশি চর্চা। যেকোনো ইস্যুতেই এই দেশে একটা নেতিবাচক ধারণা কোনো না কোনোভাবে চলেই আসে। কারা ছড়ায় এসব নেতিবাচক ধারণা? আর কেনই বা এ দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় অংশ বলে খ্যাত তরুণ প্রজন্ম পা ফেলে এসব ফাঁদে? শুরু হলো এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা। সেই চিন্তা থেকেই আসলে ‘পজিটিভ বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু।’

সওসান সুহা আমিন বলেন, ‘পজিটিভ বাংলাদেশ বিশ্বাস করে—আমরা যে যা পারি, যার যে ক্ষেত্রে প্রতিভা রয়েছে, তাদের সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিতে পারলেই আসলে নেতিবাচকতার চর্চা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

 

কিভাবে কাজ করে পজিটিভ বাংলাদেশ?

পজিটিভ বাংলাদেশ একটি সামাজিক স্টার্টআপ, যা তরুণদের সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত করে। সমাজ থেকে অসহিষ্ণুতা দূর করে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করে।

পজিটিভ বাংলাদেশের মূল কথাটাও খুব সহজ—‘ইতিবাচকতার বিকাশ ঘটাও’। 

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, শিক্ষার অভাব, ব্যক্তিজীবনের হতাশা, কী কী কারণে আমাদের এই সম্ভাবনাময় প্রজন্মের মধ্যে এত নেতিবাচক মনোভাবের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে? বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কাজে নেমে পড়েন চারজন। এরই মধ্যে দলে যুক্ত হন নতুন দুই সদস্য আদিব রেজা এবং বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাইফ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে মানুষটি ব্যস্ত তাঁর নিজের প্রিয় কাজে, নিজের প্রতিভায় শাণ দেওয়াতে, মননশীলতার বিকাশ ঘটানোয়, সেই ব্যক্তিটি নেতিবাচকতার চর্চায় তেমন একটা আগ্রহী নন। তাই পজিটিভ বাংলাদেশ কাজ শুরু করে সঠিক লোকের কাছে সঠিক তথ্যটি পৌঁছে দেওয়ার। যে ছেলেটি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আর সঠিক তথ্যের অভাবে প্রিয় কাজটি করে উঠতে পারছে না, তার কাছে সেই তথ্যটি পৌঁছে দেওয়াই পজিটিভ বাংলাদেশের কাজ। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সম্মেলন ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হলো পজিটিভ বাংলাদেশের কার্যক্রম।

পজিটিভ বাংলাদেশের ওয়েবসাইট wearepositivebangladesh.org-এর মাধ্যমেই বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন ইভেন্টের খোঁজখবর সরবরাহ করা হয়। এই ওয়েবসাইটে তরুণের জন্য বেশ কিছু কনটেন্ট রয়েছে, সেগুলো তরুণদের মনে দেশ সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তাধারা তৈরিতে সাহায্য করবে। ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেসটি বেশ ছিমছাম। এতে প্রবেশ করলে প্রথমে এক মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চোখে পড়বে। সেখানে পজিটিভ বাংলাদেশ কী এবং কেন তা এনিমেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়েবসাইটে থাকা ‘opportunity hub’ অপশনে ক্লিক করলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কনফারেন্স, ইভেন্ট, সেমিনার, কমিউনিটি গ্রুপ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যাবে। ‘video’ অপশনে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে রয়েছে ভিডিও। ‘comics’ মেন্যুতে গেলে মজাদার সব কমিক চরিত্রের মাধ্যমে পজিটিভ বাংলাদেশের খবর পাওয়া যাবে।

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল ও ইনস্টাগ্রাম।

অনলাইনে বিভিন্ন ইতিবাচক গল্প, খবর ও কমিক প্রচারের পাশাপাশি অফলাইন কার্যক্রমও রয়েছে।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি ‘ওয়েজ টু এনগেইজ’ আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের নানা রকম সৃষ্টিশীল এবং ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করতে এই প্রচারণা চালিয়ে থাকে পজিটিভ বাংলাদেশ। এই আয়োজনের পরবর্তী ধাপ ‘ইন্সপায়ার ডু এনগেইজ’-এ যোগ দেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা। আপাতত এর অনলাইন কার্যক্রম হিসেবে চলছে ‘হানড্রেড ডেইজ অব পজিটিভিটি’। দেশের নানা আশা জাগানিয়া খবর নিয়ে পজিটিভ বাংলাদেশের গল্পমালা আয়োজন করা হয়ে থাকে।

আছে অ্যাপও

‘পজিটিভ বাংলাদেশ’-এর একটি অ্যাপও রয়েছে। অ্যাপটির নাম ‘middle ground’। সাদামাটা ইউজার ইন্টারফেসের অ্যাপটিতে শান্তি সমপর্কে বিভিন্ন ধর্মের অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। অ্যাপটিতে বাংলাদেশের চারটি প্রধান ধর্মের মূল কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সব ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, সহনশীলতা, সহানুভূতি ও সহাবস্থানকে উৎসাহ দেওয়া এই অ্যাপের লক্ষ্য। এ বিষয় তুলে ধরাই অ্যাপটির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক : https://urlzs.com/veE28

 

কিছু অর্জন

অল্প সময়ের এই পথচলায় অর্জন বলতে ইউএনডিপি ও আইসিটি ডিভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জে’ ফার্স্ট রানার-আপ এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ‘পিয়ার টু পিয়ার ফেইসবুকে গ্লোবাল ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ স্প্রিং ২০১৯’-এ বিশ্বের ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হয়ে পুরস্কার হিসেবে তাঁরা পেয়েছেন পাঁচ হাজার ইউএস ডলার।

সম্প্রতি ছোট এই দলটিতে আরো যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মোহাম্মদ সিফাত, অর্থনীতি বিভাগের মাহদী হাসান সরদার এবং উন্নয়ন অধ্যয়নের আশিক সুফি ইসলাম।

 

ভবিষৎ পরিকল্পনা

গল্পটা মাত্র শুরু হলো। সামনে আরো অনেক পথ। পজিটিভিটি বা ইতিবাচকের ধারণা নিয়ে এই দলটি নিজেদের যাত্রাপথে যোগ করতে চায় আরো অনেক অসাধারণ ঘটনা এবং সমাজের বদলে দেওয়া সব চরিত্র। গল্পের শেষ পাতাটা সেদিনই লেখা হবে, যেদিন অফলাইন বা অনলাইন কোথাও বিন্দুমাত্র নেতিবাচক ধারণার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাবে না আর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা