kalerkantho

মানবমস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মেলবন্ধন

দুই বছর আগে ‘নিউরালিংক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শুরু করেছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। এটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ ঘটানো। সেই প্রযুক্তির একটি নুমনা কিছুদিন আগে উপস্থাপন করেন ইলন। কত দূর সেই কাজের অগ্রগতি? জানা যাবে কাজী ফারহান হোসেন পূর্বের কাছে

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবমস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মেলবন্ধন

কম্পিউটার, স্মার্টফোনের সঙ্গে আমাদের যে সামান্যতম দূরত্ব আছে, তা ঘুচিয়ে দেওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞই হচ্ছে ‘নিউরালিংক’। ইলন মাস্কের টেসলা মোটর, স্পেসেক্স এবং বোরিং কম্পানির সঙ্গে তুলনায় নিউরালিংক একটু কম পরিচিতই বটে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি বানর এরই মধ্যে নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে! তবে নিউরালিংক আপাতত মনোযোগ দিচ্ছে মস্তিষ্কের এবং স্পাইনাল কর্ডের আঘাতজনিত কারণে অসুস্থ ব্যক্তিদের সাহায্যে। স্পাইনাল কর্ড আঘাতজনিত কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়াই এটির প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কিন্তু আরো উচ্চাভিলাষী। মস্তিষ্ক আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ তৈরি করতে চায় নিউরালিংক। ইলন বলেন, ‘নিউরালিংক কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে শুধু চিন্তা করেই মিনিটে ৪০টি শব্দ টাইপ করতে পারবে কোনো মানুষ। নিউরালিংক মানবমস্তিষ্কে এই প্রযুক্তি স্থাপনকে নিরাপদ এবং চোখে ল্যাসিক সার্জারির মতো ব্যথাহীন করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

 

সুতা ও রোবট

‘সাল্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ’-এর অধ্যাপক টেরি সেজনোস্কি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘নিউরালিংকে এক ধরনের স্থিতিস্থাপক সুতার ব্যবহার করা হয়েছে, যা কিনা অনেক বেশি নিরাপদ। এ ছাড়া এগুলো আরো বেশি তথ্য স্থানান্তরে সক্ষম। নিউরালিংক সিস্টেমে প্রতিটি সজ্জায় তিন হাজার ৭২টি ইলেকট্রোড থাকে মোট ৯৬টি সুতায়। এ সুতাগুলো কিন্তু মোটেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সুতার মতো নয়। বরং এগুলোর ব্যাস চার থেকে ছয় মাইক্রোমিটার, যা চুলের চেয়েও অনেক বেশি সূক্ষ্ম। এরপর আসে সুতা স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত মেশিনের কথা। এটি সুতাগুলোকে খুব সূক্ষ্মভাবে মস্তিষ্কে বসিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে মাথার খুলিতে একটা সূক্ষ্ম ছিদ্র করে এ কাজ করার কথা থাকলেও তারা চান লেজার বিমের সাহায্য নিতে। নিউরালিংক বিজ্ঞানী ফিলিপ সাবেসের মতে মস্তিষ্কে স্থাপিত ইলেকট্রোডগুলো শুধু নিউরন থেকে তথ্য নিয়েই খালাস হবে না। বরং ভবিষ্যতে মস্তিষ্কে ভুলে যাওয়া স্পর্শানুভূতি বা দর্শনানুভূতি ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করবে।

তবে ইলন মাস্কের মতে, এখনই মানুষ মস্তিষ্কে নিউরালিংক লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবে না। এটি যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ মানবমস্তিষ্কে ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিটির যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে মানুষের ওপর প্রথম নিউরালিংক স্থাপনের ছক এখনই আঁটা হয়ে গেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী কম্পানিটি আগামী বছরের প্রথমার্ধে একজন মানুষের মস্তিষ্কে প্রযুক্তিটি স্থাপন করতে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা