kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ঘরে বসেই ট্রায়াল দিন

দোকানে না গিয়েও পাওয়া যাবে আপনার মাপমতো পোশাক। কিভাবে? জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরে বসেই ট্রায়াল দিন

মিটেইলের দশটি সেন্সরের যন্ত্রটি শরীরের বিভিন্ন অংশের মাপ নিতে পারে

পোশাক কেনা দরকার। কিন্তু ব্যস্ততার জন্য সময় করে উঠতে পারছেন না। কোনো সমস্যা নেই। নিজের ভার্চুয়াল মডেলকে অনলাইনে পোশাক পরিয়ে দেখতে পারেন কেমন দেখাচ্ছে। তারপর অর্ডার করে দিন অনলাইনে। বাসায় চলে আসবে আপনার মাপের পোশাক। আর এসবের পেছনে আছে প্রযুক্তি কেরামতি! 

এটা তো জানা কথা, অনলাইন হোক বা অফলাইন, জামা-কাপড় কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কী পরিমাণ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। অফলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শোরুমে গিয়ে একটি পোশাক পছন্দ করতে হয়, এরপর নির্ধারিত ছোট্ট কক্ষে গিয়ে সেই জামা গায়ে জড়িয়ে দেখতে হয় সব ঠিকঠাক আচ্ছে কি না। আর অনলাইনে কেনা তো অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো। বাসায় পৌঁছানোর পর জামাটি গায়ে হবে কি না সেটিও জানা যায় না। এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে অনলাইনে বিক্রি হওয়া জামা-কাপড়ের ৫০ শতাংশের বেশি ফেরত আসে। অনলাইনে কেনা জামা-কাপড় ফেরত আসার এই পরিমাণকে কমিয়ে আনতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তাই অনলাইনে জামা-কাপড় কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করতে তাই মানুষের শরীরের থ্রিডি মডেল তৈরি করার ওপর কাজ করছে কয়েকটি কম্পানি।

 

‘জুজু’র ‘ডটেড’ পোশাক

যেভাবে তৈরি হবে থ্রিডি মডেল

মানব শরীরের থ্রিডি মডেল তৈরি করার জন্য বর্তমানে দুটি প্রক্রিয়া রয়েছে। একটি হচ্ছে কেমব্রিজভিত্তিক কম্পানি মিটেইলের সেন্সর প্রক্রিয়া। তারা ১০টি সেন্সরের সমন্বয়ে একটি যন্ত্র তৈরি করেছে, যেখানে কেউ প্রবেশ করা মাত্র সেন্সরগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশের মাপ নেওয়া শুরু করে। এরপর সেসব মাপের সমন্বয়ে শরীরের একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করে। এই মডেলের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে জামা জড়িয়ে দেখা যাবে কেমন ফিট হলো।

থ্রিডি মডেলিংয়ের আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে জাপানের অনলাইন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান জুজু। তারা ক্রেতার কাছে একটি আঁটসাঁট ‘ডটেড’ পোশাক পাঠিয়ে দেয়। যেটি গায়ে জড়িয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে মোবাইলে ছবি ধারণ করলে মোবাইল সেসব ডট ম্যাপিং করে শরীরের একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করে। এরপর ওই থ্রিডি মডেলে অনলাইনের পোশাকগুলো জড়িয়ে দেখা যায় কেমন ফিট হচ্ছে। অনেকটা এনিমেশন সিনেমায় ব্যবহৃত থ্রিডি মডেলিং পদ্ধতির মতো। তবে এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে প্রথম পদ্ধতিটি তুলনামূলক বেশি কার্যকর।

 

কেন প্রয়োজন এমন মডেল?

কেনাকাটার জন্য মানুষ যত অনলাইনের দিকে ঝুঁকছে তত প্রয়োজন পড়ছে একটি অনলাইন ট্রায়ালিং সিস্টেমের। কারণ সাইজের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী অনলাইন কেনাকাটার একটি বড় অংশ ফেরত আসে। বিশেষ করে নারীদের জিন্সের ক্ষেত্রে ৭০-৮০ শতাংশ সময়ই সঠিক সাইজের না হওয়ার কারণে ফেরত আসে এবং বদল করে দিতে হয়। এ ধরনের থ্রিডি মডেলকে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা গেলে এই ফেরত দেওয়ার হার  বেশির ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা

এ ধরনের প্রযুক্তি এখনো একেবারেই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের প্রযুক্তিকে জটিল না করে আরো সহজ করতে হবে। ডাটা সায়েন্সকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি মডেল বানাতে হবে যেখানে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ মাপ যেমন লম্বা, বুকের মাপ, কোমরের মাপসহ অন্যান্য মাপ দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মডেল তৈরি হয়ে যাবে। মিটেইলের প্রতিষ্ঠাতা টম আদিওলা মনে করেন, এমনটি করা সম্ভব হলে বড় অংশের মানুষকে থ্রিডি মডেল তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা যাবে। শুধু তা-ই নয়, এসব ৯২-৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকরও হবে। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে খুব একটা উৎসাহ বোধ করছে না। কারণ তারা মনে করে এতে ‘ডিজিটাল ট্রায়াল’-এর পরিমাণ বাড়বে এবং মানুষ দ্বিধান্বিত হয়ে যাবে। তবে অনলাইনে বুটিক ব্যবসাকে জনপ্রিয় করতে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা