kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

আন্তর্জাতিক আদালত কি রোহিঙ্গাদের স্বপ্নপূরণের সারথি হতে পারবে

মো. জাকির হোসেন

৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আন্তর্জাতিক আদালত কি রোহিঙ্গাদের স্বপ্নপূরণের সারথি হতে পারবে

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় মিয়ানমার যে চারটি আপত্তি তুলেছিল আন্তর্জাতিক আদালত গত ২২ জুলাই তা খারিজ করে দিয়েছেন। এর সোজা মানে হলো, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার বিচার চলবে। মিয়ানমার কি আপত্তি দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক আদালত নাকচ করে দিলেন? গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি মিয়ানমারের আপত্তি ছিল, গাম্বিয়ার এই মামলা করার অধিকার তথা আইনগত যোগ্যতা নেই এবং আন্তর্জাতিক আদালতেরও এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই। মিয়ানমারের আপত্তির পক্ষে যুক্তি ছিল—এক. গাম্বিয়া অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) ছায়া হয়ে মামলা করেছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক আদালতের সংবিধি নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র মামলা করতে পারে, জোট নয়। দুই. এই মামলার ঘটনার সঙ্গে গাম্বিয়ার কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ, কোনোভাবেই গাম্বিয়া নয়। তাই গাম্বিয়া কোনো রকম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ না হয়ে মামলা করার অধিকার রাখে না। তিন. মিয়ানমার ও গাম্বিয়া এই দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকে এই বিষয়ে কোনো বিরোধ ছিল না বলে মামলাটি আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। চার. মিয়ানমার জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনের ৯ অনুচ্ছেদ স্বাক্ষর করেনি বিধায় এই আদালতের মামলা গ্রহণের অধিকার নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গণহত্যা চুক্তির কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা, চুক্তির প্রয়োগ, চুক্তির শর্তপূরণ কিংবা চুক্তির কোনো রাষ্ট্রপক্ষের দায়দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিরোধের যেকোনো রাষ্ট্রপক্ষ তা নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে।

মিয়ানমারের উত্থাপিত চারটি আপত্তির মধ্যে তিনটি আপত্তি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে এবং একটি আপত্তি ১৫-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নাকচ করে দিয়েছেন। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নিযুক্ত অ্যাডহক বিচারক জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি লর পরিচালক অধ্যাপক ক্লস ক্রেস নিজেও অন্য বিচারকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দিয়েছেন। গাম্বিয়া কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র নয় বিধায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা করার অধিকার নেই, মিয়ানমার কর্তৃক উত্থাপিত এই আপত্তি ১৫ জন বিচারক নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই মামলায় গাম্বিয়ার কোনো স্বার্থ জড়িত নেই, এটি সঠিক নয়। গণহত্যা কনভেনশনের সব রাষ্ট্রপক্ষের একটি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এই যে এই কনভেনশনে বর্ণিত বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করার লক্ষ্যে গণহত্যা প্রতিরোধ, দমন ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কনভেনশনভুক্ত রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ করেছে। চীনের নাগরিক বিচারক জুর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। মিয়ানমারের অন্যান্য আপত্তির বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, এই মামলাটি কোনো জোট দায়ের করেনি, গাম্বিয়া নিজের নামেই মামলা করেছে। সেই সঙ্গে মামলা করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা জোটের কাছ থেকে আর্থিক বা রাজনৈতিক সহায়তা নেওয়ার অধিকার গাম্বিয়ার আছে। মিয়ানমার ও গাম্বিয়া এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল না বলে মিয়ানমার যে আপত্তি তুলেছে, তা খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেছেন, গাম্বিয়া ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছে। মিয়ানমারও সেখানে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে। মামলা করার আগে মিয়ানমারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে গণহত্যা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিল গাম্বিয়া। মিয়ানমার তার কোনো জবাব দেয়নি। আন্তর্জাতিক আদালতের এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই বলে মিয়ানমার যে আপত্তি উত্থাপন করেছে, আদালতে তা-ও নাকচ করা হয়েছে। মিয়ানমার ১৯৪৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে এবং নিজের ওপর বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালের ১৪ মার্চ কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। মিয়ানমার গণহত্যা কনভেনশনের ৬ ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ তার ওপর প্রয়োগের বিষয়ে শর্ত সংরক্ষণ করেছে; কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগসংক্রান্ত ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বিষয়ে কোনো শর্ত সংরক্ষণ করেনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক চুক্তির কোনো রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তির কোনো বিধান তার ওপর প্রযোজ্য হবে না কিংবা ভিন্নভাবে প্রযোজ্য হবে মর্মে ঘোষণা দিলে এবং তা গ্রহণযোগ্য হলে তাকে চুক্তিতে শর্ত সংরক্ষণ বলে। আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ বিষয়ে কনভেনশনের ৯ অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে ১৬টি রাষ্ট্র শর্ত সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে ১১টি রাষ্ট্র শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে পাঁচটি রাষ্ট্রের শর্ত সংরক্ষণ বহাল রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশ শর্ত সংরক্ষণ করে বলেছে, বিরোধের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি ছাড়া আন্তর্জাতিক আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগসংক্রান্ত শর্ত সংরক্ষণের তালিকায় মিয়ানমারের নাম নেই।

