kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

আগ্নেয়াস্ত্র মার্কিন শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ

অনলাইন থেকে

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগ্নেয়াস্ত্র মার্কিন শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ইউভালডি শহরের একটি বিদ্যালয়ে গুলিবর্ষণে মারা যাওয়া শিশুদের মিষ্টি মুখের অতীত ছবিগুলোর দিকে তাকানো খুব কষ্টকর। শহরটির রব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৯ শিশু শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক হত্যার ঘটনাটি অকল্পনীয় মনে করা মোটেও উচিত নয়। কারণ কানেক্টিকাটের স্যান্ডি হুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ শিশু এবং ছয় কর্মীকে গুলি করে হত্যা করার এক দশক পর এবং নিউ ইয়র্কের বাফেলোর একটি সুপারমার্কেটে বর্ণবাদী আক্রমণ চালিয়ে ১০ কৃষ্ণাঙ্গ ক্রেতাকে হত্যার মাত্র ১০ দিন পর এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।

মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণে বন্দুক বিক্রি বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষের চেয়ে বন্দুক বেশি। তার পরও দেশটিতে বন্দুক বিক্রি বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এই সময়ে সেখানে হত্যাকাণ্ডের হার বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আর আগ্নেয়াস্ত্র হয়ে উঠেছে আমেরিকার শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। গত বছর দেশটির অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী দেড় হাজার শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে বন্দুক।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ শতাংশ মারা গেছে গণগুলিবর্ষণের ঘটনায়। এর মানে ছোটখাটো ঘটনাই প্রচুর ঘটছে এবং বর্ণগত সুবিধাবঞ্চিত এলাকায়ই বেশি ঘটছে। মঙ্গলবারের বিয়োগান্ত ঘটনার মতো বড় ধরনের কিছু না হলে সাধারণত এসব ঘটনার আড়ালে পড়ে থাকে, এমনকি নিহতরা স্কুলবয়সী হলেও। দেখা গেছে, এসব ঘটনা শুধু তাঁরাই বয়ে বেড়ান, যাঁরা ওই সব শিশুকে ভালোবাসতেন এবং তাঁদের কাছে যারা অপূরণীয়।

এই কথা বলার কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে মারণাস্ত্র নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা অপরিহার্য হলেও এ ধরনের উদ্যোগ একেবারেই অপর্যাপ্ত। এ নিয়ে আইন প্রণয়ন করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এখনো বাধার মুখে পড়েন। অনেকে মনে করেছিলেন যে স্যান্ডি হুকের ঘটনা পরিবর্তনের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। স্যান্ডি হুকের শোকাহত মা-বাবার আবেগময় প্রচার-প্রচেষ্টা প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে গণগুলিবর্ষণের জন্য বন্দুক প্রস্তুতকারীকে দায়ী করা হয়েছিল। তারপর খুব একটা কিছু করা হয়নি। পরিবর্তন বলতে বিদ্যালয়গুলোতে গুলিবর্ষণ থেকে বাঁচতে লাখ লাখ শিশুকে মহড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের এই অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়েছে যে তারা যেন সৌভাগ্যবশত কখনো বন্দুকধারীর হামলার মুখে না পড়ে।

ইউভালডির ঘটনার পর গত মঙ্গলবার জো বাইডেন প্রশ্ন করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। এই প্রশ্ন করার কারণ হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠোরভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। অথচ গণগুলিবর্ষণের পর আগ্নেয়াস্ত্র আইনের পক্ষে সমর্থন ঠিকই বৃদ্ধি পায়। টেক্সাসের রিপাবলিকান নেতারা বন্দুক রাখার অধিকার সম্প্রসারণের জন্য নিজেরা গর্ব অনুভব করেন। রিপাবলিকান নেতা রাজ্য গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, রাজ্য সিনেটর টেড ক্রুজ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহান্তে হিউস্টনে ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (এনআরএ) সভায় বক্তব্য দেবেন বলে কথা রয়েছে।

বন্দুক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ এবং আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে ডান দিকে সরিয়ে দেওয়াও আরেকটি সমস্যা। একটি রক্ষণশীল ও বন্দুকের পক্ষে থাকা আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট শিগগির জনসমক্ষে কারা বন্দুক বহন করতে পারবে তা নিয়ে নিউ ইয়র্কের একটি আইনের ওপর রায় দেবেন। রায়টি সম্ভবত অন্যান্য ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

বাইডেন প্রশাসনের স্থানীয় বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচি কাজে লাগছে। এতে প্রচুর পরিমাণে তহবিল জোগানোর বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান শুধু সঠিকই নয়, বরং এ ব্যাপার আরো বেশি কিছু করা উচিত। একই সঙ্গে নারীবিদ্বেষ সমস্যার সমাধান করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বেশির ভাগ গণগুলিবর্ষণকারীর নারীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ এবং পরিবারের নারী সদস্যদের আক্রমণ করার ইতিহাস রয়েছে। এমনকি এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে অনেক নারী তাঁদের সঙ্গীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সহিংসতা থেকে রক্ষা পাওয়া ব্যক্তি এবং শোকাহত পরিবারগুলোর অবিরাম প্রচার মিশনও একটি জাতিকে পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তখন আশাবাদী হওয়া খুব কঠিন। তাই ইউভালডির মতো ঘটনা থেকে শিশুদের কিভাবে বাঁচানো যায় এটাই একমাত্র প্রশ্ন নয়, বরং আরো ব্যাপক আকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ লোকদের রক্ষা করার জন্য কী করা উচিত সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটা ঠিক যে এই মৃত্যুগুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বসহকারে বন্দুক সহিংসতার সমাধান করতে বাধ্য করবে না। তাই এসব মৃত্যু অকল্পনীয় বলার সুযোগ নেই এবং নিষ্ক্রিয়তাই এ জন্য দায়ী।

 

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

(যুক্তরাজ্য), ভাষান্তরিত



সাতদিনের সেরা