kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

আকাশ এলো ঘরে

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আকাশ এলো ঘরে

নামি ব্র্যান্ডের হালনাগাদ প্রযুক্তির টেলিভিশন কিনেও মেলে না ঝকঝকে ছবি। শব্দের মানেও হয় তারতম্য। ঘরে বসে নিখুঁত পর্দায় টিভি দেখার সুযোগ মেলে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) প্রযুক্তিতে। দেশে প্রথম এই প্রযুক্তি চালু করেছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। নাম দিয়েছে ‘আকাশ’। জানাচ্ছেন ইশতিয়াক মাহমুদ

 

নামি কেবল অপারেটরের কাছ থেকে সংযোগ নিয়েও তার, কানেক্টর এবং অ্যামপ্লিফায়ারের মানের কারণে বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলের ছবি ও শব্দ হয় নিম্নমানের। সমস্যা সমাধানে চ্যানেল বক্সসহ সেট টপ বক্স সেবাও ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু তারের সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলেই মনভরে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা আর হয়ে ওঠে না। গতানুগতিক কেবল সংযোগের পরিবর্তে সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শতাধিক চ্যানেল দেখার সুযোগ মিলে থাকে ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে। বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েক বছর আগেই চালু হলেও এখন দেশেও মিলছে এ সেবা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে ডিটিএইচ সেবা পরিচালনা করছে ‘আকাশ’।

 

কারিগরি দিক

বর্তমানে আমরা যে টিভি চ্যানেলগুলো দেখি, সেগুলো সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্যাটেলাইটের সহায়তায় সম্প্রচার করে। যেমন—স্টার নেটওয়ার্ক তার চ্যানেলগুলো (স্টার প্লাস, স্টার ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি) একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করে। অন্যদিকে জি এন্টারটেইনমেন্ট নিজেদের চ্যানেলগুলো (যেমন—জি টিভি, জি সিনেমা ইত্যাদি) অন্য কোনো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করে। অর্থাৎ এখন আমরা যে টিভি চ্যানেলগুলো দেখি, সেগুলো একাধিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়, যা পরে ডাউনলিংক করে কেবলের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। কিন্তু কেবল তারের ত্রুটির কারণে ভালো মানের ভিডিও ও শব্দ অনেক গ্রাহক পান না। আবার নির্ধারিত ক্ষমতার বেশি গ্রাহকসংখ্যার কারণেও ছবি ও শব্দের মানের তারতম্য ঘটে বেশ। অন্যদিকে চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে আইনি ও কারিগরি অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে তাদের সিগন্যাল সরাসরি ডাউনলিংক করেন ডিটিএইচ অপারেটরা। পরে নিজেদের আর্থ স্টেশনে বসানো বেশ কয়েকটি ডিশ অ্যান্টেনা দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সিগন্যাল একত্র করে একটি স্যাটেলাইটে ট্রান্সমিট করেন। এরপর গ্রাহকদের কাছে থাকা আকারে ছোট ডিশগুলো সেই সিগন্যাল গ্রহণ করে টিভির সঙ্গে যুক্ত সেট টপ বক্সে পাঠায়। এতে তারের কোনো সম্পর্ক না থাকায় ঝড়-বৃষ্টিতেও ছবির মান থাকে অটুট আর গ্রাহকরাও পান উচ্চমানের সেবা।

 

যেসব সুবিধা মিলবে

বিশ্বব্যাপী পে-টিভি শিল্পে ডিটিএইচ একটি উচ্চতর প্রযুক্তি। বাংলাদেশি দর্শকদের প্রয়োজন মেটাতে দেশি-বিদেশি জনপ্রিয় চ্যানেল সম্প্রচারের বড় সংগ্রহ নিয়ে এসেছে আকাশ। বাংলাদেশে টিভি দেখার স্বাদ ও অভিজ্ঞতা বদলে দেবে এ প্রযুক্তি। বর্তমানে আকাশ শুধু টিভি চ্যানেলের সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে ভিডিও অন ডিমান্ড, পে পার ভিউ, রেডিও চ্যানেলের মতো সেবারও যোগ হবে। এ জন্য শিগগিরই যোগ করা হবে অনুষ্ঠান রেকর্ডিং, লাইভ টিভি পজসহ (স্থির করা) নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান রেকর্ডিংয়ের সুবিধা। বর্তমানে একটি ডিশে একটি সেট টপ বক্স যুক্ত করা গেলেও আগামী দিনে বেশ কয়েকটি সেট টপ বক্স যুক্ত করার সেবা চালু হবে। এমনকি একটি আইডি ব্যবহার করেই টেলিভিশনের পাশাপাশি ট্যাবলেট কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনেও অনুষ্ঠান দেখা যাবে। সেবাটির উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের হেড অব টেকনোলজি আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘এইচডি মানের ছবি ও শব্দ নিশ্চিত করবে আকাশ ডিটিএইচ। সাত দিন পর্যন্ত প্রগ্রাম গাইড কাজে লাগিয়ে গ্রাহকরা তাঁর কাঙ্ক্ষিত চ্যানেলগুলোতে কখন কী অনুষ্ঠান হবে, আগে থেকেই জানার সুযোগ পাবেন। প্রিয় চ্যানেলগুলোর তালিকা তৈরি করার পাশাপাশি প্রগ্রাম রিমাইন্ডার ফিচারসহ পেরেন্টাল কন্ট্রোল ফিচারও ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে চ্যানেলসংখ্যা ১১৫ হলেও চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া গ্রাহকের মতামতও বিচেনায় নেওয়া হবে। আকাশের তালিকায় আরো চ্যানেল যোগ করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় প্রায় সব চ্যানেল দেখা গেলেও আকাশসেবার মূল্য রাখা হয়েছে কিন্তু ৩৯৯ টাকাই, যার মধ্যে মূল্য সংযোজন করও (ভ্যাট) রয়েছে। বাজার প্রতিযোগিতার বিষয়টি মাথায় রেখেই যৌক্তিক সেবামূল্য নির্ধারণ করেছি। ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি আকর্ষণীয় সেবা আনব। সে ক্ষেত্রে প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে একেক গ্রাহকের জন্য সেবামূল্য একেক রকম হতে পারে।’