গত ২২ জুলাই মিয়ানমারের উত্থাপিত সব আপত্তি খারিজ করে রায় দেওয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক আদালত ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মিয়ানমারের ওপর অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত মিয়ানমারের প্রতি চারটি নির্দেশনা দেন—এক. রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে তথা জাতিসংঘ গণহত্যা চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হওয়া ঠেকাতে মিয়ানমারকে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। দুই. মিয়ানমার নিশ্চিত করবে যে তার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট কোনো ধরনের গণহত্যা করবে না বা গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। তিন. গণহত্যা চুক্তির আওতায় বর্ণিত অপরাধগুলোর তথ্য-প্রমাণ বিনষ্ট না করতে এবং সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চার. অন্তর্বর্তী আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী চার মাসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে এবং এই মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর আদালতে অন্তর্বর্তী আদেশ পালন বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বৈশ্বিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ ও সম্প্রতি প্রদত্ত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক সর্বশেষ ঘোষিত রায়ে মিয়ানমার নতুন করে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রোহিঙ্গাদের নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার, নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার এবং জন্মভূমিতে ফিরে গিয়ে নতুন স্বপ্নের জাল বোনার প্রবেশদ্বার আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়।

যেসব কারণে আমি আশাবাদী হয়েছি তা হলো—এক. মিয়ানমার বারবার অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ বলতে কিছু নেই, এরা বাঙালি। গাম্বিয়া গণহত্যা চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে গণহত্যা থেকে রক্ষার জন্য আবেদন করেছে। আন্তর্জাতিক আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন। আর সম্প্রতি দেওয়া রায়ে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দিয়ে গণহত্যা মামলা বিচারের জন্য আমলে নিয়েছেন। তার মানে, গণহত্যা চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গারা সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য জনগোষ্ঠী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গণহত্যা চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো জাতি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায় সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলে স্বীকৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের দুই দফা রায়ে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে রোহিঙ্গারা আদালতের সর্বসম্মত আদেশে মিয়ানমারে বসবাসকারী একটি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়, যারা গণহত্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার দাবিদার।

দুই. আন্তর্জাতিক আদালতের ১৫ জন নিয়মিত বিচারক এবং মামলার দুই পক্ষ গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের নিয়োগকৃত দুজন অ্যাডহক বিচারকসহ মোট ১৭ জন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে চার দফা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার মানে মিয়ানমারের নিয়োগকৃত বিচারকও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে মিয়ানমারের চারটি আপত্তিই নাকচ করে দেওয়া রায়েও মিয়ানমারের নিয়োগকৃত বিচারক অন্য বিচারকদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। কেবল চীনের একজন বিচারক একটি আপত্তি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং মিয়ানমারকে আদালতে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রতিরোধে আদালতের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। মামলার শুনানিতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বলে জানিয়েছিল। মিয়ানমার আরো বলেছিল, রাখাইন রাজ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আদালত তাঁর অন্তর্বর্তী আদেশে বলেছেন, প্রত্যাবাসন ও সুরক্ষায় মিয়ানমারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় এবং মিয়ানমারের এসব আশ্বাস রোহিঙ্গাদের অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় এবং গাম্বিয়ার আবেদন অযৌক্তিক প্রমাণ করতে যথেষ্ট নয়। বিচারের এই ঘটনাপ্রবাহে এটি নির্দেশ করছে যে মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে এবং এর ভিত্তি রয়েছে এমন বিশ্বাস বিচারকদের মনস্তত্ত্বে রয়েছে।

তিন. গণহত্যা কনভেনশনে গণহত্যার দুটি দিক রয়েছে—একটি ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ এবং অন্যটি ‘গণহত্যা সম্পাদন’। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিপ্রায় ও গণহত্যা সম্পাদন উভয় বিষয় প্রমাণের জন্য স্যাটেলাইট, ভিডিও চিত্রসহ যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক ঘটনায় মিয়ানমারের সাবেক সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গ্রাম পোড়ানোর নৃশংসতার স্বীকারোক্তি দিতে শুরু করেছেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রমাণিত হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেবল সময়ের অপেক্ষা। আন্তর্জাতিক আদালত ২২ জুলাই প্রদত্ত রায়ে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে গাম্বিয়া কর্তৃক আনীত অভিযোগের বিষয়ে মিয়ানমারকে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। আশা করা যায়, ২০২৪ সালে এই মামলার রায় হবে। এই মামলায় গাম্বিয়া যেসব প্রতিকার চেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো—গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের একটি উপযুক্ত ট্রাইব্যুনালের সামনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করা, যাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে তাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও মানবাধিকারসহ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা, বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং মিয়ানমারের কাছ থেকে এই আশ্বাস ও গ্যারান্টি নিশ্চিত করা যে তারা গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি করবে না। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক আদালত কী এমন প্রতিকার দিতে পারবেন, যাতে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, মানবাধিকারসহ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়? চোর্য ফ্যাক্টরি মামলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে কোনো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হলে তাকে এমনভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে যে আইন লঙ্ঘন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যে অবস্থায় থাকত সেই অবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে এমন অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে যে অপরাধের সব ফল মুছে যায়। ফসফেটস ইন মরক্কো কেস, কর্ফু চ্যানেল কেস এবং জেনোসাইড কনভেনশন কেসসহ অসংখ্য মামলায় বৈশ্বিক আদালতে এই নীতি উচ্চারিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালত যদি রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে তার আগের নজির অনুসরণ করেন, তাহলে আশা করা যায় বৈশ্বিক আদালত রোহিঙ্গাদের স্বপ্নপূরণের কাঙ্ক্ষিত সারথি হবেন। তবে রায় বাস্তবায়নে নিরাপত্তা পরিষদ উদ্যোগী না হলে কিংবা চীন-রাশিয়ার ভেটো বাধা হলে ভিন্ন কথা।

 

 লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 [email protected]



সাতদিনের সেরা