kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতার পরাজয়

মো. জাকির হোসেন

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতার পরাজয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিম্নগামী। এ নিয়ে আমরা হা-পিত্যেশ করছি। লেখালেখি হচ্ছে। সেমিনার, টক শো করছি।

বিজ্ঞাপন

তর্ক-বিতর্ক চলছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে নীতি-নৈতিকতা লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অপেক্ষাকৃত কম মনোযোগী। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পত্রিকায় যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির ভয়ংকর চিত্র বেরিয়ে এসেছে। মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিবেদন মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০ খাতে বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে সব কটিকে দুর্নীতি মানতে নারাজ।

যেমন—সরকারের বিভিন্ন অফিসে কর্মরতদের টেলিফোন-মোবাইল-ইন্টারনেট ভাতা দেওয়ার নিয়ম আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে টেলিফোন-মোবাইল-ইন্টারনেট ভাতা দেওয়া হলে তা দুর্নীতি হবে কেন? বিচারক ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি কোষাগার থেকে ল্যাপটপ, ট্যাব, গাড়ি ও গাড়ির জ্বালানিসহ নানা ভাতা ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দেওয়ার বিধান আছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে ল্যাপটপ, ট্যাব, গাড়ি বা গাড়ির জ্বালানি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা—এ সব কোনো কিছু দেওয়ার বিধান নেই। তাহলে শুধু বই ভাতা দেওয়া হলে তা দুর্নীতি হবে কোন যুক্তিতে?

প্রতিবেদনে সিটি করপোরেশনের বাইরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-জনবলকে সিটি করপোরেশনের হিসাবে বাড়িভাড়া প্রদানকে দুর্নীতির খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের বাইরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষক-জনবলকে বাসস্থান দিতে না পারলে তাঁরা যদি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে বাড়িভাড়া করে থাকেন, তাহলে সিটি করপোরেশনের হিসাবে বাড়িভাড়া প্রদান দুর্নীতি কেন হবে? বিশ্ববিদ্যালয় মফস্বলে কিন্তু বাসস্থান তো মফস্বলে নয়। সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে বাড়িভাড়া করার কারণে তাঁদের তো মফস্বল এলাকার চেয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক হারে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে বেশ কিছু খাতে অর্থ ব্যয় অবশ্যই দুর্নীতি। বেতনের বাইরে নানা নামে উপাচার্য হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ইসলামী, খুলনা, শেরেবাংলা কৃষি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি, খুলনা কৃষি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের উপাচার্যরা কেউ বিশেষ ভাতা, কেউ বা দায়িত্ব ভাতার নামে বেতনের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে অর্থ নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপাচার্যদের নিয়োগপত্র দেখেছি। নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী বেতনের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে অর্থ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। বাংলো থাকার পরও কিংবা বাংলোতে বসবাস সত্ত্বেও উপাচার্যকে বাড়িভাড়া দেওয়া হয় চট্টগ্রাম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশ, ইউজিসির উল্লিখিত অনুসন্ধানে গংখং অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি বেরিয়ে এসেছে। এর বাইরে নিয়োগ, নির্মাণ, সংস্কারসহ আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম আছে। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন আয় বাজেটে দেখানো হয় না। এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় এবং টেন্ডার ছাড়া কেনাকাটা এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুৎপাদনশীল ব্যয়ের বড় একটি খাত হচ্ছে ঢাকায় রেস্টহাউস বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন। উপাচার্যরা ঢাকার বাইরে না যাওয়ার লক্ষ্যে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এগুলো স্থাপন করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির ক্ষেত্রে এক শ্রেণির ভিসি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ রয়েছে যে উপাচার্যরা এতটাই বেপরোয়া যে তাঁদের সরকার স্পর্শ করতে পারবে না এমন কথাও প্রকাশ্যে বলে থাকেন।

শুধু আর্থিক দুর্নীতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতা দীনহীন হচ্ছে এমনটি নয়। হামেশাই যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ক্লাস না নেওয়া এখন আর অন্যায় হিসেবে পরিগণিত হয় না। ক্লাস না নেওয়া কিংবা নামমাত্র ক্লাস নেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা দিন দিন এমনভাবে বেড়ে চলেছে যে এটি ক্রমেই সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এটি আর এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সিরিয়াস কোনো বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। বরং ক্লাস না নেওয়া কিংবা সারা বছরে কয়েকবার মাত্র ক্লাসে যাওয়া শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছেন। আমাদের নৈতিকতার অনুভূতিগুলো যে অকেজো-অচল হয়ে পড়ছে এটি তারই ইঙ্গিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতি-নৈতিকতা সাধারণভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার দুটি উদাহরণ দিচ্ছি। কভিড মহামারির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা চালু হলেও আমাদের বিরাজমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন শিক্ষা খুব কার্যকর ছিল তা বলার সুযোগ নেই। যাই হোক, মহামারির অভিশাপ কাটিয়ে সরাসরি ক্লাস-পরীক্ষা চালুর নির্দেশনা জারি হলো, সরাসরি ক্লাস-পরীক্ষা শুরুও হলো। কিন্তু কিছু শিক্ষক কিছুদিন সরাসরি ক্লাস নিয়ে নির্দেশনা অমান্য করে অনলাইন ক্লাস শুরু করলেন। ফলে যেসব শিক্ষক আইন মেনে সরাসরি ক্লাস চালিয়ে যেতে চাইলেন, তাঁদের ক্লাস শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ল। তার মানে, আইন মান্যতার চেয়ে অমান্যতা গ্রহণযোগ্য হলো। এটা অনেকটা অর্থনীতিতে গ্রেশামের ‘খারাপ টাকা ভালো টাকাকে বাজার থেকে হটিয়ে দেয়’ নীতির মতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে দেখি অন্যায়-অনিয়ম-অনাচারের বিরুদ্ধে যৌবনের দ্রোহ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে হার মানছে। আরেকটি উদাহরণ দিই, কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্য শিক্ষকের ক্রমাগত সম্মানহানি করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন। বিষয়টি শিক্ষকদের সভায় একাধিকবার উত্থাপিতও হয়েছে। এর পরও কিছু শিক্ষক বিদ্বেষের কারণে কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের অনুসারী। ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’—এই নীতিকথা এখন নির্বাসিত। তার মানে, শিক্ষায় অন্যায় কাজকে যেমন শিক্ষার্থীরা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তেমনি অপরাধী শিক্ষকের সহযোগী হয়ে যাচ্ছেন এক দল শিক্ষক। আইন না মানা কিংবা অপরাধপ্রবণতার প্রতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঝুঁকে পড়ার এই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতার কতটুকু সর্বনাশ হয়েছে তা জানান দিচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চাশে বাংলাদেশ : অতীত-বর্তমান এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তৃতায় খ্যাতনামা লেখক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শিক্ষাব্যবস্থার দীনতা ও দুর্বলতা নিয়ে বেশ কিছু সত্য কথা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবাজির কথা বলেছেন। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য পদের জন্য শিক্ষকদের মধ্যে যে দলাদলি আছে, তা-ও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু দলাদলি নয়, দলের ভেতরে উপদল আছে। আরো বলেছেন, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ক্ষমতাসীন দলের পাল্লা ভারী। ব্যতিক্রম ছাড়া শিক্ষক সমিতির নির্বাচনেও তাঁরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত হয়ে আসেন। এর পরও দলাদলি, দলবাজি ও দালালি বন্ধ হয় না বলে উল্লেখ করেছেন। কে কাকে কিভাবে ল্যাং মারবেন, সেই চেষ্টায় থাকেন। অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের বর্ণনা হিমশৈলীর চূড়া মাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞানার্জনের প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সত্যিকার মানুষ গড়ার কারখানাও বটে। মানুষের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় এমন মানুষ তৈরি করবে, যাদের জ্ঞান-দক্ষতার পাশাপাশি থাকবে নীতি, আদর্শ, দেশপ্রেম, মানবতা, রুচি, মূল্যবোধসহ অন্য গুণাবলি। আর তা করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তথা মানুষ গড়ার কারিগরদের হতে হবে নীতি-আদর্শের দিক দিয়ে একেকজন অনুকরণীয় মানুষ। আর বাস্তবে কী দেখছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি-অপরাধের বিস্তর অভিযোগ উঠছে। তাহলে এই শিক্ষকরা আদর্শ মানুষ তৈরি করবেন কিভাবে? বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষ দেখতে চায় নীতি-নৈতিকতার অফুরন্ত উৎস হিসেবে। সমাজ থেকে অন্যায়-দুর্নীতির অন্ধকার দূরীভূত করার বাতিঘর হিসেবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই হয়ে পড়ছে দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচারের আখড়া। আর এভাবেই নীতি-নৈতিকতা ক্রমেই ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে।

কেন এমন হচ্ছে? উত্তরণের উপায় কী? বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌম ক্ষমতা বোঝাতে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নারীকে পুরুষ আর পুরুষকে নারী বানানো ব্যতীত সবই করতে পারে। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে ’৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্বারা পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যরা এতটাই ক্ষমতাধর যে তাঁদের ক্ষমতাও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মতো। আইনে যা-ই থাকুক, বাস্তবে স্বায়ত্তশাসনের নামে আসলে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও তাঁদের পারিষদবর্গের শাসন চলে। নিয়োগ পাওয়ার পর উপাচার্য মহোদয় প্রথমেই খুঁজে বের করেন এমন সব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে যাঁরা তাঁর সব কাজে শতভাগ আনুগত্য প্রদর্শন করবেন। এরপর তিনি এই অনুগতদের বিভিন্ন পদে বসান। পরিবর্তন আনেন বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডে, তাতেও নিজের পছন্দের লোকদের নিযুক্ত করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি সিন্ডিকেট, সিনেটসহ সব পর্ষদে শতভাগ অনুগত লোকদের নিযুক্ত করেন। বিভিন্ন পর্ষদে রাষ্ট্রপতির কোটায় মনোনয়নের জন্য যাঁদের তালিকা পাঠানো হয় তাঁরাও উপাচার্যের একান্ত পছন্দের ব্যক্তি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও তাঁদের পারিষদবর্গের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অঙ্গুলি হেলনে। আর এভাবেই তৈরি হয় জবাবদিহিহীন ভয়ংকর এক পরিবেশ।

এমন পরিবেশেই তো দুর্নীতির বিষবৃক্ষ পত্রপল্লবে সুশোভিত হয়ে প্রচণ্ড রূপ ধারণ করে। এমন বৈরী পরিবেশে নীতি-নৈতিকতা শ্রীহীন হয়ে পড়ে। দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম, অনাচার, অনৈতিকতা সংক্রামক ব্যাধির মতো। দ্রুত প্রতিরোধ করা না গেলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। কোনো কোনো উপাচার্য মূল্যবোধের এত নিচে নেমে যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম মানদণ্ড এমনভাবে ধ্বংস করে ফেলছেন যে পরবর্তী উপাচার্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা ভয়ানক কঠিন হয়ে পড়বে। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কারা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগ পাচ্ছেন সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহির পর্ষদগুলো যাতে শতভাগ অনুগত তেলবাজদের দ্বারা পূর্ণ না হয় সে ব্যবস্থা করাও জরুরি।

আশার কথা, এখনো বেশির ভাগ শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন। অনেকেই সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করছেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সততা ও নৈতিকতাকে দৃঢ়তার সঙ্গে ধরে রেখেছেন। স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক এখনো সাহস করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন। সংখ্যায় অতি অল্প হলেও কয়েকজন উপাচার্য স্রোতের বিপরীতে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অভিভাবকের সংখ্যা যত বাড়বে নীতি-নৈতিকতার ভিত্তিও তত শক্ত হবে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 



সাতদিনের সেরা