 

কোথায় পাওয়া যাবে

১৯ মে থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সুনামগঞ্জে কার্যক্রম চালু করেছে ‘আকাশ’। শিগগিরই দেশের অন্যান্য জেলায়ও পাওয়া যাবে এই সেবা।

 

সেবা নেওয়ার উপায়

গতানুগতিক অ্যানালগ কেবল সংযোগ বদলে ডিটিএইচ সেবা ব্যবহারে ঝক্কি নেই বললেই চলে। সেবাবদলের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ানেরও দরকার হবে না। আগ্রহী গ্রাহকরা পুরনো অ্যানালগ কেবল সংযোগ বাতিল করে ‘আকাশ’ অনুমোদিত যেকোনো দোকান থেকে ডিটিএইচ সেবাটির পুরো সরঞ্জাম কিনলেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাদের ঠিকানায় পৌঁছে যাবেন আকাশের পেশাদার সংযোগদাতারা। প্রয়োজনীয় কারিগরি দিক নিশ্চিত করে এইচডিএমআই বা এভি কেবলের মাধ্যমে সেট টপ বক্সের সঙ্গে টিভির সংযোগ দেবেন তাঁরা। ফলে চাইলে টিভিতে একই সঙ্গে অ্যানালগ কেবল ও ডিটিএইচ সংযোগ উভয়ই ব্যবহার করা যাবে। তবে আকাশ থেকে গ্রাহকরা যে সেবা পাবেন, এতে কেবল সংযোগের কোনো প্রয়োজন নেই বললেই চলে।

আকাশ ডিটিএইচ সেবা ব্যবহারে এককালীন সংযোগ খরচ ছয় হাজার ৪৯৯ টাকা। সংযোগসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—অত্যাধুনিক এইচডি সেট টপ বক্স, রিমোট কন্ট্রোল, তাপ ও বৃষ্টি প্রতিরোধী ইউনিভার্সাল কেইউ ব্র্যান্ড ডিশ এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ। সীমিত সময়ের জন্য বিনা মূল্যে ইনস্টলেশন এবং এক মাসের সাবস্ক্রিপশনও পাওয়া যাবে।

 

মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি

গ্রাহকদের নির্দিষ্ট মেয়াদে তাঁর কাঙ্ক্ষিত সেবাগুলো উপভোগের সুযোগ দিতে মূলত সিএএস (কন্ডিশনাল অ্যাকসেস সিস্টেম) ও এসএমবিএস (সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিলিং সিস্টেম) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় ডিটিএইচ প্রযুক্তি সেবায়। আর তাই গতানুগতিক কেবল অপারেটরদের মতো ঘরে এসে বিল নেবেন না ‘আকাশ’-এর প্রতিনিধিরা। তবে ঘরে বসেই মোবাইল ফোন থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। অর্থ লেনদেন সেবা ‘বিকাশ’ এবং ‘আইপে’র মাধ্যমে প্রতি মাসে রিচার্জ করা যাবে। চাইলে একসঙ্গে একাধিক মাসের রিচার্জও করা যাবে। একসঙ্গে ছয় মাস রিচার্জ করলে এক মাস এবং এক বছরের রিচার্জ করলে দুই মাস বিনা মূল্যে সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ মিলবে।

 

যদি সমস্যা হয়

সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাহকরা আকাশের কল সেন্টার ১৬৪৪২/০৯৬০৯৯৯৯০০০ নম্বরে কল করতে পারবেন, যা সপ্তাহের যেকোনো দিন যেকোনো সময় খোলা থাকে। www.akashdth.com ওয়েবসাইট বা [email protected] ই-মেইলের মাধ্যমেও গ্রাহক তাঁর প্রশ্ন বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

মন্তব্য