kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রিন্ট হলো সেনা ব্যারাক!

মাত্র ৪০ ঘণ্টায় ৫০০ বর্গফুটের একটি ব্যারাক তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সাধারণত এটি তৈরি করতে ১০ সৈনিকের পাঁচ দিন লাগত। আর এটা সম্ভব হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় থ্রিডি প্রিন্টারের জন্য। জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিন্ট হলো সেনা ব্যারাক!

আগামী প্রজন্মের প্রযুক্তি হিসেবে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের সম্ভাবনার কথা না বলেই নয়। ১৯৮০ সাল থেকেই ধীর উন্নয়নের পথে আছে থ্রিডি প্রিন্টার প্রযুক্তি। প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। এত দিন ছোটখাটো বস্তু বানানোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে। এমনকি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দালান নির্মাণেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে অনেক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এই প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন এক মাত্রা এনেছে। তারা ব্যারাকের একটি অংশ নির্মাণ করেছে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে তারা নিজেরাই তৈরি করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় থ্রিডি প্রিন্টার।

৫০০ বর্গফুটের ওই ব্যারাকটি নির্মাণ করতে লেগেছে শুধু ৪০ ঘণ্টা। সাধারণত কাঠ দিয়ে এমন একটি ব্যারাকাংশ নির্মাণ করতে ১০ জন মেরিন সেনার পাঁচ দিন সময় লেগে যায়। সেই হিসেবে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। প্রকল্পটি ‘মেরিন কর্পস সিস্টেমস কমান্ড (এমসিএসসি)’ এবং ‘আই মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সে’র পারস্পরিক সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়।

পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয় থ্রিডি মডেলিংয়ের মাধ্যমে। কম্পিউটার মডেল থেকে একটি ছোট আকারের থ্রিডি মডেল বানিয়ে এরপর মূল নির্মাণকাজে যাওয়া হয়। এ ধরনের দালান নির্মাণের জন্য একটি বড় আকারের থ্রিডি প্রিন্টার নির্মাণ করা হয়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে একটি পাইপের মাধ্যমে কংক্রিট ঢেলে দেওয়া হয় থ্রিডি প্রিন্টারে করা ছাঁচে। থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে তৈরি করা হয় দরজা-জানালা।

পুরো প্রক্রিয়াটির গতি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে যদি কংক্রিট তৈরির প্রক্রিয়াকেও স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি কংক্রিট তৈরি প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা যায় তাহলে এক দিনের মধ্যেই এমন স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সেনা ব্যারাক নির্মাণে মাঝেমধ্যে জটিল নকশা নিয়ে কাজ করতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে সেনাদের ব্যবহার করার ঝুঁকিও থাকে বেশ। তাই থ্রিডি প্রক্রিয়ায় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব হলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

থ্রিডি প্রযুক্তিতে দালান নির্মাণের প্রধান সুবিধা হচ্ছে নির্মাণকাজের যে বিশাল ঝুঁকি রয়েছে তা এড়ানো যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্মাণপ্রক্রিয়া জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। সেই সঙ্গে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের নির্মাণে ডিজাইনারদের স্বাধীনতা রয়েছে। বস্তুত যেকোনো ধরনের নকশায়ই বাস্তব রূপ দিতে পারবে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি। আর একই সঙ্গে নির্মাণ খরচও কমে আসবে বেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা