kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে

কমোডর এম এন আবছার (অব.)

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে

আজ বিশ্ব আবাসন বা বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার সারা দেশে এই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৮৫ সালে এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। বিশ্বজুড়ে সব মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থানের নিশ্চয়তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৮৬ সাল থেকে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

এ বছরও অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এই দিবস পালিত হচ্ছে।

‘আশ্রয় আমার অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৯৮৬ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথম বিশ্ব বসতি দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৩৬টি প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ বছর তুরস্কের বালিকেসিরে ‘বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার করি, সবার জন্য টেকসই নগর গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের লক্ষ্য হলো

‘Triple ‘C’ Crises : Covid-19, Climate Change, Conflict’ -এর কারণে নগরায়ণের বৈষম্য ও ভঙ্গুরতা চিহ্নিত করে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ।

২০২২ সালের তিনটি অগ্রাধিকারের প্রথমটি হলো সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ। দ্বিতীয় অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জলবায়ু সমাধানে অবদানকারী হিসেবে শহরগুলোর মূল ভূমিকাকে তুলে ধরা এবং ২০২২-২৩-এর তৃতীয় অগ্রাধিকার হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়করণ। আমাদের সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ১৮(ক) উপ-অনুচ্ছেদেও নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার কথা উল্লেখ আছে।

নগরায়ণ আজকের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত। শহরগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের কেন্দ্রস্থল। এ ক্ষেত্রে পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসুবিধা নানা প্রতিবন্ধকতার মূল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১৬ সালে নতুন আরবান এজেন্ডা গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে জাতীয় ও পৌর সরকারগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-১১  (SDG-11) অর্জনের জন্য একটি রূপান্তরমূলক পথে যাত্রা শুরু করেছে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে একটি। কক্সবাজার শহরে বিশ্ব বসতি দিবসের লক্ষ্যগুলো সফলভাবে পূরণ করার বিভিন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় শহর হিসেবে কক্সবাজারের কিছু ভিন্ন মাত্রা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে আছে শহরটি। অন্যদিকে কক্সবাজারে প্রায় ১.২০ মিলিয়ন রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ায় এখানকার জনসংখ্যার ঘনত্ব জাতীয় গড়ের প্রায় তিন-চার গুণ। এ কারণে এখানে বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিত আবাসন গড়ে উঠেছে এবং এগুলো বৈষম্য ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমে বড় ধরনের একটি চাপ সৃষ্টি করছে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলোর মধ্যে একটি। তাই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার এবং স্থানীয় উপায়গুলো যাচাই করার মাধ্যমে এ অঞ্চল কার্যকরভাবে জলবায়ু সমাধানে অবদান রাখতে পারে। শহরটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়করণের অবদান রাখার সম্ভাবনা রাখে। টেকসই পদ্ধতিতে সুনীল অর্থনীতি, মৎস্য ও ইকোট্যুরিজম খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব। এ বিষয়ে কক্সবাজার স্থানীয় সরকার, বিশেষ করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্দেশ্য পূরণ এবং সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলার সম্ভাব্য সমাধান বের করা এবং এসডিজি আরো স্থানীয়করণ করা সম্ভব।

 লেখক : চেয়ারম্যান, কক্সবাজার

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

 



সাতদিনের সেরা